কুষ্টিয়ায় হামলার প্রতিবাদ
ঢাকায় গণঅধিকার পরিষদের মশাল মিছিল

কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর জামায়াতে ইসলামীর হামলার অভিযোগের প্রতিবাদে রাজধানীতে মশাল মিছিল করেছে গণঅধিকার পরিষদ। ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর জামায়াতে ইসলামীর হামলার অভিযোগ তুলেছে গণঅধিকার পরিষদ। এর প্রতিবাদে রাজধানীতে মশাল মিছিল করেছে তারা। এ সময় হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন দলটির নেতারা। একই সঙ্গে জামায়াত-শিবির তাদের কথিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখলে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টায় বিজয়নগরে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয় মিছিলটি। পরে পল্টন ও জাতীয় প্রেস ক্লাব ঘুরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয় কর্মসূচি।
সমাবেশে গণঅধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন জানান, কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আমির হামজার গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে দেওয়া ‘কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের’ প্রতিবাদে কুষ্টিয়া শহরে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর দেশীয় রামদা নিয়ে জামায়াত-শিবিরের লোকজন হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হাসান আল মামুনের দাবি, হামলায় গণঅধিকার পরিষদের ৪০ থেকে ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের একজনের পায়ের গোড়ালি কেটে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তার দাবি, ‘অনতিবিলম্বে জামায়াতে ইসলামীর সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও হামলার বিচার চায় গণঅধিকার পরিষদ। জামায়াত-শিবির যদি তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখে, গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা তাদের প্রতিহত করবে। পাশাপাশি আমির হামজা যে ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন, তিনি যদি তার অশোভন বক্তব্য প্রত্যাহার এবং এ ধরনের বক্তব্য বন্ধ না করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে গণঅধিকার পরিষদ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে আজ ভারতে পলাতক। জামায়াতে ইসলামী যদি তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ না করে, তাদেরও পালিয়ে যেতে হবে পাকিস্তানে।’
দলের মুখপাত্র আবু হানিফের অভিযোগ, কুষ্টিয়ায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল করছিলেন গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। এ সময় আমির হামজার গাড়ি থেকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জামায়াতের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায় এবং গণঅধিকার পরিষদের এক নেতার পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়।
আবু হানিফ বলেন, ‘জামায়াত-শিবিরের রগ কাটার ইতিহাস পুরোনো। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর কুষ্টিয়ায় আজকের ঘটনা প্রমাণ করে, জামায়াত-শিবিরের রগ কাটার ইতিহাস আবার ফিরে এসেছে। জামায়াতের প্রতি আহ্বান, কুষ্টিয়ায় যেসব সন্ত্রাসী আজ হামলা করেছে, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিন।’
আমির হামজার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন সময় পাগলের মতো কথাবার্তা বলেন আমির হামজা। তার মতো মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষ কীভাবে এমপি হন, এটা বোধগম্য নয়। জামায়াতের উচিত আমির হামজাকে আগে পাবনা পাঠিয়ে তার মানসিক চিকিৎসা করানো।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য রবিউল হাসান, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাজমুল হাসান, যুব অধিকার পরিষদের সাবেক সভাপতি মনজুর মোর্শেদ মামুন এবং গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য ফাতেমা রেসা।







