তথ্য উপদেষ্টা বললেন, আমাদের শান্তিতে থাকতে দেবেন না শেখ হাসিনা

তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে। ছবি: আগামীর সময়
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারকে বিপাকে ফেলতে নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাবেন, এমনটাই মনে করছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। আর তা ঠেকাতে সরকারও সজাগ বলে জানিয়েছেন তিনি।
মজুরি বাড়ানোর দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন এবং তার পেছনে আওয়ামী লীগের ইন্ধনের আলোচনার মধ্যে মঙ্গলবার ঢাকায় সচিবালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে কথা বলেন জাহেদ উর রহমান।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার আগের এক বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বললেন, ‘১৯৯১ সালের সংসদে প্রথম দিনে তিনি বলেছিলেন, সরকারকে এক দিনও শান্তিতে থাকতে দেবেন না।
‘উনি তখন এখনকার চেয়ে কম দানব ছিলেন। আর এখন তিনি আমাদের শান্তিতে থাকতে দেবেন, উনি সেটা দেবেন না বলে আমরা বিশ্বাস করি। উনি সে চেষ্টা করবেন। আমরা এটাকে প্রতিহত করব।’
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে ফেরত পেতে সরকার সক্রিয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
তিনি বললেন, ‘উনাকে আমরা আনতে চাই। উনাকে ভারতের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আমরা আনতে চাই। সে প্রক্রিয়ার জন্য যা যা দরকার, তা আমরা করব।’
তবে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ভারত থেকে ফেরার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তার পথ তৈরির সঙ্গে চলমান পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভের সম্পর্ক নেই বলে মনে করেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বললেন, ‘এর সঙ্গে ডিসেম্বরের কোনো সম্পৃক্ততা আছে, তা আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ পলিটিক্যাল পার্টি হিসেবে কোনো কিছু করতে পারবে বলে আমরা বিশ্বাস করি না। কিন্তু তার মানে এই না যে ডিসেম্বরে তার ফেরার পথ তৈরি করার জন্য এটা করা হচ্ছে, তা আমরা মনে করি না।’
তবে নাশকতার চেষ্টা আওয়ামী লীগ করতে পারে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
‘তাদের কাছে লুটের টাকা-পয়সা আছে প্রচুর, তারা নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বলেছেন, তার সঙ্গে এটা লিংকড থাকতে পারে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এরই মধ্যে বলেছেন, পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের পেছনে আওয়ামী লীগের ইন্ধন রয়েছে।
পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়টি তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেছেন, এখন ‘সত্যিকারের’ শ্রমিকরা রাজপথ থেকে সরে আসবে বলে মনে করেন তিনি।
‘প্রথমে কিছু সত্যিকারের শ্রমিক নেমেছেন। তবে তাদের ভেতরে থেকে কেউ নাশকতার চেষ্টা করছে। মজুরি বোর্ড যেহেতু হয়েছে, তাদের সত্যিকারের শ্রমিকরা সরকারের পদক্ষেপকে সম্মান জানিয়ে আন্দোলন থেকে সরে আসবে।’



