দুই দশক পর পৈতৃক ভিটায় যাচ্ছেন তারেক রহমান
বগুড়াকে সিটি করপোরেশন হিসেবে ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী

বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
দীর্ঘ দুই দশক পর সোমবার পৈতৃক ভিটা বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধান হওয়ার পর এটিই হবে তার প্রথম নিজ জেলা সফর।
সফরকালে বগুড়াকে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়াও থাকবে আরও বেশ কিছু রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রচারণায় বগুড়ায় গেলেও ব্যস্ততার কারণে তখন পৈতৃক ভিটা বাগবাড়িতে যেতে পারেননি তারেক রহমান। এর আগে, ২০০৬ সালে মা খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় পৈতৃক ভিটায় গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে আবার ২০ বছর পর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী হয়ে।
আগামীকাল ঢাকা থেকে বগুড়ায় পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুরুতেই দেড়শ বছর বয়সী বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন হিসেবে ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একদিনের সফরের শেষ দিকে শহরের আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠে আয়োজিত জনসভায় অংশ নেবেন তিনি।
বগুড়া-৬ আসনের এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা আগামীর সময়কে বলেছেন, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশের সর্ববৃহৎ পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন হিসেবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়াও উদ্বোধন করবেন প্রেসক্লাব ও বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের পুনর্নির্মাণ।
তার ভাষ্য, এ ছাড়াও বগুড়া আদালত প্রাঙ্গণ থেকে দেশের ১৫টি জেলায় একযোগে ই-বেইলবন্ড (অনলাইনে জামিননামা দাখিল) কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। বাগবাড়িতে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন তিনি।
এদিকে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে বগুড়ায় এখন সাজ সাজ রব। গাবতলীর মানুষের মনজুড়ে যেন ঈদের খুশি। ঘরের সন্তান তারেক রহমানকে দেখার প্রহর গুনছেন তারা।
এমনই একজন ৬৬ বছর ধরে অশীতিপর বৃদ্ধ আবদুস সাত্তার। যিনি দেখাশোনা করেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পৈতৃক ভিটা। জীবদ্দশায় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে কখনও কিশোর, আবার কখনও তরুণ তারেক রহমানকে দেখেছেন তিনি। এবার সেই তারেক রহমানকে দেখবেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে।
৮০ বছরের এক জীবনে একই পরিবারের তিন সদস্যকে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান হিসেবে দেখার আনন্দ বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তারের কাছে ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তার ভাষ্য, 'প্রধানমন্ত্রী এখানে আসবেন, খুব আনন্দ লাগছে।'

