বাঘের পায়ের ছাপ থেকে খেলনা- শিশুদের প্রশ্নে খুলল তারেক রহমানের শৈশবের জানালা

ঢাকায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে শিশুদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান। ছবি: পিআইডি
প্রধানমন্ত্রীকে পাশে দেখে, তার অভয় পেয়ে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে গেল শিশুরা। তারেক রহমানও দিয়ে গেলেন উত্তর। তাতে শিশুমনের কৌতূহল যেমন মিটল, সেই সঙ্গে জানা গেল সরকারপ্রধানের শৈশবের অনেক অজানা কথা।
আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে ‘বাংলাদেশ শিশু অধিকার দিবস’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শিশুদের জন্য নিজেকে খুলে দেন তারেক রহমান, স্ত্রী জুবাইদা রহমানও ছিলেন তার সঙ্গে।
অনুষ্ঠানের পর একটি পর্ব ছিল শিশুদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর। এই পর্বে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রী যখন মঞ্চে উঠেন, তখন তাদের ঘিরে মুখর হয়ে ওঠে শিশুরা। মহিলা ও শিশুবিষয়কমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেনও সেখানে ছিলেন।
এক শিশু যখন প্রধানমন্ত্রীর শৈশবের মজার স্মৃতি জানতে চাইল, তখন তারেক রহমান সুন্দরবনে বাঘের পায়ের ছাপ দেখার কথা বলেন।
তিনি জানান, শৈশবে বাবা জিয়াউর রহমান, মা খালেদা জিয়া, ছোট ভাই আরাফাত রহমানের সঙ্গে সুন্দরবনে গিয়েছিলেন বেড়াতে। সেখানে হিরণ পয়েন্টে দেখেছিলেন বাঘের পায়ের ছাপ।
‘ওখানে একটা পুকুর ছিল, পুকুরটার পাড়ে যখন আমরা গেলাম, তখন ওখানকার লোকাল যারা ছিল, তারা একজন দেখালো পুকুরটার পাড়ে আগের রাতে বাঘ এসেছিল, রয়েল বেঙ্গল টাইগার পানি খেতে এসেছিল। পুকুর পাড়ে কাদা তো, রয়েল বেঙ্গল টাইগারের একদম ফ্রেশ থাবাটা, ছাপটা ওখানে ছিল। ওই স্মৃতিটা এখনো মনে পড়ে।’
শৈশবের খেলনা নিয়ে স্বপ্নের কথাও বলেন তিনি আরেক প্রশ্নের উত্তরে।
‘তোমার মতো যখন ছোট ছিলাম, তখন শুধু ভাবতাম যে বড় হয়ে সব খেলনা কিনে নেব আমি, এরকমই ভাবতাম।’
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করার অনুভূতি কেমন- এক শিক্ষার্থী জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, ‘এই যে তোমরা এতজন মিলে প্রশ্ন করছো না…. ডেঞ্জারাস ব্যাপার এখান থেকে কাজ করা। খুব কঠিন।’
শিশুদের জন্য সরকারের পরিকল্পনা কী, তাও জানতে চাওয়া হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর কাছে।
এক শিশুর এই প্রশ্নে তিনি বলেন, শুধু লেখাপড়া করলে হবে না। গান গাইতে হবে, আবৃত্তি করতে হবে, নাচ করতে হবে, খেলা করত হবে, কেরাত প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে। সরকার সেই সুযোগটা করে দেবে, যাতে শিশুরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে বেড়ে উঠতে পারে।
শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি সময় না দেওয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় আধা ঘণ্টার জন্য তুমি একবার ব্রাউজ করলে, দেখবে কে কী বলল। বাট সোশ্যাল মিডিয়া হোক বা এই বিষয়টাতে হোক, এত লম্বা সময় না থেকে বরঞ্চ তোমার জন্য যেটা ইম্পর্টেন্ট সেগুলোতে টেকনোলজি যেই কাজটা তোমাকে হেল্প করবে… পড়ালেখা হোক বা অন্য যে বিষয় হেল্প করবে সেগুলোতে মোর টাইম স্পেন্ড করা উচিত।’
প্রতিটি এলাকায় খেলার মাঠ বা ইনডোর স্টেডিয়াম তৈরির কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা জানতে চেয়েছিল এক শিশু। বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময়ে শিশুদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে কিনা, তাও জানতে চাওয়া হয় তার কাছে। সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য সরকারের কী পরিকল্পনা রয়েছে, সেই প্রশ্নও রাখা হয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে।
প্রধানমন্ত্রী এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, প্রশ্নগুলো বড়রা শিখিয়ে দিয়েছে। তোমাদের নিজেদের কিছু থাকলে জিজ্ঞেস করো? যেটা মনের মধ্যে আছে সেটা জিজ্ঞেস করো?’
এক শিশু এরপর বলে ওঠে, বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে আপনি কি বড়দের পাশাপাশি ছোটদের মতামতও জানতে চান?
‘ভেরি ডিফিকাল্ট’ এই প্রশ্নের উত্তরে তারেক রহমান বলেন, ‘আমার আশেপাশে ছোট তেমন নাই। আমার একটা মেয়ে আছে, ও (জাইমা রহমান) বড় হয়ে গেছে এখন। তবে মাঝে মাঝে ওর সাথে আমি আলাপ করি।’
এক শিশু জানতে চায়, ‘জাইমা আপু কোথায় আছেন?’
প্রধানমন্ত্রী তখন বলেন, ‘জাইমা আপু বাইরে আছেন। সেজন্য আজকে এখানে আসতে পারেনি।’
এসময় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বসে থাকা এক শিশু বলে ওঠে, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার নাম জাইমা।’
তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাই নাকি। এতক্ষণ তুমি বলনি কেন? থ্যাংক কিউ নাম বলার জন্য।’
শিশুরা এই বিশেষ দিনে বিশেষ কিছু কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে শুনতে চাইছিল।
তখন তিনি বলেন, ‘তোমাদের কাছে আমার প্রত্যাশা হচ্ছে, তোমরা সকলে নিজেদেরকে গড়ে তোল। তোমরা যদি নিজেদেরকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পার, তাহলে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশটাকে আমরা সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারব।’





