‘জয় বাংলা’ স্লোগান হামলার অজুহাত হতে পারে না : কাফী রতন

সংগৃহীত ছবি
‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়ে থাকলেও তা বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কার্যালয়ে হামলার অজুহাত হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ক্বাফী রতন (কাফী রতন)। তিনি বলেন, ‘জয় বাংলা’ মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান। আওয়ামী লীগ এই স্লোগান ব্যবহার করে অন্যায় করে থাকলেও তার অর্থ এই নয় যে স্লোগানটি পরিত্যাগ করতে হবে।
সোমবার রাত ১২টার দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টনে সিপিবির কার্যালয়ে হামলার ঘটনার পর মুক্তি ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি ।
কাফী রতন বলেন, সিপিবির কার্যালয়ের সামনে একটি মিছিল থেকে ‘জয় সমাজতন্ত্র’ ও ‘জয় সর্বহারা’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল বলে তাকে জানানো হয়েছে। এসব স্লোগানের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মিছিলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কাফী রতন বলেন, ‘আমি সেখানে ছিলাম না। ‘জয় বাংলা’ বলা হয়েছে কি না, তা জানি না। তবে আমাকে বলা হয়েছে, ‘জয় সমাজতন্ত্র’, ‘জয় সর্বহারা’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। সুতরাং ‘জয় সমাজতন্ত্র’ বা ‘জয় সর্বহারা’ স্লোগান দেওয়া কোনোভাবেই অপরাধ হতে পারে না। এমনকি যদি ‘জয় বাংলা’ বলেও থাকে, সেটাও অপরাধ নয়।’
‘জয় বাংলা’ স্লোগানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ‘জয় বাংলা’ বলে অনেক অন্যায় করেছে। তার মানে এই নয় যে আমরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ছেড়ে দেব। কমিউনিস্ট পার্টি মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়েছে। কেউ যদি আমাদের নামে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়েও থাকে, সেটি কমিউনিস্ট পার্টির অফিসে আক্রমণের কোনো অজুহাত হতে পারে না।’
সিপিবির কার্যালয়ে হামলার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন কাফী রতন। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১৫ মার্চ ঘোষণা দিয়ে সিপিবির কার্যালয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার আক্রোশ থেকে আবারও কার্যালয়ে হামলা করা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
হামলার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না জানিয়ে কাফী রতন বলেন, কারা হামলা করেছে, তা শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে কাফী রতন জানান, যুব ইউনিয়নের দুই নেতা ইরান মোল্লা ও সোহেল ফকিরকে আটক করা হয়েছে। ইরান মোল্লা ঢাকা উত্তর যুব ইউনিয়নের সভাপতি এবং সোহেল ফকির সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক। তারা কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য বলেও জানান তিনি।




