জামায়াত নেতার চোখে বিএনপি ‘আপদ’, এখন না সরালে জনগণের ‘বিপদ’

ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে আজ রবিবার ঢাকায় বায়তুল মোকাররমের উত্তর ফটকে বিক্ষোভ সমাবেশ করে জামায়াতে ইসলামী। ছবি: আগামীর সময়
ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছে জামায়াতে ইসলামী। সেই বিক্ষোভ থেকে বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে সরানোর যুক্তি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম।
বিএনপিকে আপদ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেছেন, ‘এই আপদ সরাতে হবে। তা না হলে জনগণের বিপদ বাড়তেই থাকবে।’
আজ রবিবার বিকালে ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে একথা বলেন এ টি এম আজহার।
গত ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জালিয়াতি করে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সাল আমিনকে জেতানো হয় বলে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতের অভিযোগ। দলটির দাবি, নানা অনিয়মের পাশাপাশি জামায়াতের প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট ও কর্মীদের ওপর হামলা হয়।
এ টি এম আজহার সমাবেশে বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোটকেন্দ্রের সামনে মাইকিং করে ধানের শীষে ভোট চাওয়ার পরও নির্বাচন কমিশন নির্লজ্জের মতো দাবি করছে, নির্বাচনে তারা সন্তুষ্ট।’
সমাবেশে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম বলেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয় আছে এবং থাকবে। কিন্তু নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে বিএনপি প্রশাসনের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের মতোই ভোট ‘চুরি’ করেছে। সেখানেই থমকে যায়নি, ভোটের ‘অবিশ্বাস্য’ হিসাবও দিয়েছে।
‘বিএনপি মুখে যা বলে, কাজ করে তার বিপরীত’- এমন অভিযোগ করে তার পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে এ টি এম আজহার বলেন, ‘‘নির্বাচনের আগে তারা গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশবাসীকে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে সংবিধানের দোহাই দিয়ে জনগণকে ধোঁকা দিতে চাচ্ছে। তারা মনে করে জনগণ বোকা, কিন্তু জনগণ সবই বোঝে।’’
গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানান জামায়াত নেতা।
তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হবে না, জনগণের অধিকারও প্রতিষ্ঠিত হবে না। জনগণ প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তন চায়নি, চেয়েছিল রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তন। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের পর দেখা যাচ্ছে, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে কেবল প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তন হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও জনগণের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
‘তবে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন না হলেও বিএনপি নেতাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। আওয়ামী লীগের স্টাইলে দেশ পরিচালনার জন্যই বিএনপি রাষ্ট্র সংস্কার করছে না।’
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বের করেন জামায়াত নেতা-কর্মীরা। বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে পল্টন ও বিজয়নগর এলাকা প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি।



