জুলাইয়ের পর উপেক্ষিত ইসলামী ছাত্র আন্দোলন

সংগৃহীত ছবি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অনেক দল বেশি গুরুত্ব পেলেও ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ উপেক্ষার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ সংগঠনের সভাপতি মুনতাছির আহমাদের। ছাত্র-জনতার ওই কর্মসূচিতে ভূমিকা, আন্দোলনের কৌশল, সমন্বয়, ৫ আগস্টের প্রস্তুতি এবং আন্দোলন-পরবর্তী বাস্তবতা নিয়ে আগামীর সময়ের সঙ্গে কথা বলার সময় এ আক্ষেপ জানালেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রিপোর্টার আমজাদ হোসেন হৃদয়।
জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকেই ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে মুনতাছিরের জবাব, হাইকোর্ট ৬ জুন ৫৬ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের রায় দেওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যানারে যে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়, সেখান থেকেই আমাদের সম্পৃক্ততা। আন্দোলনের সূচনা থেকে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন পর্যন্ত রাজপথের সক্রিয় ছিল ইসলামী ছাত্র আন্দোলন। সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিল সারা দেশের কর্মসূচিতে।
কোটার বাতিলের দাবিতে থেকে আন্দোলনের গতি পরিবর্তনের বিষয়ে তার মত, ১৪ থেকে ১৬ জুলাইয়ের ঘটনাগুলোই ঘুরিয়ে দেয় আন্দোলনের মোড়। ১৪ জুলাই শেখ হাসিনার ‘রাজাকারের নাতি-পুতি’ মন্তব্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করে। পরদিন ছাত্রলীগের হামলা এবং ১৬ জুলাই আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের পর আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়, এটি আর শুধু কোটা আন্দোলন নয়; রূপ নিয়েছে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে।
‘আমরা এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছিলাম। যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, উত্তরা, মোহাম্মদপুর, শাহবাগ ও শহীদ মিনার— প্রতিটি এলাকায় ছিল আলাদা টিম’— মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক কৌশল উল্লেখ করলেন তিনি।
গণঅভ্যুত্থানে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের হতাহতের তথ্য দিতে গিয়ে বললেন, আমাদের সংগঠনের ১৫ সদস্য শহীদ। আর ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম নেতৃত্বাধীন বৃহত্তর পরিবারের শহীদের সংখ্যা ২২ জন। এ ছাড়া প্রায় ২০০ নেতাকর্মী গুরুতর আহত। অনেকেই এখনো গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আছেন, কেউ হারিয়েছেন দৃষ্টিশক্তি। আবার কেউ স্থায়ী শারীরিক জটিলতা নিয়ে করছেন জীবনযাপন।
গণঅভ্যুত্থানের পর ইসলামী ছাত্র আন্দোলন যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয়েছে কি না— এমন প্রশ্নে উগড়ে দিলেন ক্ষোভ। তার অভিযোগ, ‘আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় রাষ্ট্রীয় কোনো পদ বা বিশেষ সুবিধা পাওয়ার চিন্তা ছিল না আমাদের। লক্ষ্য ছিল, দেশের সংকট থেকে উত্তরণ এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা। তবে এটিও সত্য, আন্দোলনে সম্পৃক্ত সব ছাত্র সংগঠনকে সমানভাবে মূল্যায়নের যে সুযোগ ছিল, তা বাস্তবায়ন হয়নি। কিছু সংগঠন বেশি গুরুত্ব পেয়েছে, আবার কিছু সংগঠনকে উপেক্ষা করা হয়েছে। ইসলামী ছাত্র আন্দোলনও সেই উপেক্ষার শিকার। বলা যায় সবচেয়ে ‘আন্ডাররেটেড’ ছাত্র সংগঠন।’




