বলছেন রোমারিও
সৃজনশীলতার অভাবেই ভুগছে ব্রাজিল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচটি ড্র দিয়েই শেষ হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে এটা ভালো লাগার কথা নয়। এটা সত্যি যে আমরা এক শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হয়েছিলাম। দুদিকেই ভালো ভালো খেলোয়াড় ছিল, এ ছাড়া কৌশলগত দিক থেকেও দল দুটির মান ছিল একদম সমানে সমান। কিন্তু আমরা মোটেও ভালো খেলতে পারিনি। ম্যাচের বিভিন্ন মুহূর্তে বেশ ভুগতে হয়েছে। এমনকি একদম শেষ মুহূর্তে আলিসন গোল বাঁচিয়ে রক্ষা করেছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধের শুরুটা ছিল রীতিমতো ভয়ংকর। প্রথম ১৫-২০ মিনিট তাদের চাপে একদম পিষ্ট হয়েছিল ব্রাজিল দল। ম্যাচের শুরু থেকেই মরক্কো হাই প্রেসিং ফুটবল খেলছিল। তারা গোলপোস্টে ছয়-ছয়টি শট নিয়েছিল, যার বিপরীতে আমাদের মাত্র একটি।
আমাদের দল ধীরে ধীরে সেই চাপ কাটিয়ে পাসিং ফুটবল খেলে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছিল। এতে সফল হয়নি। বলা ভালো, মরক্কোর চমৎকার ফুটবল সেটা হতে দেয়নি। ফলে ব্রাজিলকে পিছিয়ে পড়তে হয় স্ট্রাইকার সাইবারির এক নিখুঁত ফিনিশিংয়ে।
অবশ্য গোলটি খাওয়ার পর ব্রাজিলের খেলায় কিছুটা উন্নতি হয়। আসলে বড় সমস্যা হচ্ছিল অ্যাটাকিং থার্ডে বল পাঠানোর মতো কেউ ছিল না মাঝমাঠে। কয়েকটি বল গেছে এবং তার একটি থেকে ভিনিসিয়ুস চেনা ছন্দে ফিরে দুর্দান্ত এক গোল করে। উইং ধরে ভেতরের দিকে কাট-ইন করে ভিনি মরক্কোর গোলকিপার পরাস্ত করেছে।
আমরা বুকভরা আশা নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে খেলেছি, তবে দিনটা আনচেলত্তির দলের ছিল না। গুটিকয়েক বিচ্ছিন্ন আক্রমণ ছাড়া ম্যাচে নিজেদের ছন্দ খুঁজে পেতে প্রতিনিয়ত লড়াই করে গেছি। দলে সৃজনশীলতার অভাব ছিল আর খেলোয়াড়রা প্রচুর ভুল পাস দিয়েছে। সৃজনশীল মিডফিল্ডার না থাকায় বড্ড বেশি ডিরেক্ট ফুটবল খেলেছে। তাতে সুবিধা হয়েছে মরক্কোর।
এটা স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে, মরক্কো সামগ্রিকভাবে ব্রাজিলের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে ছিল। তারা চমৎকার ফুটবল খেলেছে। ভালোভাবে রক্ষণ সামলে কীভাবে আক্রমণে উঠতে হয় এবং ফাঁকা জায়গা তৈরি করতে হয় তা জানে তারা। তরুণ বুয়াদি আমাকে ভীষণভাবে মুগ্ধ করেছে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ছেলেটা কী চমৎকার খেলে! কোন জায়গায় ছিল না সে। কখনো আক্রমণ তৈরি করছে, আবার কখনো ট্যাকেল করছে। ছেলেটি অনেক দূর যাবে।
ব্রাজিলের হয়ে মাঠে সেরা খেলোয়াড় ছিলেন ভিনি জুনিয়র। চমৎকার গোলের পাশাপাশি সে প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের রক্ষণে হানা দিয়েছে কয়েকবার। কিন্তু রাফিনিয়াকে তার সেরা চেহারায় দেখিনি। অথচ তার কােছ আমার অনেক প্রত্যাশা এই টুর্নামেন্টে।
দলের উইং বা দুই প্রান্তের সেই পুরনো সমস্যা আমাদের এখনো তাড়া করে বেড়াচ্ছে। ইবানেজ বলতে গেলে রাইটব্যাক পজিশনে একজন বেমানান ডিফেন্ডার। আক্রমণভাগকে সাহায্য করার মতো সহজাত দক্ষতা তার নেই। দ্বিতীয়ার্ধে দানিলো মাঠে নামার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছিল, তবে সত্যি হলো ওয়েসলির কোনো উপযুক্ত বিকল্প আমাদের কাছে নেই। আবার বাঁ প্রান্তে দগলাস সান্তোস কোনো বড় ভুল না করলেও পুরো ম্যাচে সে একপ্রকার অদৃশ্য ছিল। শেষ কথা হলো, ম্যাচের কোনো মুহূর্তেই আমাদের এমন মনে হয়নি, ম্যাচটি আমরা জিততে যাচ্ছি। এই ম্যাচ নিয়ে পড়ে না থেকে হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে মনোযোগ দিতে হবে। আমি যদি কোচের জায়গায় থাকতাম, তবে মিডফিল্ডে ফাবিনহো এবং রাইটব্যাকে দানিলোকেই রাখতাম। এই হতাশাজনক শুরুর পর সামনের ম্যাচে নিজেদের খেলার মান বাড়ানো ও বড় ব্যবধানে জয়টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এখনো পথে ফেরার সময় আছে, আমি অন্তত বিশ্বাস হারাইনি।


