কর্মসূচির অর্থায়ন নিশ্চিত বড় চ্যালেঞ্জ

সরকারের ভাতা প্রদানের উদ্যোগটি জনকল্যাণমুখী হলেও দেশের সীমিত আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি এখানে বিবেচনায় রাখা জরুরি। কারণ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি যত বাড়বে, তত বেশি মানুষ উপকৃত হবে। তবে দেশের আর্থিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাও মাথায় রাখতে হবে। এ ছাড়া ব্যয় তো বিভিন্ন খাতে আমাদের বেড়েই চলছে। নতুন পে-স্কেল ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বৃদ্ধির বিপরীতে সরকারের আয় আশানুরূপ বাড়ছে না।
তাই অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সচল রেখে নতুন এই কর্মসূচির অর্থায়ন নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
উন্নত বিশ্বে বেকার ভাতার কারণে অনেকের কর্মবিমুখ হওয়ার নজির রয়েছে। যেমন ইংল্যান্ডে ভাতার পরিমাণটা বেশ ভালো। বিভিন্নভাবেই লোকজন সেখানে ভাতা খাওয়ার দিকে আগ্রহী হয়ে গেছে কাজকর্ম না করে। বেকার ভাতার কারণে সেখানে অনেক লোক ইচ্ছা করেও চাকরি-বাকরি করে না। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কর্মহীনের বিশাল সংখ্যা বিবেচনা করলে, ছয় মাস পর্যন্ত বেকার ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন করা বেশ কঠিন। অতীতে ‘লিন পিরিয়ডে’ ১০০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচির মতো উদ্যোগগুলো কার্যকর ছিল। তবে বর্তমানে এই বিশাল আকারের কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা এড়াতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন।
বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে দরিদ্রদের জন্য এ ভাতা কিছুটা স্বস্তি দিলেও এর অর্থায়নের উৎস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের নিজস্ব আয় বা সাধারণ খাত থেকে ঋণের মাধ্যমে এ ব্যয় মেটানো হলে অর্থনীতিতে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে না। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ, অর্থাৎ নতুন টাকা ছাপিয়ে এই কর্মসূচির অর্থায়ন করা হলে তা দেশে মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে। তাই অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অর্থায়নের ক্ষেত্রে সরকারকে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে।




