আগামীর চোখ
“রংবাজি”

বরাবর
মহাপরিচালক
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)
এক লাইনম্যানের বিনীত সালাম গ্রহণ করবেন। রাজধানী ঢাকার যানজট ও গণপরিবহনের দীর্ঘদিনের আঁধার ঘোচাতে আপনারা যে ঐতিহাসিক ‘বাস রুট রেশনালাইজেশন’ ও ‘কোম্পানিভিত্তিক বাস-সেবা’ চালুর মহোৎসব শুরু করেছেন, তা অনবদ্য। জরাজীর্ণ, ঠকঠকে কাঁপতে থাকা এবং লক্কড়ঝক্কড় বাসগুলোর গায়ে স্রেফ এক টুকরো রঙিন ‘স্টিকার’ সাঁটিয়েই পুরো পরিবহন ব্যবস্থাকে ইউরোপীয় মানে উন্নীত করার এ কাল্পনিক জাদুকরী কৌশল দেখে আমি বাকরুদ্ধ! ‘প্রজাপতি’ আর ‘পরিস্থান’ পরিবহনের ওপর ‘পিপিবি’ লেখা এক টুকরো কাগজ
আপনারা ঘোষণা দিয়েছেন— নির্দিষ্ট কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে যাত্রী ওঠানামা করবে। অথচ বাস্তবতা হলো, পুরো আবদুল্লাহপুর থেকে ঘাটারচর কিংবা শিববাড়ী থেকে ঢাকেশ্বরী রুট চষে ফেলেও টিকিটের কোনো বুথ বা কাউন্টার বাতি জ্বালিয়ে খুঁজে পাওয়া গেল না। হেলপার আগের মতোই ‘মিরপুর, মিরপুর’ বা ‘ফারাম গেট ফারাম গেট’ বলে গলা ফাটিয়ে হাঁক ছেড়ে মাঝরাস্তা থেকে যাত্রী তুলছে, ফ্লাইওভারের মাঝপথে ভাড়া কাটছে এবং যত্রতত্র যাত্রী নামিয়ে ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা বজায় রাখছে।
বাসের স্টিকারের নিচ দিয়ে পুরনো প্রজাপতি বা পরিস্থানের নাম যখন উঁকি মারে, তখন হাসব নাকি কাঁদব, ভেবে পাই না
আপনারা বলেছেন, সবকিছু রঙ করে ও নতুন নিয়মে নামানো হচ্ছে। কিন্তু বাসের স্টিকারের নিচ দিয়ে পুরনো প্রজাপতি বা পরিস্থানের নাম যখন উঁকি মারে, তখন হাসব নাকি কাঁদব, ভেবে পাই না। তাড়াহুড়ো করে ৭৮০টি বাস নামানোর এ কাণ্ডকারখানা দেখে মনে হচ্ছে, মূল কাজ ছিল শুধু ফিতা কাটা আর সংবাদপত্রে নাম ছাপানো; শৃঙ্খলা বা যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘব সেকেন্ডারি বিষয়!
লাইনম্যান হিসেবে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে প্রতিদিন দেখতে পাচ্ছি, আপনার কাগজ-কলমের ‘স্মার্ট ট্রান্সপোর্ট’ আর রাজপথের এই ‘পুরনো সার্কাস’ কীভাবে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। আমরা ছোট মানুষ। রুটের লাইন বুঝি, কোম্পানির লাইন বুঝি না। তবে এটুকু বুঝি, স্টিকার বদলাতে যত সময় লাগে, ব্যবস্থা বদলাতে তার চেয়ে বেশি সময় লাগে।
ইতি
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক লাইনম্যান
(ঘটনাস্থল: কালশী ফ্লাইওভার ও পল্লবী বাসস্ট্যান্ড এলাকা)



