Agamir Somoy E-Paper
শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
জনকল্যাণে বাবা-ছেলের দৃষ্টান্ত
শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় সাক্ষাৎকার

সাক্ষাৎকার

মক্কা চুক্তি নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই

শাহাব এনাম খান
agamir somoy
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৮
মক্কা চুক্তি নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই

আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও সামরিক সমীকরণে এক বড় ঝাঁকুনি দিয়েছে ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ (MJDA)। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই ত্রিদেশীয় নিরাপত্তা চুক্তিটি বিশ্ব জুড়ে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই চুক্তির বাস্তবতা এবং দক্ষিণ এশিয়া ও বাংলাদেশের ওপর এর প্রভাব নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. শাহাব এনাম খান বিস্তারিত কথা বলেছেন আগামীর সময়-এর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাঈদ জুবেরী

আগামীর সময়: সম্প্রতি যে ‘বিশ্বাসহীনতার যুগ’ ও বিকল্প কৌশল (Strategic Hedging) খোঁজার প্রবণতা তৈরি হয়েছে, ‘মক্কা চুক্তি’ কি তারই উদাহরণ?

শাহাব এনাম খান: গত তিন-চার বছর যদি আপনি বৈশ্বিক ভূকৌশল ও ভূরাজনীতি লক্ষ করেন, তবে দেখবেন যে বড় ধরনের একটি রূপান্তর ঘটছে। ঐতিহ্যগত বা সনাতনী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো আর আগের মতো কার্যক্ষম ভূমিকা রাখতে পারছে না। যেমন— ন্যাটোর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা স্পষ্ট, আবার জাতিসংঘের ভূমিকা অনেকাংশেই স্থবির। আমাদের অঞ্চলের বিমসটেক বা সার্ক এমন কোনো কার্যকর পর্যায়ে নেই, যা সদস্য দেশগুলোর অর্থনীতি বা নিরাপত্তাকে সুসংহত করতে পারে।

বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংকটের পর বৈশ্বিক ভূনিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশাল পরিবর্তন এসেছে। এসব কারণে বিশ্ব জুড়ে রাষ্ট্রগুলো এখন স্থায়ী নিরাপত্তার বদলে বিকল্প বা সমান্তরাল সমাধানের (Alternative Solutions) দিকে ঝুঁকছে। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি এরই এক বাস্তব প্রতিফলন।

আগামীর সময়: চুক্তিটি স্বাক্ষরের দুদিন পরই সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে হুতি বিদ্রোহীরা ড্রোন হামলা চালায়। তবে চুক্তিবদ্ধ তিন দেশের পক্ষ থেকে কোনো সামরিক জবাব দেখা যায়নি। শুরুতেই কি চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে না?

শাহাব এনাম খান: বিষয়টি অকার্যকারিতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনা তো আজকের নয়; ইরান সংকটে এই আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও ঘনীভূত হয়েছে। সৌদি আরবের কৌশলগত সমীকরণ বেশ জটিল। ইরানের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বৈরিতা, যা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় কিছুটা প্রশমনের চেষ্টা করা হলেও সমাধান হয়নি। এ পরিস্থিতিতে হিজবুল্লাহ কিংবা হুতিদের মতো ‘নন-স্টেট অ্যাক্টর’ বা অরাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীগুলো আঞ্চলিক রাজনীতিতে বেশ বড় অনুঘটক হয়ে উঠেছে। সৌদি আরব উপলব্ধি করেছে যে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর একক বা চূড়ান্ত গ্যারান্টি দিতে পারছে না। ফলে জর্ডান বা মিসরের মতো মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রই এখন নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প অংশীদার খুঁজছে। তেল শোধনাগারে হামলার ঘটনাপ্রবাহ মূলত এই বিকল্প জোটের গুরুত্বকেই পুনর্ব্যক্ত করে।

বাংলাদেশকে যদি নীতিগতভাবে এই নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হতে আমন্ত্রণ জানানো হয় বা যুক্ত হওয়ার সুযোগ আসে, তবে তাতে বাংলাদেশের দ্বিধাগ্রস্ত (Hesitate) হওয়ার কোনো কারণ নেই। কেন নেই, তা আমাদের বাস্তবতার নিরিখে বুঝতে হবে। দুই পরাশক্তি— যুক্তরাষ্ট্র বা চীন— কারোরই এই প্যাক্ট নিয়ে বড় কোনো আপত্তি নেই। ভারতের উপস্থিতি, মিয়ানমার সংকট, বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত অস্থিতিশীলতা বা অপ্রথাগত নিরাপত্তা ঝুঁকি নিরসনে আমাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে

আগামীর সময়: একে ‘ইসলামি ন্যাটো’ বলা কতটা যুক্তিসংগত?

শাহাব এনাম খান: এটি মূলত গণমাধ্যমে একধরনের চাঞ্চল্য তৈরি বা সেনসেশন তৈরির চেষ্টা। সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে মক্কা প্যাক্টকে ‘ইসলামি ন্যাটো’ বলার কোনো বাস্তবিক সুযোগ নেই। তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের ভৌগোলিক বিস্তার ও অবস্থান একেবারেই আলাদা। তা ছাড়া এটিকে কোনো ভৌগোলিক বা প্রাতিষ্ঠানিক ‘ট্রিটি অর্গানাইজেশন’ হিসেবে গঠন করা হয়নি। এটি একটি ‘প্যাক্ট’ বা প্রতিরক্ষা সমঝোতা। সে কারণে সিয়াটো (SEATO) বা সেন্টো (CENTO)-এর মতো জোটের সঙ্গেও এর চারিত্রিক পার্থক্য রয়েছে।

আমার মতে, পরিভাষাটি পরিবর্তন করে এটিকে ‘বিকল্প নিরাপত্তা জোট’ (Alternative Security Alliance) বলা অধিক যুক্তিযুক্ত। মূলত এই তিন দেশের নিরাপত্তার ঝুঁকিতে কিছু অভিন্ন জায়গা বা ‘কমপ্লিট সিঙ্ক’ রয়েছে। তুরস্ক ন্যাটো সদস্য হওয়া সত্ত্বেও প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সামরিক ও ভূরাজনৈতিক হুমকির মুখোমুখি হচ্ছে; ইসরায়েল ও সৌদি আরব নিয়ে তাদের নিজস্ব রিজার্ভেশন আছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি ও জ্বালানি রুট ঘিরে সৌদি আরবের ওপর হুমকি বিদ্যমান। আর পাকিস্তানের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং ভারতের সঙ্গে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক মাখামাখি এক বড় সতর্কবার্তা।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিতিশীলতা এই তিনটি দেশকেই সমানভাবে প্রভাবিত করে। ফলে পশ্চিমানির্ভর সামরিক বলয় থেকে বের হয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার একটি সমন্বিত সামরিক উদ্যোগ হলো এই চুক্তি।

আগামীর সময়: ইউক্রেন যুদ্ধ কিংবা সাম্প্রতিক ইরান সংকটের প্রতিক্রিয়া কতটা প্রভাব ফেলেছে এই জোট তৈরিতে?

শাহাব এনাম খান: ইউক্রেন ও ইরান সংকট বৈশ্বিক যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আমরা দেখেছি জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা যুক্তরাষ্ট্র— কেউই কিন্তু সংঘাতের দ্রুত নিরসন ঘটাতে পারেনি। এরপর এলো মধ্যপ্রাচ্য সংকট, যা দীর্ঘায়িত বা প্রোট্র্যাক্টেড রূপ নিয়েছে।

এ দুই যুদ্ধের একটা কৌশলগত পরিবর্তন লক্ষণীয়। একদিকে পরমাণু শক্তি, অন্যদিকে ড্রোনের ব্যবহারে আধুনিক ও অপ্রথাগত যুদ্ধকৌশল (Asymmetric Warfare)— এ দুইয়ের সংমিশ্রণ নতুন এক সামরিক বাস্তবতা তৈরি করেছে।

এই বদলে যাওয়া রণকৌশলের কারণেই আমরা দেখছি, প্রচলিত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভারত বা পশ্চিমা দেশগুলোর গুরুত্ব আগের জায়গায় নেই। সেখানে পাকিস্তানের মতো রাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়ছে। কারণ তাদের সামরিক সক্ষমতা, পরমাণু প্রযুক্তি ও অপ্রথাগত যুদ্ধের অভিজ্ঞতা রয়েছে; একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতাও ভালো। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর রণকৌশলের এই অভূতপূর্ব পরিবর্তনে মক্কা প্যাক্টের মতো জোটগুলো ভবিষ্যতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কার্যকর হতে বাধ্য।

ঘুরেফিরে ইসরায়েলকেন্দ্রিক সংঘাত, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা এবং পশ্চিমা নির্ভরতার বাইরে বিকল্প খোঁজার মনোভাব— এ তিনটি বিষয়ের ওপর দাঁড়িয়েই তিন দেশ এক ছাতার নিচে এসেছে


আগামীর সময়: সৌদি আরবের বিশাল অর্থসম্পদ, তুরস্কের আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি এবং পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি ও অভিজ্ঞ সেনা— তিনটি ভিন্ন সক্ষমতার একত্রীকরণ বিশ্ব সামরিক ভারসাম্য ও প্রতিরক্ষা শিল্পে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে?

শাহাব এনাম খান: ঘুরেফিরে ইসরায়েলকেন্দ্রিক সংঘাত, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা এবং পশ্চিমা নির্ভরতার বাইরে বিকল্প খোঁজার মনোভাব— এ তিনটি বিষয়ের ওপর দাঁড়িয়েই তিন দেশ এক ছাতার নিচে এসেছে।

একই সময়ে চীনের উত্থানকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এ অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এখন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী। চীনই একমাত্র পরাশক্তি, যারা ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি না বাড়িয়েও ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছে। তবে রাষ্ট্রগুলো আবার পুরোপুরি চীনের ওপরও নির্ভরশীল হতে চায় না। তারা এমন এক ভারসাম্য বা ‘বিকল্প ব্যবস্থা’ চায়, যা পশ্চিমাদের চাপ থেকে যেমন রক্ষা করবে, তেমনি চীনা বলয়েও পুরোপুরি বন্দি করবে না। এই সামরিক ভারসাম্য ও আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের সম্ভাব্য যৌথ উৎপাদনই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলবে।

আগামীর সময়: যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন-রাশিয়া অক্ষ এই চুক্তিকে কীভাবে দেখছে? তারা কতটা নিয়ন্ত্রক ভূমিকা পালন করবে?

শাহাব এনাম খান: যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন একধরনের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতেই দেখছে, চীনও নীতিগতভাবে এর বিরুদ্ধাচরণ করেনি। সুতরাং, এখানে মূল চ্যালেঞ্জ ওয়াশিংটন বা বেইজিংয়ের প্রতিক্রিয়া নয়; আসল প্রশ্ন হলো— এ তিন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও তাদের কৌশলগত কাঠামোর ধারাবাহিকতা।

তুরস্কে কিছুটা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলেও পাকিস্তানে রাজনৈতিক ওঠানামা ও অস্থিরতা প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা। অন্যদিকে সৌদি আরবের শাসনব্যবস্থার ধরন একদম ভিন্ন। এই তিন দেশের ‘অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সক্ষমতা’ এবং সামরিক সমন্বয় কতটা দীর্ঘমেয়াদি হয়, সেটাই নির্ধারণ করবে মক্কা প্যাক্টের মূল স্থায়িত্ব। তা ছাড়া পশ্চিমা বিশ্ব ও ইসরায়েল পরে কতটুকু প্রভাব বিস্তার করতে পারে, সেটিও একটি দেখার বিষয়।

আগামীর সময়: গাজা ইস্যুতে যেখানে সৌদি আরব ও তুরস্কের নীতিতে কিছু পার্থক্য চোখে পড়ে, সেখানে সাধারণ মুসলিম জনগোষ্ঠীর সমর্থন পেতে কিংবা নিজ নিজ দেশে রাজনৈতিক ইমেজ পুনরুদ্ধারে মক্কা চুক্তি কি কোনো ‘কৌশল’ হিসেবে কাজ করছে?

শাহাব এনাম খান: আপনি একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট স্পর্শ করেছেন। মুসলিম সমাজ বা সাধারণ জনগণের মধ্যে প্যালেস্টাইন ও গাজা ইস্যুতে একটি সুদৃঢ় আবেগীয় ও নীতিগত ঐক্য রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের যেটিকে ‘ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক রাজনৈতিক ঐক্য’ বলা উচিত, মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে তার চরম অভাব রয়েছে।

আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি, সকাল-বিকাল গাজার পক্ষে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, লিপ সার্ভিস (Lip Service) বা মৌখিক সংহতির কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে, ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধে বা ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষায় ইসলামিক বিশ্ব কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। এটি মুসলিম দেশগুলোর নেতৃত্বের একটি ঐতিহাসিক বড় ব্যর্থতা ও দুর্বলতা। এটি ইসরায়েলও ভালো করে জানে, ফিলিস্তিনিরাও বোঝে।

হ্যাঁ, এই চুক্তির মাধ্যমে তিনটি দেশের সামনেই ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে একটি নতুন ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতায় আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে তুরস্ক, পাকিস্তান বা সৌদি আরব প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও কৌশলগত অগ্রাধিকার (Domestic Interests) রয়েছে। তাদের ফিলিস্তিন-সংক্রান্ত অবস্থান শেষ পর্যন্ত কতটা জোরালো হবে, তা নির্ভর করবে তাদের ভেতরের সেই রাজনৈতিক হিসাবনিকাশের ওপর।

আগামীর সময়: ‘মক্কা চুক্তি’ দিল্লির জন্য কতটা সামরিক ও কৌশলগত চাপ তৈরি করতে পারে?

শাহাব এনাম খান: ভারতের বিষয়টি বুঝতে হলে তাদের সাম্প্রতিক বৈদেশিক নীতির গতিপথ দেখতে হবে। দিল্লি ও তেলআবিব অত্যন্ত কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ এক অংশীদার; পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও তাদের নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব বা ইরানের সঙ্গে ভারতের ঐতিহ্যগত অর্থনৈতিক, জ্বালানি ও রেমিট্যান্সভিত্তিক শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে।

তবে ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের যে সামরিক ও অর্থনৈতিক মাখামাখি, তা কোনোভাবেই এই মক্কা প্যাক্টের সঙ্গে খাপ খায় না। ফলে মক্কা প্যাক্টের গঠন ভারতের সামরিক ও ভূরাজনৈতিক কৌশলের জন্য একদমই স্বস্তিদায়ক বিষয় নয়। তারা স্বভাবতই এটি নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে বাংলাদেশ বা অন্যান্য রাষ্ট্র যদি এর সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করে, তবে দিল্লির জন্য রাজনৈতিক ও কৌশলগত অস্বস্তি বহু গুণ বেড়ে যাবে।

আগামীর সময়: বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটি আক্রান্ত হলে তা যৌথ আক্রমণ হিসেবে ধরা হবে। এ অবস্থায় ভারত-পাকিস্তানের ভবিষ্যতে কোনো সংঘাত দেখা দিলে সৌদি আরব বা তুরস্ক কি পাকিস্তানের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নেবে? এতে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন কোনো ‘প্রক্সি ওয়ার’ শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে কি?

শাহাব এনাম খান: ভারতের মূল শঙ্কা শুধু এই জোটের সদস্য তালিকা নিয়ে নয়; বরং তাদের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে ইসরায়েল ও ভারত অক্ষের গতিপথ। মক্কা প্যাক্টের দেশগুলো কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, সেটিই দিল্লির মূল কনসার্ন।

যদি ভারত বা ইসরায়েল কখনো পাকিস্তানে সামরিক আক্রমণ চালায়, তবে চুক্তির ধারা অনুযায়ী তুরস্ক বা সৌদি আরবের সামরিক প্রতিক্রিয়া বা পাল্টা পদক্ষেপে যাওয়াটা খুব স্বাভাবিক। ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এতদিন পাকিস্তান বা বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে যে একধরনের নির্দিষ্ট ‘কমিউনাল ন্যারেটিভ’ বা রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করা হতো, এখন থেকে সেখানে একটা বড় ধাক্কা বা বাধা আসবে। কারণ, মক্কা প্যাক্টের উপস্থিতি সামরিক ভারসাম্য তৈরি করেছে, যা দিল্লিকে যেকোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত রাখবে। তবে এই চুক্তির কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় সরাসরি কোনো প্রক্সি ওয়ার শুরু হবে বলে আমি মনে করি না; বরং মক্কা প্যাক্ট এখানে একধরনের ‘ডিটারেন্স’ বা প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে।

আগামীর সময়: বাংলাদেশের জন্য এই জোটের অংশ হওয়া কতটা কৌশলগত লাভজনক বা চ্যালেঞ্জিং?

শাহাব এনাম খান: প্রথম কথা হলো, বাংলাদেশকে যদি নীতিগতভাবে এই নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হতে আমন্ত্রণ জানানো হয় বা যুক্ত হওয়ার সুযোগ আসে, তবে তাতে বাংলাদেশের দ্বিধাগ্রস্ত (Hesitate) হওয়ার কোনো কারণ নেই। কেন নেই, তা আমাদের বাস্তবতার নিরিখে বুঝতে হবে। আগেই বলেছি, আন্তর্জাতিক দুই পরাশক্তি— যুক্তরাষ্ট্র বা চীন— কারোরই এই প্যাক্ট নিয়ে বড় কোনো আপত্তি নেই।

দ্বিতীয়ত, আমাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাগত ঘাটতি এবং সীমান্তভিত্তিক যেসব বড় ঝুঁকি রয়েছে, যেমন— ভারতের উপস্থিতি, মিয়ানমার সংকট, বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত অস্থিতিশীলতা বা অপ্রথাগত নিরাপত্তা ঝুঁকি (Non-traditional Security Threats); সেগুলো নিরসনে আমাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। মক্কা প্যাক্টের সঙ্গে যুক্ত হওয়া শুধু কোনো ধর্মীয় আইডেন্টিটির বিষয় নয়; এটি মূলত বাংলাদেশের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব ধরে রাখার কৌশল।

সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের রেমিট্যান্স, এনার্জি ও দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িয়ে আছে। তুরস্কের সঙ্গে আমাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও প্রযুক্তির লেনদেন চমৎকার, আর পাকিস্তানের সঙ্গেও আঞ্চলিক অংশীদারত্বের সুযোগ রয়েছে। ফলে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করতে এবং প্রতিরক্ষা জোরদারে বাংলাদেশের মতো দেশের এমন জোটে যুক্ত হওয়ার পর্যাপ্ত যুক্তি রয়েছে।

বাংলাদেশ বহু বছর ধরে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রেখে আসছে। একমুখী কূটনীতির বদলে গতিশীল ও সাহসী কূটনীতির (Aggressive Diplomacy) মাধ্যমে আমরা এই দ্বিপক্ষীয় ভারসাম্যগুলো খুব সহজেই টিকিয়ে রাখতে পারি। নিজেদের সীমান্ত সুরক্ষা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার নৈতিক ও কৌশলগত অধিকার বাংলাদেশের সম্পূর্ণ রয়েছে এবং এই প্যাক্টের সম্ভাবনা কাজে লাগানো সেই সুরক্ষারই একটি অংশ হতে পারে।

আগামীর সময়: বাংলাদেশে এই চুক্তির ছায়া পড়লে কি ভারতের সঙ্গে টানাপড়েন তৈরি হবে না?

শাহাব এনাম খান: ভারতের নীতিনির্ধারকদের উপলব্ধি করা উচিত যে এই প্যাক্টে যে দেশগুলো রয়েছে, সৌদি আরব বা তুরস্ক, তাদের সঙ্গে তো ভারতের ভালো সম্পর্ক ও ব্যবসা-বাণিজ্য রয়েছে। দেশ দুটির সঙ্গে শত্রুতা ভারতের নেই, আবার বাংলাদেশের সঙ্গেও তাদের ভালো সম্পর্ক। সুতরাং ভারতের মিত্র দেশগুলোই যখন এই জোটে আছে, তখন বাংলাদেশের যুক্ত হওয়াকে দিল্লির নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এটিকে তাদের নিজেদের সুরক্ষার জন্য একটি ইতিবাচক উপাদান হিসেবে দেখা উচিত।

আগামীর সময়: মক্কা চুক্তিকে অনেকে ‘সুন্নি সামরিক বলয়’ হিসেবে দেখছেন। কিন্তু তেহরান বা ইরান এতে বেশ শান্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। ইরানের এ অবস্থানকে আপনি কীভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

শাহাব এনাম খান: ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত বাস্তবমুখী (Pragmatic) পদক্ষেপ নিয়েছে। ইরান খুব ভালো করেই বোঝে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে শেষ পর্যন্ত এই আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গেই সম্পর্ক সুসংহত রাখতে হবে। তা ছাড়া পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের দ্বিপক্ষীয় সীমান্ত ও সামরিক ক্ষেত্রে একটি নির্ভরযোগ্য ও গভীর আস্থার সম্পর্ক রয়েছে। পাকিস্তান যখন এই মক্কা প্যাক্টের অন্যতম শরিক, তখন তেহরানের সঙ্গে নিশ্চয়ই এই চুক্তি ও তার কৌশলগত দিক নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। ফলে এই প্যাক্টকে হুমকি ভেবে উত্তেজিত হওয়ার কারণ ইরানের নেই। তবে যেহেতু এতে সৌদি আরবের মতো বড় প্রতিযোগী খেলোয়াড় যুক্ত আছে, তাই সতর্ক নজরদারিতে রাখাটা স্বাভাবিক।

আগামীর সময়: আগামীতে মক্কা প্যাক্ট কি ন্যাটোর মতো প্রাতিষ্ঠানিক ও টেকসই রূপ নেবে, নাকি স্রেফ কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

ড. শাহাব এনাম খান: এই চুক্তি ভবিষ্যতে ন্যাটোর মতো সুসংহত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেবে, নাকি নিছক কাগজে-কলমে থেকে যাবে— তা এখনই নিশ্চিত করে বলাটা খুব কঠিন। পুরোটাই নির্ভর করছে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক কূটনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। এর জন্য আমাদের আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।

আগামীর সময়: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

শাহাব এনাম খান: আপনাকে এবং পাঠকদেরও ধন্যবাদ।

ভূরাজনীতিসামরিকমক্কাঅ্যাগ্রিমেন্টপাকিস্তাননিরাপত্তা
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    রাজবাড়ীর ইউএনওর গাড়িচালকের একাধিক সনদ, তিন জন্মতারিখ

    রাজবাড়ীর ইউএনওর গাড়িচালকের একাধিক সনদ, তিন জন্মতারিখ

    ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১১

    পলাতকদের বদলে সারের নতুন ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ

    পলাতকদের বদলে সারের নতুন ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ

    ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩২

    নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৪৬৯

    নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৪৬৯

    ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫০

    পাওয়া যাচ্ছে আগাম শিম, কেজি ১৬০

    পাওয়া যাচ্ছে আগাম শিম, কেজি ১৬০

    ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৯

    বিদ্যুৎ-সারের দাবিতে বাসদের সমাবেশে বিএনপির হামলার অভিযোগ

    বিদ্যুৎ-সারের দাবিতে বাসদের সমাবেশে বিএনপির হামলার অভিযোগ

    ২৮ আগস্ট ২০২৬, ২০:০৩

    চাঁদপুরের সেই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে পরিবারসহ পাওয়া গেল চট্টগ্রামে

    চাঁদপুরের সেই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে পরিবারসহ পাওয়া গেল চট্টগ্রামে

    ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩:১০

    ভারত কেন ক্ষেপণাস্ত্রের গোপনীয় তথ্য বেসরকারি কোম্পানিকে দিচ্ছে

    ভারত কেন ক্ষেপণাস্ত্রের গোপনীয় তথ্য বেসরকারি কোম্পানিকে দিচ্ছে

    ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:১০

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে ডুবে পাঁচ শিশুর মৃত্যু

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে ডুবে পাঁচ শিশুর মৃত্যু

    ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৪৩

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পর আরব বিশ্বের পরিস্থিতি কী

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পর আরব বিশ্বের পরিস্থিতি কী

    ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৪২

    বই খুলে পরীক্ষা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা, ভিডিও করায় সাংবাদিকদের মারধর

    বই খুলে পরীক্ষা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা, ভিডিও করায় সাংবাদিকদের মারধর

    ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৪০

    উন্নয়নের গল্প নয়, চার কোটি বেকারের কর্মসংস্থান চায় যুব ইউনিয়ন

    উন্নয়নের গল্প নয়, চার কোটি বেকারের কর্মসংস্থান চায় যুব ইউনিয়ন

    ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৯:০৮

    চাকরির বদলে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি, যেভাবে ফিরলেন রাজন

    চাকরির বদলে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি, যেভাবে ফিরলেন রাজন

    ২৮ আগস্ট ২০২৬, ২১:৪৭

    নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, পরে গ্রেপ্তার ১৪

    নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, পরে গ্রেপ্তার ১৪

    ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৫৩

    খাল খননে হরিলুট, শ্রমিকদের মজুরি না দিয়েই কোষাগারে টাকা ফেরত ইউএনওর

    খাল খননে হরিলুট, শ্রমিকদের মজুরি না দিয়েই কোষাগারে টাকা ফেরত ইউএনওর

    ২৮ আগস্ট ২০২৬, ২২:১৭

    আগামী বছর মিয়ানমারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ শুরু করবে রাশিয়া

    আগামী বছর মিয়ানমারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ শুরু করবে রাশিয়া

    ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৩৯

    advertiseadvertise