আগামীর চোখ
এমপি পরিবারের শিক্ষা অনুরাগ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রিয়
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, মর্ত্যলোক
পরম আশীর্বাদ জানিবে। স্বর্গলোকের শীতল শান্তিতে থাকিয়াও সম্প্রতি ময়মনসিংহের গফরগাঁও অঞ্চলের একটি সংবাদ পাঠ করিয়া মম হৃদয়খানি চরম ব্যাকুল হইয়া উঠিল। সংবাদটি পাঠান্তে বুঝিতে পারিলাম, বঙ্গদেশে আজকাল ‘বিদ্যার অনুরাগ’ আর মানুষের হৃদয়ে অবস্থান করে না; তাহা এখন কেবল এমপির পরিবারস্থ স্ত্রী ও ভ্রাতার নিজস্ব মহালোকে বসতি করিতেছে!
আমাদের আমলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটিতে ‘বিদ্যানুরাগী’ পদে স্থান পাইতেন সেই সকল প্রবীণ ও নির্লোভ গুণিজন, যাহারা পকেটের অর্থ ব্যয় করিয়া বিদ্যার দীপ জ্বালাইতেন। আর বর্তমান শতকে গফরগাঁওয়ে দেখিলাম, এমপি বাচ্চু সাহেবের সহধর্মিণী ও ভ্রাতৃদেব একাই চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একচ্ছত্র আধিপত্যে পরিচালনা করিতেছেন! ভোটের কোনো উপদ্রব নাই, পরামর্শের কোনো জঞ্জাল নাই— একই পরিবারে একের পর এক সভাপতির পদ আসিয়া লুটাইয়া পড়িতেছে। শিক্ষা বোর্ডের পরিপত্র নাকি আবার দুইটির বেশি প্রতিষ্ঠানে সভাপতি হইতে বারণ করে না! হায়, আইন কাহাকে বলে!শুনিয়াছিলাম, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মাধ্যমে তুমি মর্ত্যে ‘আলোকিত মানুষ’ গড়িবার মহাব্রত লইয়াছ। কিন্তু বর্তমান ব্যাকরণ প্রণেতারা প্রমাণ করিয়াছেন— শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল আকর্ষণ এখন আর জ্ঞানার্জন নহে, বরঞ্চ শিক্ষক নিয়োগের অদৃশ্য বাণিজ্য, ভবন নির্মাণের টেন্ডারবাজি এবং এলাকা জুড়ে পরাক্রমশালী মাতব্বরি! অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতিনিধি নির্বাচন এখন অলীক রূপকথা; আসল কথা হইল মোসাহেবদের দ্বারা প্রস্তুত ‘পকেট কমিটি’। রাজনীতির এমনই মোহ যে, দলীয় পদবঞ্চিত যুবদলের নেতারাও এখন আক্ষেপ করিয়া বলিতেছেন— তাহারা নাকি নির্যাতিত হইয়াও পকেট কমিটির দাপটে বঞ্চিত!
বঙ্গদেশে আজকাল ‘বিদ্যার অনুরাগ’ আর মানুষের হৃদয়ে অবস্থান করে না
হে সায়ীদ, তোমরা মিছামিছি পুস্তক হাতে তরুণদের দ্বারে দ্বারে ঘুরিতেছ। গফরগাঁওয়ের এমপি পরিবারের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করো— কীভাবে কোনো প্রকার নির্বাচন ছাড়াই ব্যাকগ্রাউন্ড প্রভাবে একের পর এক কলেজের অ্যাডহক কমিটি হইতে পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ দখল করা যায়! বিদ্যানুরাগী হওয়ার জন্য এখন বিদ্যার প্রয়োজন হয় না, কেবল এমপির আত্মীয় হওয়াটাই চরম ও পরম যোগ্যতা। মর্ত্যের এই বিচিত্র তামাশা দেখিয়া স্বর্গে বসিয়া আমি শিক্ষার প্রাচীন লড়াকু আন্দোলন লইয়া কিঞ্চিৎ লজ্জিত বোধ করিতেছি। শিক্ষা সংস্কার করিতে গিয়া অযথা কত শ্রমই না ব্যয় করিয়াছিলাম! বিদ্যানুরাগী শব্দটিকে অবিলম্বে অভিধান হইতে ছাঁটাই করিয়া ‘এমপির অনুরাগী’ শব্দটি সংযোজন করার জোর সুপারিশ জানাইতেছি।
ইতি
তোমাদের পরলোকগত, ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা (বিদ্যাসাগর)






