আগামীর চোখ
কলেজে সবই স্বয়ংক্রিয়!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
সিনিয়র সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ
কুমিল্লার লাকসামের নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আমি। এ কলেজ জনবল সংকটে ভুগছে। জোড়াতালি দিয়ে চলছে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষকের ৬৫টি পদের মধ্যে ২৫টিই শূন্য। আমরা সাধারণ অভিভাবকরা ভাবতাম, কলেজে পাঠদানে অনেক শিক্ষক লাগে, একটা বিভাগ সচল রাখতে বহু কর্মচারী লাগে; কিন্তু আপনার আওতাধীন কলেজটি যা করে দেখাচ্ছে, তা আমাদের ভাবনা তো বটেই, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার সমস্ত তত্ত্বকে ভুল প্রমাণ করে দিয়েছে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর কীর্তিটি ঘটেছে ইংরেজি বিভাগে। এ বিভাগে ৪ হাজার ৭৩৭ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে! মানে একাদশ, দ্বাদশ, ডিগ্রি ও অনার্সে একজন শিক্ষকই ইংরেজির ক্লাস নেন! এখন এক শিক্ষক কীভাবে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে সামলান, তা দেখার জন্য গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের প্রতিনিধিদের দ্রুত লাকসামে পাঠানো উচিত। আমি দেখতে যাওয়ার সাহস করলাম না। ধারণা করি, তিনি সুপারম্যান হবেন।
এখানে শিক্ষক ও কর্মচারী ছাড়া নিজ দায়িত্বে শিক্ষাজীবন অতিবাহিত করতে হবে
পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণিবিজ্ঞানের মতো জটিল বিভাগের ল্যাবরেটরিগুলোর অবস্থা আরও শোচনীয়; ল্যাব প্রদর্শকের তিনটি পদই শূন্য! তবে পরীক্ষা কিন্তু বন্ধ হয়নি! পরীক্ষায় কী আসে যায়! বিজ্ঞানের যুগে মানুষ যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ব্যস্ত, তখন কলেজটি আরও এক ধাপ এগিয়ে— প্রদর্শক ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ল্যাব চালিয়ে নিচ্ছে! ভাবা যায়!
কর্মচারী সেকশনের অবস্থা তো আরও খারাপ। ২৮টি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদের মধ্যে ২৩টিই ফাঁকা! মাত্র ৫ জন কর্মচারী দিয়ে বিশাল এ সাম্রাজ্য সামলাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি এমন— শিক্ষার্থীদেরই ঝাড়ু-মোছার দায়িত্ব তুলে নিতে হবে। এটাও অবশ্য মন্দ নয়, ‘কর্মমুখী শিক্ষা’র ক্লাস হয়ে যাবে এক ফাঁকে।
অনেক কথাই বললাম। মূল কথায় আসি। অনুগ্রহ করে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী সংকট দূর করুন। আমাদের সন্তানদের নিয়ে আমরা সত্যিই চিন্তিত। তা ছাড়া আপনি যদি সত্যিই চান, লাকসামের সন্তানরা পড়াশোনা শিখুক, তাহলে এ নিয়োগগুলো দেওয়া অতি জরুরি। আর যদি তা না পারেন, তাহলে কলেজের সামনে একটি বড় ব্যানার টাঙিয়ে দিন— ‘এখানে শিক্ষক ও কর্মচারী ছাড়া নিজ দায়িত্বে শিক্ষাজীবন অতিবাহিত করতে হবে, কর্তৃপক্ষ নাই।’ তাহলে কলেজে ভর্তি করানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আমার মতো অভিভাবকদের সুবিধা হবে।
ইতি
শঙ্কিত এক অভিভাবক



