আগামীর চোখ
ভোগান্তি প্রকল্প

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
প্রশাসক, রাজশাহী সিটি করপোরেশন
রাজশাহী নগরবাসী বহুদিন ধরে শুনে আসছিলেন— চারটি ফ্লাইওভার হবে। যানজট কমবে, জীবন হবে সহজ, গাড়ি চলবে বাতাসের বেগে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ফ্লাইওভারগুলো এখন অনেকটা সেই দূরের আত্মীয়ের মতো শুধু আসব আসব বলেন। দুই বছর পার হয়ে গেছে, কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে; কিন্তু ফ্লাইওভারগুলো এখনো মানুষের কল্পনার ওপর দিয়েই চলাচল করছে। বাস্তবে চালু হয়নি একটিও।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মানুষ এখন বুঝতে শিখেছে, ফ্লাইওভার আসলে যানজট কমানোর জন্য নয়, ধৈর্য পরীক্ষার জন্য নির্মিত হয়। কোথাও রাস্তা অর্ধেক, কোথাও পুরোপুরি বন্ধ; কোথাও আবার গর্তের এমন সমারোহ মনে হয় সিটি করপোরেশন নয়, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ খনন চালাচ্ছে।
ফ্লাইওভারগুলো এখনো মানুষের কল্পনার ওপর দিয়েই চলাচল করছে
আসলে রাজশাহীর এই চার ফ্লাইওভার এখন উন্নয়নের চেয়ে লোককাহিনির অংশ হয়ে উঠেছে। দাদিরা নাতিদের ঘুম পাড়ানোর সময় বলেন, ‘এক ছিল রাজা, এক ছিল রানী... আর একদিন চালু হবে চারখানা ফ্লাইওভার।’ নাতিরা গল্প শুনে বড় হয়ে যায়; গল্পের আর শেষ হয় না।
প্রকল্পের প্রকৌশলীরা অবশ্য আশাবাদী। তারা বলেছেন, কাজ চলছে। এই ‘চলছে’ শব্দটি বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী। পদ্মার পানি শুকিয়ে যেতে পারে, আমের মৌসুম শেষ হতে পারে, নির্বাচন হয়ে যায়; কিন্তু ‘কাজ চলছে’ বাক্যটি অমর।
এদিকে নগরবাসীর অবস্থা এমন হয়েছে যে, তারা এখন যানজটকে আর যানজট ভাবেন না। ভাবেন, এটি উন্নয়নের আলিঙ্গন। কারণ, উন্নয়ন তাদের এত শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে যে নড়াচড়ার উপায় নেই।
রাজশাহীর ব্যবসায়ীরাও নতুন অর্থনীতি আবিষ্কার করেছেন। আগে দোকানে গ্রাহক আসত। এখন আসে ধুলাবালি। ফলে ঝাড়ু বিক্রির সম্ভাবনা বেড়েছে। কেউ কেউ হয়তো ভাবছেন, দোকানের নাম বদলে ‘ফ্লাইওভার ভিউ রেস্টুরেন্ট’ রাখবেন। যেহেতু দৃশ্যপট সবসময় নির্মাণাধীন, তাই একঘেয়েমির ভয় নেই।
মজার বিষয় হলো, প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল জনভোগান্তি কমানো। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, ভোগান্তিই প্রকল্পকে চালু রেখেছে। ভোগান্তি না থাকলে মানুষ বুঝবে কীভাবে উন্নয়ন হচ্ছে?
অবশ্য আশার কথা, একদিন না একদিন ফ্লাইওভারগুলো চালু হবেই। তখন রাজশাহীর মানুষ আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাবে। হয়তো বিশেষ ছুটিও ঘোষণা হবে। হয়তো স্কুলের বইয়ে নতুন অধ্যায় যোগ হবে— ‘চার ফ্লাইওভারের মহাকাব্য’!
ইতি
জনৈক নগরবাসী







