আগামীর চোখ
‘ছোট’ দাউদ ইব্রাহিম

বরাবর
বড় সাজ্জাদ,
জানমাল নিয়ে বেকায়দায় আছি। বাপজানের রেখে যাওয়া দোতলা বাড়িটার বয়স হওয়ায় নতুন করে কাজে হাত দিয়েছিলাম। কোত্থেকে দুই পাতি মাস্তান এসে বলল, ‘বাড়ি করছেন শুনে সাজ্জাদ ভাই সালাম দিয়েছেন।’ জবাবে বললাম, ‘ওয়ালাইকুম সালাম পৌঁছে দিয়েন।’ ওরা বলল, ‘শুধু উত্তর দিলে হবে না; ভাইকে সালামিও দিতে হবে। নইলে ভাই রাগ করবেন।’ ভাবনায় পড়ে গেলাম। চিনি না, জানি না; লোক পাঠিয়ে সালাম দিল, আবার সালামি চায়! গুগল করার পর মনে হলো, আপনার জীবনী নিয়ে একটা থিসিস পেপার লিখি। কিন্তু তার আগে থানায় যাওয়ার তাগিদ অনুভব করলাম। পুলিশ অফিসার বললেন, সর্বনাশ! বললাম, এখনো হয়নি, আপনি কিছু না করলে হয়ে যাবে।
তারপর দিন যত যায়, পাতি মাস্তানদের উৎপাত বাড়ে। ওদিকে পুলিশের এককথা, আমরা দেখছি। বিরক্ত হয়ে একদিন বলেই বসলাম, ‘থাক, বাদ দিন। নিরাপত্তা চেয়ে সাজ্জাদ সাহেবকেই চিঠি দিচ্ছি।’ সেই ভাবনা থেকে আজকের এ চিঠি লেখা।
অনেক বছর ধরে শুনছি, বিদেশে বসে ভারতের আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করেন দাউদ ইব্রাহিম। আর বাংলাদেশের আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ে শুনতাম, জেলে বসে অমুক এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছেন তমুক। কেমন যেন দারিদ্র্যের ছাপ। কিন্তু আপনি আমাদের আন্ডারওয়ার্ল্ডের উন্নতি ঘটিয়েছেন। বিশ্বায়ন করিয়েছেন। বিদেশের মাটিতে বসে স্যাটেলাইট ফোন কখনো হোয়াটসঅ্যাপ কলে নিয়ন্ত্রণ করছেন বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। একেবারে হোম অফিস যাকে বলে।
এ উন্নতির স্বীকৃতিস্বরূপ আপনাকে যদি ‘দাউদ ইব্রাহিম লাইট’ বলি, তাহলে কি মাইন্ড করবেন বস? মাইন্ড করবেন না। মাইন্ড করলে সাইন করতে পারবেন না। অবশ্য আন্ডারওয়ার্ল্ড খাতে সাইন করার আর কিছু বাকি নেই আপনার। খুন, জখম, অপহরণ, চাঁদাবাজিতে একেবারে মাস্টার লেভেলের দক্ষতা। ফিল্মিস্টাইলে খুন করায় আপনার বাহিনীর জুড়ি মেলা ভার। তার ওপর আধিপত্য বিস্তার সহজ করতে নিজ বাহিনীকে ভাগ করে দিয়েছেন তিনটি জোনে! আপনাকে আর পায় কে! পুলিশের জন্যই বরং মায়া হচ্ছে।
আপনার যে সাম্রাজ্য আর লোকলশকর দাঁড়িয়েছে, তাতে চট্টগ্রাম শহরের নিরাপত্তার দায়িত্বটা আপনি ঘাড়ে তুলে নিতেই পারেন। তাতে পুলিশের ওপর চাপটা একটু কমে আর কি! আর আমরা ছাপোষা মানুষরাও একটু স্বস্তিতে বাঁচি। নিজের সারা জীবনের অর্জিত সামান্য অর্থটুকু দিয়ে মাথা গোঁজার একটা ছাদ নির্বিঘ্নে তুলতে পারি। দায়িত্বটা এবার নিয়েই নিন।
ইতি
চাটগাঁবাসী অসহায় বাড়িওয়ালা




