আগামীর চোখ
নেতাকর্মী মোটাতাজাকরণ

প্রিয়
এলজিআরডি মন্ত্রী,
কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে এলে সংবাদমাধ্যমও যেন গোষ্পদে ভরে ওঠে। পরম যত্নে মোটাতাজা করা বিশাল সাইজের একেকটি গরু নিয়ে ক্যামেরায় পোজ দেন খামারি। তাদের নামও হয় বাহারি। কারও নাম সম্রাট, তো কারও নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প! দেশ ছাড়িয়ে একেবারে মার্কিন মুল্লুকে ঢুকে পড়া, ভাবা যায়! এক্ষেত্রে অবশ্য ট্রাম্প ক্ষেপে মাদুরোর মতো তুলে নেননি। তবে এখন যাদের সম্পর্কে আপনাকে নালিশ করতে যাচ্ছি, তারা পরিচয় পেলে মাদুরো স্টাইলে নিয়েও যেতে পারে। তারা সরকারি দলের নেতা। তাদেরও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো মোটাতাজা করা হচ্ছে। পার্থক্য হলো, খামারের বদলে তাদের কোরবানির হাটে মোটাতাজা করা হচ্ছে। মানে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে কোরবানির হাটের ইজারা বাগিয়ে নিয়েছেন তারা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ইজারার চিত্র দেখলেই তার প্রমাণ পাবেন। এবার ডিএনসিসি ১০টি হাটের ইজারা চূড়ান্ত করেছে। প্রায় সব কটি হাটের ইজারা পেয়েছেন সরকারি দলের নেতারা। এই যেমন উত্তরার দিয়াবাড়ি ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টর-সংলগ্ন বউবাজার এলাকার হাটের ইজারা পেয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও এসএফ করপোরেশনের মালিক শেখ ফরিদ হোসেন। ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-সংলগ্ন হাটের ইজারা পেয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা কম দামে ইজারা নিচ্ছেন। ফলে সরকারের আয় কমছে এবং সেটা সরকারদলীয় এসব নেতাকর্মীর কারণেই।
এই বেয়াড়া নেতাকর্মীদের কাবু করতে না পারলে, অন্তত তাদের কীর্তির ফিরিস্তি লিখে পশুর হাটে ব্যানার টাঙিয়ে দিন
এভাবে শুধু রাজধানী নয়, কমবেশি সারা দেশের পশুর হাটেই সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে এবার। দেশের বহু জায়গায় স্থানীয় নেতাদের চাপে সাধারণ ইজারাদাররা দরপত্রও জমা দিতে পারেননি। সিন্ডিকেটের প্রভাবে কোথাও কোথাও গত বছরের তুলনায় এ বছর এক-তৃতীয়াংশ মূল্যে পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী মহোদয়, এমন অনিয়ম যদি চলতে থাকে আর আপনি যদি দেখেও না দেখেন, তাহলে আপনার দলের লোকেরা হয়তো মোটাতাজা হবে; কিন্তু আপনার সরকারের তহবিল শুষ্কং কাষ্ঠং হয়ে যাবে। আর রাষ্ট্রের চেহারা কৃষকের ওই হাড্ডিসার গরুটির মতো হবে, যে গরুটি কৃষক ঋণের দায়ে কোরবানির হাটে তুলবেন হয়তো। এই বেয়াড়া নেতাকর্মীদের কাবু করতে না পারলে, অন্তত তাদের কীর্তির ফিরিস্তি লিখে পশুর হাটে ব্যানার টাঙিয়ে দিন। এতে জনগণ জানতে পারবে, কর দেওয়ার চেয়ে দলীয় রাজনীতি করা কতটা লাভজনক।
ইতি
একজন উন্নয়নকামী নাগরিক






