আগামীর চোখ
আমরা আসছি স্বর্ণ-গয়না বাইরে রাখুন

প্রিয়
ডিএমপি কমিশনার,
সালাম নেবেন। নিশ্চয়ই মোহাম্মদপুরের ঘটনা আপনি শুনেছেন। ঈদের ছুটি শেষে গ্রাম থেকে ফিরে মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডের বাসার সামনেই গভীর রাতে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন দুই নারী। ঘটনাটি আপনার কান পর্যন্ত পৌঁছাত না, আপনিও বিব্রত হতেন না। পাশের ভবনের বেরসিক মালিক তার ভবনে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে রেখেছিলেন। এতেই যত বিপত্তি। ফেসবুক হয়ে সংবাদমাধ্যমের কলমের ডগায় চলে এলো ঘটনা। মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ হয়ে উঠল ব্যতিব্যস্ত। পেছন থেকে হয়তো আপনিই খেদিয়ে চলেছেন তাদের। পালের গোদা বলে কথা, অর্থাৎ বড় কর্তা; দায় এসে পড়েছে ঘাড়ে। আপনার অবস্থা হয়েছে স্কুলের সেই দুরন্ত ছাত্রের মতো, যে পড়াশোনা ছাড়া বাকি সব কম্মই সম্পাদন করে বছর জুড়ে। ফলে প্রত্যাশিতভাবেই বার্ষিক পরীক্ষার দিন পাস নাম্বার তুলতেই ত্রাহি অবস্থা হয় তার। আপনার ডিপার্টমেন্টের অবস্থাও একই। সারা বছর অপরাধীদের নেটওয়ার্ক অটুট রেখে শরীরে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়ান, তারপর এ রকম বড়সড় কিছু ঘটলে কালঘাম ছুটে যায়। তখন পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে কিছুই কমন পড়ে না।
আপনার অবস্থা হয়েছে স্কুলের সেই দুরন্ত ছাত্রের মতো, যে পড়াশোনা ছাড়া বাকি সব কম্মই সম্পাদন করে বছর জুড়ে
দুই বছর ধরে মোহাম্মদপুর এলাকার আইনশৃঙ্খলার যা পরিস্থিতি দেখছি, তাতে এ থানাকে অপরাধীদের অভয়ারণ্য ঘোষণা করে দিলেই পারেন। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ক্ষেত্রে যেমনটি হয় আর কি। মোহাম্মদপুরের ছিনতাইকারীদের যেহেতু কোনোভাবেই বাগে আনতে পারছেন না, সেক্ষেত্রে এ পথটাই খোলা রইল। টাউনহলের সামনে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে লিখে দিন, ‘এদিকে যাবেন না। ছিনতাই হলে ডিএমপি কোনোভাবেই দায়ী থাকবে না।’
এতদিন দেখেছি, সুনসান রাস্তা কিংবা অন্ধকার গলির মুখে পথ আটকে ছিনতাই হচ্ছে, তাও যত দ্রুত সম্ভব চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করছে ছিনতাইকারীরা। কিন্তু মোহাম্মদপুরের ঘটনায় ছিনতাইকারীদের মধ্যে কোনো ভয় বা আতঙ্কের ছাপ ছিল না। আলো ঝলমলে রাস্তায় ভিকটিমের বাসার সামনেই ধীরেসুস্থে সব ছিনিয়ে নিল তারা। এতটা সাহস তারা পায় কোথায়? লোকে তো বলে, শহরের একটি গাছের পাতাও আপনাদের অগোচরে নড়ে না।
এককালে গ্রামগঞ্জের ডাকাতরা যে বাড়িতে ডাকাতি করবে বলে ঠিক করত, সে বাড়ির প্রধানকে চিঠি লিখে বলত, ‘অমুক তারিখ রাত ২টার সময় আসব, দরজা খোলা রাখবেন এবং স্বর্ণ-গয়না বের করে রাখবেন।’ সমস্যার মূলে যদি কুঠারাঘাত না করেন, তাহলে দ্রুতই মোহাম্মদপুরবাসীও ছিনতাইকারীর চিঠি পেতে শুরু করবেন।
ইতি
আতঙ্কিত এক মোহাম্মদপুরবাসী




