আগামীর চোখ
অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রিয়
পরম শ্রদ্ধেয় দ্বাদশ শিক্ষকবৃন্দ
প্রথমেই আপনাদের চরণে শতকোটি সালাম। অতঃপর সেই অকুতোভয়, হিমালয়দৃঢ় মানসিকতার অধিকারী একমাত্র ছাত্র সঞ্জীব বর্মণকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা জানাতে চাই। ভেবে দেখুন, যেখানে সারা দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থী গড্ডলিকা প্রবাহে ভেসে পাস করে যায়, সেখানে এই ছেলেটি সম্পূর্ণ একা! একটা আস্ত কলেজ ভবনে সে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো একা একা জ্ঞান অন্বেষণ করেছে। ক্লাসরুমে কোনো বেঞ্চ কাড়াকাড়ির মারামারি নেই, প্রক্সি দেওয়ার টেনশন নেই, শিক্ষকের চোখ
তার চেয়েও বড় বীরত্ব হলো, মাথার ওপর তলোয়ারের মতো ঝুলে থাকা ১২ জন শিক্ষকের ২৪টি চোখকে ফাঁকি দেওয়া! আমাদের ছোটবেলায় একজন শিক্ষক সামনে দাঁড়ালেই যেখানে পিলে চমকে যেত, সেখানে এই ছেলে প্রতিদিন গড়ে ১২ জন বিজ্ঞ শিক্ষকের মুখোমুখি হয়েছে। প্রেশারটা একবার ভাবুন!
শিক্ষা মন্ত্রণালয় চাইলে এই মডেল বিশ্বদরবারে বাজারজাত করতে পারে
তবে এ ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির দূরদর্শিতাকে কুর্নিশ না করে পারা যায় না। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত নিয়ে বিশ্ব জুড়ে কত গবেষণা, কত আলোচনা হয়। উন্নত বিশ্বে যেখানে ৩০ জন ছাত্রের জন্য একজন শিক্ষক থাকে, সেখানে আমাদের এই মহান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পৃথিবীর সব রেকর্ড ভেঙে একজন ছাত্রের জন্য ১২ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে বসে আছে! এমন বৈপ্লবিক ‘ওয়ান-টু-টুয়েলভ’ রেশিও অক্সফোর্ড বা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ও কোনোদিন কল্পনা করতে পেরেছে? শিক্ষা মন্ত্রণালয় চাইলে
তবে ভাগ্যহত সঞ্জীবের জন্য আমার করুণা হচ্ছে। বেচারা ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ পায় নাই, কারণ সে না এলে ক্লাসটিই যে শূন্য হয়ে যেতো! ১২ জোড়া চোখের কড়া নজরদারিতে থেকেও যে ছেলেটি সাহসের সঙ্গে ফেল করতে পারে, তার দক্ষতাকে স্যালুট জানাতেই হয়। আপনারা ১২ জন মিলেও তার কিছুই করতে পারলেন না, সে একাই আপনাদের বারোটা বাজিয়ে দিল।
সবশেষে সরকারের কাছে আমার বিনীত আবেদন, এই গৌরবময় প্রতিষ্ঠানটিকে যেন কোনোভাবেই বন্ধ বা এমপিওভুক্তির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া না হয়; বরং এই ১২ জন শিক্ষককে ‘ধৈর্য ও সহনশীলতা’ ক্যাটাগরিতে বিশেষ রাষ্ট্রীয় পদক দেওয়া হোক! আর সেই কালজয়ী ছাত্রটিকে ‘জাতীয় ফেল মেডেল’ দিয়ে উৎসাহিত করা হোক।
ইতি
আমােদর শিক্ষাব্যবস্থার এক মুগ্ধ দর্শক



