আগামীর চোখ
ছিনতাইকারীর সাম্য

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার পর দেশ পরিচালনার ভার এখন আপনার কাঁধে। আপনার একজন অনুরাগী হিসেবে রাষ্ট্রের শীর্ষ আসনে আপনাকে দেখে আমি যারপরনাই আনন্দিত। সাম্প্রতিক একটি খবরের শিরোনাম পড়ে আনন্দের জায়গায় কিছুটা উদ্বেগ এবং রসবোধ জাগ্রত হলো। আগে ঘটনার ডিটেইলসে যাই। সংবাদসূত্রে জানলাম, আপনার খালাতো ভাই তাসীন আক্তার হক ডেল সাহেবের পেট্রল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিনদুপুরে রাজধানীর উত্তরা থেকে ছিনতাই হয়ে গেছে। তাও আবার র্যাব-১ ব্যাটালিয়ন সদরদপ্তরের ঠিক দক্ষিণ পাশে! র্যাব কী করছে, জানি না। তবে টাকা উদ্ধারে পুলিশ মোটামুটি আদাজল খেয়ে নেমেছে। কিন্তু বেচারাগণ এখন পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজ থেকে মোটরসাইকেলের অস্পষ্ট নম্বর প্লেটের নম্বর উদ্ধার করতে পারেনি। ছিনতাইকারীর টিকির নাগাল পাওয়া তো অনেক দূরের ব্যাপার। ছিনতাইকারীরাও যে খুব স্বস্তিতে রয়েছে এমন নয়। ভিকটিমের পরিচয় জানার পর হয়তো টাকার ব্যাগ নিয়ে পাম্পের আশপাশে ঘুরছে ফেরত দেওয়ার জন্য! মুখফুটে বলতে পারছে না।
ভিকটিমের পরিচয় জানার পর হয়তো টাকার ব্যাগ নিয়ে পাম্পের আশপাশে ঘুরছে ফেরত দেওয়ার জন্য
ছিনতাইয়ের খবর পড়ার পর ভক্ত হিসেবে দুশ্চিন্তায় আছি। আমরা লক্ষ করেছি, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আপনি জনবান্ধব কায়দায় প্রটোকল শিথিল করে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করছেন। ভাবুন তো একবার, আপনি হয়তো একদিন রাজধানীর কারওয়ান বাজারের জ্যাম ঠেলে হাসিমুখে হাত নাড়তে নাড়তে যাচ্ছেন। জনতাকে ভালোবেসে জানালার কাচ নামিয়ে হাত বাড়ালেন। হঠাৎ এক জাঁদরেল টানাপার্টির লোক এসে আপনার হাতঘড়িটি খুলে নিয়ে হাওয়া হয়ে গেল! প্রটোকলের গাড়িবহর বুঝে ওঠার আগেই সে চম্পট। পরে হয়তো পুলিশ কারওয়ান বাজারের অর্ধশতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে গম্ভীর মুখে বিবৃতি দেবে, ‘তদন্তে বেশ অগ্রগতি হয়েছে, তবে ছিনতাইকারীর মুখাবয়ব অস্পষ্ট দেখা যাচ্ছে!’
দুর্মুখেরা অবশ্য বলে, এ দেশে হাই প্রোফাইল ব্যক্তিরা যে সিকিউরিটি নিয়ে ভেঁপু বাজিয়ে চলাফেরা করেন, তার অন্যতম কারণ ছিনতাইকারীদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া। এসব ছেঁদো কথায় কান না দিলেও অবস্থা যে গুরুতর, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তির নিকটাত্মীয় হোক কিংবা সাধারণ মানুষ– ওদের চোখে সবাই সমান।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার জনবান্ধব হতে চাওয়ার বাসনা ও যথাসম্ভব প্রটোকলহীন চলাফেরার চমৎকার অভ্যাসটি শুধু আমাকে নয়, দেশবাসীকেও মুগ্ধ করে। আমরাও সারাক্ষণ ছিনতাইয়ের ভয় নিয়ে থাকতে চাই না। নিজের কষ্টার্জিত টাকার ব্যাগটি হাতে নিয়ে নির্ভয়ে হেঁটে যেতে চাই রাজধানীর বুকে। নিশ্চয় এমন দৃশ্য আপনিও দেখতে চান?
বিনীত
আপনার এক অনুরাগী




