সিনেমার গ্যাংস্টার চরিত্রও প্রভাব রাখছে

প্রতীকী ছবি
হাতে অস্ত্র, চোখে কালো সানগ্লাস, চারপাশে অনুসারীর ভিড়— আশপাশের সবাই দেখছে সমীহর দৃষ্টিতে। সিনেমার পর্দায় গ্যাংস্টাররূপী এমন নায়কের দৃশ্য যখন কোনো কিশোরের বাস্তব জীবনের আদর্শ হয়ে ওঠে, তখন এর পরিণতি হয় অত্যন্ত ভয়াবহ।
বর্তমান সময়ের অনেক সিনেমা, ওয়েব সিরিজ ও অনলাইন কনটেন্টে অপরাধজগতের ‘বস’ বা গ্যাংস্টারকে মূল নায়ক হিসেবে গ্লোরিফাই করা হচ্ছে। এসব চরিত্রের ক্ষমতা, প্রতিশোধ ও অস্ত্রের দাপটকে এতটাই আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয় যে, তাদের অপরাধের কালো দিকটি আড়ালে পড়ে যায়। ফলে কিশোররা সেই রুপালি পর্দার নায়কের পোশাক, ভাষা ও হিংস্র আচরণ অনুকরণ করতে শুরু করে।
কৈশোর হলো নিজেকে গড়ার সময়। এই বয়সে ভুল আদর্শ বেছে নেওয়া খুব সহজ। পর্দায় অপরাধী চরিত্রকে শক্তিশালী ও জনপ্রিয় হতে দেখে কিশোরদের মনে ধারণা জন্মায়, ‘ক্ষমতাবান হতে হলে এমনই হতে হবে।’ এই ভুল ধারণা থেকেই শুরু হয় বিপজ্জনক পথচলা। প্রথমে বন্ধুদের নিয়ে দল গঠন, এলাকায় দাপট তৈরি, মারামারি আর গ্যাং কালচারের বিস্তার— যার শেষ পরিণতি হয় বাস্তব অপরাধচক্রে জড়িয়ে পড়া। যে কিশোর পর্দার নায়ক হতে চেয়েছিল, সে শেষ পর্যন্ত অপরাধজগতের হাতিয়ার হয়ে ওঠে।
তবে সমাধান সিনেমা বা কনটেন্ট বন্ধ করে দেওয়া নয়; বরং গল্প বলার ধরন বদলানো। একজন গ্যাংস্টারের বাহ্যিক চাকচিক্যের অন্তরালে তার করুণ পরিণতি, পরিবার হারানোর যন্ত্রণা, জেলজীবন ও সামাজিকভাবে পতনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে হবে।
পাশাপাশি অভিভাবকদের সন্তানের ওপর বন্ধুত্বপূর্ণ নজরদারি বাড়াতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও কাউন্সেলিংয়ের সুযোগ বৃদ্ধি করা জরুরি। একইভাবে নির্মাতা, শিল্পী ও গণমাধ্যমকর্মীদেরও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে হবে।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী, নারায়ণগঞ্জ




