চাই বাস্তবমুখী পরিকল্পনা

ফাইল ছবি
শিল্পের চাকা সচল রাখা কিংবা নাগরিক জীবনের স্বস্তি— সবখানেই আজ হাহাকার। বাংলাদেশের বর্তমান গ্যাস সংকট কেবল কোনো জ্বালানি বিপর্যয় নয়; বরং তা জাতীয় জীবনের এক অদৃশ্য স্থবিরতার প্রতিচ্ছবি। যে নীল শিখা এতদিন এ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধমনি সচল রেখেছিল, কোটি মানুষের উনুনে ফুটিয়েছিল অন্ন, আজ তা নীতিগত ব্যর্থতার দরুণ নিভু নিভু।
এই তীব্র সংকট কোনো আকস্মিক দুর্যোগ নয়; বরং দীর্ঘদিনের ত্রুটিপূর্ণ নীতি, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে অনাগ্রহ, অতিরিক্ত আমদানি-নির্ভরতা ও ডলার সংকটের পুঞ্জীভূত ফল। বর্তমানে দেশে দৈনিক ৩৪০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মাত্র ২০০-২১৫ কোটি ঘনফুট, যা প্রায় ৪০ শতাংশ ঘাটতি তৈরি করেছে।
এই আবর্ত থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় বাস্তবমুখী ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে দ্রুত স্থলভিত্তিক টার্মিনাল স্থাপন জরুরি। একই সঙ্গে দৃষ্টি ফেরাতে হবে নিজের মাটির দিকে। ‘বাপেক্স’-কে আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করে স্থলভাগ ও গভীর সমুদ্রে ব্যাপক অনুসন্ধান চালাতে হবে, পুনরুজ্জীবিত করতে হবে পুরনো কূপ। কঠোর হস্তে রুদ্ধ করতে হবে অবৈধ সংযোগ ও অপচয়। পাশাপাশি একক নির্ভরতা কমিয়ে সৌর ও বায়ুর মতো নবায়নযোগ্য শক্তিকে মূলধারায় আনতে হবে।
পরনির্ভরতার শৃঙ্খল ভেঙে যেদিন আমরা জ্বালানিতে স্বনির্ভর হতে পারব, সেদিনই কারখানায় ফিরবে গতি, উনুনে জ্বলবে তৃপ্তির নীল শিখা। তারপর আমরা স্বনির্ভর বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যেতে পারব। সেই স্বনির্ভর আগামীর প্রতীক্ষায় রয়েছে দেশের আপামর জনগণ।
লেখক: কবি ও সাহিত্যিক, চট্টগ্রাম







