হরমুজে ছাড় নয়, পরমাণু কেন্দ্র পরিদর্শনেও না
- বৈঠক শেষ, ১২ বিলিয়ন ডলারের জব্দ অর্থ ফেরতেও রাজি ওয়াশিংটন
- এশিয়ার পথে ৩০টিরও বেশি তেলবাহী ইরানি ট্যাংকার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
‘প্রাণ দাও, কিন্তু মাথা নয়’— ইরানের হাজার বছরের লোককথা। শোনা যায়, আজও নাকি পারস্য সৈকতে ফণা তোলে ইরানিদের পূর্বপুরুষের সেই গর্জন। গত সোমবার সুইজারল্যান্ডের সাড়ে ৩ হাজার ফুট উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় আরও একবার আছড়ে পড়লে সেই ঢেউ। বিশ্বের দুর্ধর্ষ সামরিক বাহিনীর দুর্গ যুক্তরাষ্ট্রের চোখে চোখ রেখে বলে দিল— ‘হরমুজে ছাড় নয়। হরমুজ ইরানের। তিল পরিমাণ সুযোগ নেই পরমাণু কেন্দ্র পরিদর্শনেও।’ অথচ লাভের অঙ্কটা কড়ায়-গন্ডায় বুঝে নিল যুক্তরাষ্ট্রের পাত থেকে। শান্তি আলোচনা প্রথম দিনের (রবিবার) ৮০ মিনিটেই হাওয়া হয়ে গিয়েছিল ‘তেল নিষেধাজ্ঞা’। পরে ১৮ ঘণ্টার দরকষাকষিতে একে একে আসে বাকি সব চমক। পাকে পড়ে হরমুজ খুলতে জব্দ থাকা ১২ বিলিয়ন ডলার সম্পদও ছাড় দিতে রাজি হয় যুক্তরাষ্ট্র। রয়টার্স, আলজাজিরা, সিএনএন ও এএফপি।
সোমবার দেশে ফিরেই ইরানের প্রধান আলোচক স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানান, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তেহরানের হাতেই থাকবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ কখনোই তার যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে আসবে না। সোমবার ইরানি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন গালিবাফ। এদিনই শেষ হয় সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র প্রথম দফার শান্তি আলোচনা। তবে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা চলছিল। গতকাল মঙ্গলবার শেষ হলো সেই পর্বও।
ইরানের মন্ত্রী ও কারিগরি আলোচক দলের প্রধান কাজেম গারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে জানান, আলোচনায় ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পারমাণবিক কর্মসূচি, দেশটির পুনর্গঠন এবং ১৪ শর্তে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ বাস্তবায়নে গঠন করা হয়েছে পৃথক ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ’।
১৭ জুন ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মধ্যে ডিজিটালি সই হওয়া ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকটিকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রূপ দিতে রবিবার সুইজারল্যান্ডে বসে দুদেশের প্রতিনিধিদল। প্রায় ১৮ ঘণ্টার আলোচনা শেষে সুইজারল্যান্ড ছাড়েন প্রতিনিধিরা। তবে থেমে থেমেই আঞ্চলিক আগুনে ফুঁসে ওঠা এ শান্তিচুক্তিতে ‘শেষ হয়েও হইল না শেষ’র পোড়া গন্ধ এখনো নাকে নাকে ঘুরছে বিশ্বের। প্রতিনিধিদলে থাকা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সুইজারল্যান্ড থেকে ঘরে না ঢুকে মাস্কটে ওমানের সুলতান হায়থাম বিন তারিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সোজা পাকিস্তান সফরেই বাড়ছে সেই সন্দেহের উসকানি। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিজেও তখন ছিলেন মধ্যস্থতাকারী দেশটির রাজধানীতে।
অবরুদ্ধ ১২ বিলিয়ন ডলার মুক্ত
ইরানের জব্দ থাকা সম্পদের ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড় দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দফায় ৬ বিলিয়ন ডলার করে এ অর্থ ইরানের কাছে আসবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। গতকাল আলজাজিরার এক প্রতিবেদন জানিয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়ায় ইরানের তেল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল। তবে তেল বিক্রি ও ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাতে প্রয়োজনীয় ছাড় পেয়েছে ইরান। গালিবাফ বলেছেন, এ-সংক্রান্ত চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে।
তিনি নিশ্চিত করেছেন, আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন ডলারের দুটি কিস্তি (১২ বিলিয়ন) ছাড়ের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে লেবানন ও হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে নতুন সমন্বয় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার বিষয়েও একমত হয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। এদিকে হরমুজে নতুন করে শুরু হয়েছে তেল পরিবহন। এর মধ্যে ইরানের অপরিশোধিত তেল ৩০টিরও বেশি ট্যাংকার রওনা দেয় এশিয়ার পথে। সোমবার শিপিং ডেটা প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এসব জাহাজের মধ্যে রয়েছে পাঁচ কোটি ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল।




