অপরাধীরা সুযোগ নিচ্ছে লোডশেডিংয়ের

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
গরমে হাঁসফাঁস করছে মানুষ। এরই মধ্যে জামালপুরে দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎবিপর্যয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টাই থাকছে না বিদ্যুৎ। সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারে ডুবছে চারদিক। আর এই ঘুটঘুটে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে অপরাধীরা। সব মিলিয়ে জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ঘটেছে অবনতি।
কয়েক দিন আগে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে লোডশেডিংয়ের সময় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ঘরের বাইরে আসা এসিল্যান্ডকে কুপিয়ে আহত করে ডাকাতরা। জামালপুরবাসীর মধ্যেও ভর করেছে একই ধরনের আতঙ্ক। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে প্রতিদিনই চুরি বা ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ ঘটাচ্ছে অপরাধীরা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে সেচ পাম্পের মোটর, গৃহস্থের গরু এবং বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিত্যদিনের বিষয়। বিদ্যুৎহীনতার সুযোগে অপরাধীদের তৎপরতা বাড়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে জেলাবাসী।
জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় কুড়িগ্রামের রৌমারী, রাজীবপুরসহ বিশাল অঞ্চলে গ্রাহক রয়েছেন প্রায় ৭ লাখ ৮৫ হাজার।
সমিতির মহাব্যবস্থাপক (চলতি দায়িত্ব) মো. সাহিদুল ইসলাম জানালেন, এই বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের জন্য দৈনিক প্রয়োজন ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। তবে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৭০ মেগাওয়াট। ঘাটতি থাকছে ৯০ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় গড়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ। গ্রামে একটানা ৪ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের পর মাত্র এক ঘণ্টার জন্য আসে বিদ্যুৎ।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চারদিক অন্ধকারে ডুবে থাকে। এই সুযোগে বেড়েছে চোর ও ছিনতাইকারীদের উৎপাত। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে সেচ পাম্পের মোটর, গৃহস্থের গরু এবং বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আড়াইহাজারে সরকারি কর্মকর্তার ওপর ডাকাতদের হামলার পর জামালপুরের চরাঞ্চল ও সাধারণ মানুষের মনেও ডাকাত আতঙ্ক বিরাজ করছে।
দিনরাত বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরে ঘরে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তীব্র গরমে শিশুরা ডায়রিয়া, ঠান্ডা-জ্বর ও শ্বাসকষ্টের মতো রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালগুলোয়ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং চলায় কষ্ট পাচ্ছেন রোগীরা।
বিদ্যুৎবিভ্রাটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। রাতের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারি নির্দেশনায় রাত ৯টার মধ্যে বন্ধ করতে হচ্ছে দোকানপাট ও শপিংমল। কিন্তু যে সময়টুকু খোলা থাকে, তখনো থাকে না বিদ্যুৎ। পোলট্রি খামারগুলোয়ও পড়েছে লোডশেডিংয়ের কোপ। তীব্র গরম সহ্য করতে না পেরে মারা যাচ্ছে মুরগি। অটোরাইস মিলগুলো ভাঙতে পারছে না ধান। এ ছাড়া ঘন ঘন লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের কারণে সাধারণ মানুষের ফ্রিজ, টিভি, এসি ও পানির মোটর নষ্ট হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে ফ্রিজে রাখা খাবার।
চরম সংকটে পড়েছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকরাও। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় গাড়ি ঠিকমতো চার্জ হচ্ছে না। জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (চলতি দায়িত্ব) মো. সাহিদুল ইসলাম জানালেন, বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের চাহিদা মেটাতে দৈনিক চাহিদা ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭০ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় গড়ে ৫০-৫৫ শতাংশ লোডশেডিং করতে হচ্ছে। শহরের তুলনায় গ্রামে এবং দিনের তুলনায় রাতে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। শহরে গড়ে ১০-১৫ ঘণ্টা এবং গ্রামে এর চেয়েও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।




