সংস্কারের সময় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি

প্রতীকী ছবি
মেগা প্রকল্প, উড়ালসড়ক আর নতুন সেতুর ঝকমকে চিত্রে দেশের দৃশ্যমান উন্নয়ন স্পষ্ট। তবে এই আলো ঝলমলে মানচিত্রের আড়ালে প্রতিদিনের সড়কযাত্রা সাধারণ মানুষের কাছে চরম অনিশ্চয়তার নাম। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে দেশে ৩০ হাজার ৭৭৫টি দুর্ঘটনায় ৩৩ হাজার ২৫৬ জন নিহত ও ৫০ হাজার ৮৮৭ জন আহত হয়েছেন। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৮ জনের বেশি প্রাণ হারাচ্ছেন। দেশের বহু সড়ক আজ খানাখন্দে জর্জরিত। বর্ষার পানি জমে সৃষ্টি হয় জনভোগান্তি। এ ছাড়া আলোহীন পথ, ভাঙা সেতু, বিপজ্জনক বাঁক মৃত্যুঝুঁকি তৈরি করছে। দুঃখজনক হলো, এই মারাত্মক অনিরাপত্তা আমাদের কাছে দিনে দিনে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। সাময়িক মেরামতের বদলে প্রয়োজন স্থায়ী সমাধান।
দুর্ঘটনার সব দায় শুধু চালকের ওপর চাপিয়ে দিলে আসল সমস্যা অধরাই থেকে যাবে। নিম্নমানের নির্মাণ, দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ, অতিরিক্ত মালবোঝাই যান, সমন্বয়হীনভাবে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি এবং পরিকল্পনার অভাবও সমান দায়ী। তাই দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে আগেই প্রতিরোধের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। এর জন্য প্রতিটি সড়ক ও সেতুর নিয়মিত নিরাপত্তা অডিট করা, দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান সংস্কার, দখলমুক্ত ফুটপাত, পর্যাপ্ত আলো ও কার্যকর সংকেত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে চালকের প্রশিক্ষণ, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও যানবাহনের ফিটনেস কঠোরভাবে তদারক করতে হবে। উন্নয়নের প্রকৃত সাফল্য নির্মিত সড়কের দৈর্ঘ্যে নয়, মানুষের নিরাপদে বাড়ি ফেরার মধ্যে নিহিত। যে পথে শিশু স্কুলে যায়, রোগী হাসপাতালে পৌঁছান, শ্রমিকের ঘাম ঝরে— সেই পথের প্রতিটি ইঞ্চির সঙ্গে জীবন জড়িয়ে আছে। রাষ্ট্রকে তাই শুধু কিলোমিটারের হিসাব না করে জীবনের নিরাপত্তার হিসাব করতে হবে।
লেখক: কবি, ফেনী






