সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ বাড়াতে হবে

প্রতীকী ছবি
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে কিশোরদের অপরাধকে প্রাপ্তবয়স্কদের অপরাধ থেকে ভিন্নভাবে দেখা হয়। বাংলাদেশের আইন ব্যবস্থায় কিশোর অপরাধীদের বিচার ও সংশোধনের জন্য স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। এ-সংক্রান্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনটি হলো শিশু আইন, ২০১৩। পরে ২০১৮ সালে এই আইনে কিছু প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়। এ আইন অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত সব ব্যক্তিকে শিশু হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তাদের অপরাধ সাধারণ আদালতের বদলে শিশু আদালতে বিচার করা হয়।
শিশু আইন, ২০১৩-এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রথমত, এ আইন অনুযায়ী কোনো শিশুকে গ্রেপ্তার করার পর হাতকড়া পরানো বা ডাণ্ডাবেড়ি দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। গ্রেপ্তার বা আটক করার পরপরই বিষয়টি তার অভিভাবক ও প্রবেশন কর্মকর্তাকে অবহিত করা বাধ্যতামূলক। সাধারণ পুলিশ স্টেশনের পরিবর্তে তাদের জন্য বিশেষায়িত শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা নিযুক্ত থাকেন।
দ্বিতীয়ত, কিশোর অপরাধীদের সাধারণ কারাগারে বন্দি রাখা যায় না। তাদের মূল উদ্দেশ্য শাস্তি নয়, পুনর্বাসন। দেশে সরকারি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র বা কিশোর সংশোধন কেন্দ্র রয়েছে। আদালতের নির্দেশে কিশোর অপরাধীদের নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য এসব কেন্দ্রে পাঠানো হয়, যেখানে তাদের মানসিক বিকাশ, পড়াশোনা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়।
আইনি পদক্ষেপ দিয়ে কিশোর অপরাধ সম্পূর্ণ নির্মূল সম্ভব নয়। আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধের ভূমিকা অনেক বেশি। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে খেলার মাঠ, সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ বাড়ানো এবং কিশোরদের বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখার পরিবেশ সৃষ্টি করা জরুরি। শাস্তির চেয়ে সংশোধনের ওপর জোর দিয়ে এবং পরিবার, সমাজ ও সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টায় কিশোর অপরাধমুক্ত একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
লেখক: কবি, চট্টগ্রাম




