মহাসড়কে দুর্ঘটনার কারণ তিন চাকার গাড়ি

সংগৃহীত ছবি
আমাদের দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোর বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক এবং উদ্বেগজনক। নিরাপদ সড়কের অনুপস্থিতি এবং অবকাঠামোগত ত্রুটির কারণে প্রতিদিন সাধারণ মানুষকে চরম দুর্গতি ও ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সড়কগুলোতে ছড়িয়ে থাকা খানাখন্দ, বড় বড় গর্ত, অপর্যাপ্ত সড়কবাতি, সংযোগ সড়কের অভাব ও অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত সেতু এবং অসংখ্য ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক বাঁক যাতায়াতকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এই বেহাল অবস্থার কারণে গন্তব্যে পৌঁছানো যেন এক যুদ্ধময় ভূগোলে চলাচলের সমতুল্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের এসব কাঠামোগত ত্রুটির পাশাপাশি বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য করা এবং অদক্ষ চালকদের কারণে প্রতিনিয়ত মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে, যা কেড়ে নিচ্ছে শত শত তাজা প্রাণ।
সাম্প্রতিককালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনাগুলো এ ভয়াবহতারই স্পষ্ট প্রমাণ দেয়। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মাধবপুর ও হবিগঞ্জ অংশসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে প্রায়ই ত্রিমুখী সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং দেশের উত্তর জনপদের বিভিন্ন আঞ্চলিক মহাসড়কে বেপরোয়া গতির বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে বহু প্রাণহানি ঘটছে। মহাসড়কে অবৈধ ও লক্কড়ঝক্কড় যানবাহনের অবাধ চলাচল এবং রাতের বেলা পর্যাপ্ত আলোর অভাব সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিশেষ করে মোটরসাইকেল, থ্রি-হুইলার ও ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল দুর্ঘটনার প্রবণতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর পাশাপাশি তরুণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারী ও কর্মজীবী মানুষ প্রতিনিয়ত এই সড়ক মৃত্যুর মিছিলে শামিল হচ্ছেন। এই চরম বাস্তবতায় শুধু প্রশাসন বা সরকারের ওপর নির্ভর করে বসে থাকলেই চলবে না, ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়েও আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। রাস্তা পারাপারের সময় ফুট ওভারব্রিজ বা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করা, মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে বা হেডফোন লাগিয়ে রাস্তায় না চলা এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। চালকদের মধ্যে ওভারটেকিং করার অসুস্থ প্রতিযোগিতা পরিহার করতে হবে। পাশাপাশি যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা নিশ্চিত করা এবং তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করার মাধ্যমে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সড়কগুলোর দ্রুত সংস্কার, উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, চালকদের সঠিক প্রশিক্ষণ এবং মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করার পাশাপাশি নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। সরকার ও নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগই পারে একটি নিরাপদ ও প্রাণবন্ত যাতায়াতব্যবস্থা উপহার দিতে।
লেখক: শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়






