দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে

সড়ক একটি দেশের অর্থনীতির ধমনি। মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল, কৃষিপণ্য ও শিল্পপণ্যের পরিবহন এবং সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার সবকিছুই সড়কব্যবস্থার ওপর প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল। অথচ বর্ষা, বন্যা কিংবা অপরিকল্পিত সংস্কারকাজের মুখোমুখি হলে আমাদের সড়ক-মহাসড়কগুলোর যে জরাজীর্ণ রূপ ফুটে ওঠে, তাতে মনে হয় এই পথগুলো যেন গন্তব্যে পৌঁছানোর মাধ্যম নয়; বরং জনদুর্ভোগের আরেক নাম।
সাম্প্রতিক বন্যায় কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের সড়ক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির চিত্রটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কক্সবাজারে হাজার কিলোমিটারের বেশি সড়ক ও বহু কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে স্থানীয় কৃষি ও মৎস্য খাতে। অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বগুড়ার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে অসম্পূর্ণ সার্ভিস লেন এবং শহরাঞ্চলের দীর্ঘসূত্রতাপূর্ণ সংস্কারকাজ প্রতিনিয়ত তীব্র যানজট ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্ম দিচ্ছে।
সড়কের এই বেহাল অবস্থার নির্মম মাশুল দিতে হয় সাধারণ মানুষকে। ভাঙা ও অসম্পূর্ণ রাস্তায় যান চলাচলের গতি কমে যায়, ফলে ভ্রমণ সময় বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানি খরচ ও পণ্য পরিবহন ব্যয় বহু গুণ বৃদ্ধি পায়। বিপরীতে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত সড়ক নেটওয়ার্ক প্রান্তিক কৃষককে ফসলের ন্যায্যমূল্য পেতে সাহায্য করে, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাঁচামাল সংগ্রহ সহজ করে এবং পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে গতিশীল রাখে। গ্রাম থেকে শহরের এই বাণিজ্যিক সংযোগ জাতীয় উৎপাদনশীলতা ও বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সড়ক খাতে জোড়াতালির সাময়িক সংস্কার বন্ধ করে দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সড়ক নির্মাণের সময় মাটির প্রকৃতি ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সঠিকভাবে বিবেচনায় নেওয়া আবশ্যক। নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার রোধে কঠোর তদারকি, অতিরিক্ত বোঝাই যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার দায়ে সংশ্লিষ্টদের কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
সড়ক শুধু পিচ আর ইটের বিন্যাস নয়; এটি কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত। তাই একটি নিরাপদ, টেকসই ও উন্নত সড়কব্যবস্থা নিশ্চিত করা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম পূর্বশর্ত।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী, বগুড়া






