আয়ারল্যান্ডে প্রবাসী বাংলাদেশি সাহিত্যপ্রেমীদের মিলনমেলা

ছবি: আগামীর সময়
প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে সাহিত্য কখনো কখনো মানুষকে শিকড়ের কাছে ফেরার সেতু হয়ে ওঠে। কবিতা, গান ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে দূরদেশেও জেগে ওঠে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির আবহ। এমনই এক আয়োজনের সাক্ষী হয়েছে আয়ারল্যান্ডের ডানডাক শহর। ৯ আগস্ট আয়ারল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত কবি, লেখক, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সাহিত্য সভা’।
প্রায় চার ঘণ্টার এই আয়োজনে প্রবাসের মাটিতে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত আসর বসে। কবিতা পাঠ, আবৃত্তি, গান ও সাহিত্য নিয়ে আলোচনায় মুখর ছিল অনুষ্ঠানস্থল। আয়োজকদের আন্তরিকতা ও যত্নশীল ব্যবস্থাপনায় আয়োজন জুড়ে ছিল প্রাণবন্ত পরিবেশ।
সাহিত্য সভার মূল আলোচনায় উঠে আসে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও বাংলা কবিতায় তার যুগান্তকারী অবদান। বিশেষভাবে আলোচনা করা হয় মধুসূদনের সনেটের কারিগরি ও সাহিত্যিক পটভূমি নিয়ে। কবি ড. বিলাল হোসেন তার প্রাঞ্জল ও বিশ্লেষণধর্মী আলোচনায় মধুসূদনের কবিতার নির্মাণশৈলী, ভাষার অভিনবত্ব এবং বাংলা সাহিত্যে তার বৈপ্লবিক ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন।
আলোচনার পর অংশগ্রহণকারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের ভাবনা ও অনুভূতি তুলে ধরেন। কেউ স্বরচিত কবিতা পাঠ করেছেন, কেউ আবৃত্তি করেছেন প্রিয় কবির কবিতা, আবার কেউ গান পরিবেশন করে প্রকাশ করেছেন নিজের অনুভূতি। ফলে আয়োজনটি আনুষ্ঠানিক আলোচনার গণ্ডি ছাড়িয়ে পরিণত হয় প্রাণবন্ত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আড্ডায়।
আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৩০ জনের বেশি কবি, সাহিত্যিক ও সাহিত্যপ্রেমী এই আয়োজনে অংশ নিয়েছেন। আয়োজকদের লক্ষ্য ছিল লেখালেখি ও সাহিত্যের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের মধ্যে যোগাযোগ ও বন্ধন আরও দৃঢ় করা, নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা এবং নতুন লেখকদের সৃষ্টিশীলতায় উৎসাহ দেওয়া।
প্রবাসে বাংলা সাহিত্যচর্চার এমন উদ্যোগের গুরুত্বও তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা। তাদের মতে, দেশ থেকে দূরে থেকেও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে জীবন্ত রাখার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম সাহিত্য। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে মাতৃভাষা, সাহিত্য ও শিকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে শিশুদের অংশগ্রহণ আয়োজনটিতে নতুন মাত্রা যোগ করে। তাদের গান ও কবিতা পাঠে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ। বড়দের সাহিত্যচর্চার সঙ্গে শিশুদের অংশগ্রহণ যেন পরবর্তী প্রজন্মের হাতে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা তুলে দেওয়ার প্রতীক হয়ে ওঠে।
সমাপনী পর্বে বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
ডানডাকের এই ‘সাহিত্য সভা’ শেষ হলেও প্রবাসে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার নতুন সম্ভাবনার বার্তা রেখে গেছে। ব্যস্ত প্রবাসজীবনে কবিতা, গান ও সাহিত্যের এমন আয়োজন মানুষকে নিজের ভাষা, সংস্কৃতি ও শিকড়ের আরও কাছে নিয়ে আসে। সেই ধারাবাহিকতায় ডানডাকের এই আয়োজন আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলা সাহিত্যচর্চাকে আরও বিস্তৃত করবে— এমন প্রত্যাশা আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের।




