নিউ ইয়র্কে আন্তর্জাতিক ট্রেড ফেয়ার ও বিজনেস এক্সপো শুরু

সংগৃহীত ছবি
নিউ ইয়র্কের বরো অব ম্যানহাটনের কমিউনিটি কলেজে (বিএমসিসি) শুরু হয়েছে ফিফথ নিউ ইয়র্ক ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ফেয়ার অ্যান্ড চেম্বার অ্যানুয়াল বিজনেস এক্সপো ২০২৬।
শনিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় ১৯৯ চেম্বার্স স্ট্রিটের ক্যাম্পাসে এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।
মেলায় যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ, ভারত, চীন, নেপাল, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, প্রদর্শক, চেম্বার প্রতিনিধি ও পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেছেন। মেলায় পণ্য ও সেবা প্রদর্শনের পাশাপাশি ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, সেমিনার এবং বিজনেস-টু-বিজনেস ম্যাচমেকিংয়ের আয়োজন রাখা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ-ইউএস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, গ্রেটার নিউ ইয়র্ক চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ও সিইও মার্ক জ্যাফে এবং ইউএস স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অ্যাডমিনিস্ট্রেটর কেলি লফলার।
কেলি লফলার তার বক্তব্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও উদ্যোক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন। ব্যবসা সম্প্রসারণ, নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির অবদান তুলে ধরেন। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, শিক্ষা, ব্যবসা ও কমিউনিটি উন্নয়নে সফল বাংলাদেশি-আমেরিকানদের বিভিন্ন সাফল্যের উদাহরণও তিনি উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি ফজলুর রহমান খান, সালমান খান, জাওয়েদ করিম, ড. আবুল হুসাম, আবদুস সাত্তার খান, ড. এম. জাহিদ হাসান ও সৈয়দ জাকি হোসাইনের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অবদানের কথা তুলে ধরেন।
ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। একই সঙ্গে বাংলাদেশও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ করছে। এ এক্সপো দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
বাংলাদেশ-ইউএস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এবং গ্রেটার নিউ ইয়র্ক চেম্বার অব কমার্সের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের কথাও তুলে ধরেন ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ। এ সময় মার্ক জ্যাফে ও অ্যামিট শাহকে তিনি ধন্যবাদ জানান।
গ্রেটার নিউ ইয়র্ক চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ও সিইও মার্ক জ্যাফে তার বক্তব্যে চেম্বারের ২৫ বছরের চেম্বার বিজনেস এক্সপো আয়োজনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশ-ইউএস চেম্বারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন তিনি।
মার্ক জ্যাফে বলেছেন, এ এক্সপো বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরির পাশাপাশি বড় ব্যবসা, ছোট ব্যবসা ও উদীয়মান উদ্যোক্তাদের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করছে।
মেলার অন্যতম আকর্ষণ বিজনেস-টু-বিজনেস ম্যাচমেকিং কার্যক্রম। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা সম্ভাব্য ক্রেতা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়িক অংশীদার ও সেবা প্রদানকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের পণ্য ও সেবা তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন বাজার, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা করছে।
মেলায় বিভিন্ন বিষয়ে সেমিনার ও ব্যবসায়িক অধিবেশনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট, ব্যাংকিং, ফাইন্যান্স অ্যান্ড রেমিট্যান্স ফোরাম ২০২৬। এতে বিনিয়োগ, ব্যাংকিং, অর্থায়ন ও রেমিট্যান্স খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও এআই, কৌশলগত সোর্সিং ও সাপ্লাই চেইন, এনআরবি বিনিয়োগ এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা ও নেটওয়ার্কিং অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬। ব্যবসা, উদ্যোক্তা কার্যক্রম, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কমিউনিটি সেবায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ছয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
এক্সপোতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের পণ্য ও সেবা আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরছে। একই সঙ্গে ক্রেতা, ব্যবসায়িক অংশীদার, বিনিয়োগকারী, পেশাজীবী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যবসা ও পণ্যের জন্য নতুন বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, প্রদর্শনী, সেমিনার, ব্যবসায়িক বৈঠক, নেটওয়ার্কিং ও ম্যাচমেকিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন সম্পর্ক ও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। মেলায় অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী, প্রদর্শক, স্পন্সর, অতিথি, চেম্বার প্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দর্শনার্থীদের প্রতিও তারা কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।



