আগামীর সময়

জ্বালানি নিয়ে ধুঁকছে অস্ট্রেলিয়াও, পরিকল্পনা চার ধাপের

জ্বালানি নিয়ে ধুঁকছে অস্ট্রেলিয়াও, পরিকল্পনা চার ধাপের

সংগৃহীত ছবি

সামনের মাসগুলো সহজ নাও হতে পারে। এ ব্যাপারে আমি খোলামেলা থাকতে চাই। যাদের পক্ষে সম্ভব তারা ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহার করবেন। যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু জ্বালানিই  নেবেন— মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের বাস্তবতায় নাগরিকদের এমনটা অনুরোধ করলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবেনিজ। গতকাল সন্ধ্যায় দেশটির সব গণমাধ্যমে একযোগে সম্প্রচার করা হয় জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বিরল এই ভাষণ।


আলবেনিজ স্বীকার করলেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট এবং ক্রমবর্ধমান দামের কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘ইতিবাচক থাকা কঠিন’। তবুও তিনি দেশবাসীকে ‘নিজেদের কাজ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখার’ পরামর্শ দেন।

ইস্টারের শুভেচ্ছা জানিয়ে আলবেনিজের অনুরোধ, ‘যদি আপনারা ভ্রমণে বের হন, তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি নেবেন না; ততটুকুই নিন যতটা সাধারণত প্রয়োজন হয়। আপনার প্রতিবেশী, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ এবং জরুরি শিল্পখাতগুলোর কথা বিবেচনা করুন।’ ‘আসছে সপ্তাহগুলোতে যদি সম্ভব হয়, কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য ট্রেন, বাস বা ট্রাম ব্যবহার করুন’-  বলছিলেন আলবেনিজ।

প্রসঙ্গত, অস্ট্রেলিয়ার সরকার আগামী তিন মাসের জন্য জ্বালানির আবগারি শুল্ক অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। এর প্রভাব পড়েছে বাজারে, কিছুটা কমেছে জ্বালানির দাম। চলতি সপ্তাহের শুরুতে দেশটির রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে ‘চার ধাপের একটি জ্বালানি পরিকল্পনা’ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাসের পদক্ষেপ ঘোষণা দিয়েছিলেন আলবেনিজ।

অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে এই পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে। আলবেনিজ জানান, দেশ তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপে পৌঁছানো থেকে এখনো ‘যথেষ্ট’ দূরত্বে আছে। ওই উচ্চতর ধাপগুলোতে পৌঁছালে জ্বালানি মজুদ নিশ্চিত করতে আরও কঠোর ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে।

সাড়ে তিন মিনিটের সংক্ষিপ্ত এই ভাষণে প্রধানমন্ত্রী পরবর্তী তিন মাসের জন্য পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের ওপর ‘রোড ইউজার চার্জ’ সম্পূর্ণ মওকুফ করাসহ কেন্দ্রীয় সরকারের নেওয়া অন্যান্য উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন। ‘আমরা জ্বালানির দাম কমানোর জন্য কাজ করছি, দেশে আরও বেশি জ্বালানি উৎপাদন এবং তা দেশেই রাখার চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে আমাদের শক্তিশালী আঞ্চলিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে আরও বেশি পেট্রোল, ডিজেল এবং সার আমদানির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি’— আশ্বস্ত করেন আলবেনিজ।

তিনি নিশ্চিত করেন, জ্বালানি সরবরাহ সূচি অনুযায়ী পৌঁছাচ্ছে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ৩০ দিনের ডিজেল, ৩৯ দিনের পেট্রোল এবং ৩০ দিনের জেট ফুয়েলের মজুদ সংরক্ষিত রয়েছে। মে মাস পর্যন্ত সব কটি চালান বা শিপমেন্টও ইতোমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি স্বীকার করে নিলেন, আগামী মাসগুলো ‘সহজ নাও হতে পারে’। তার ভাষ্য, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ যে চাপ সৃষ্টি করছে পুরোপুরি দূর করার নিশ্চয়তা কোনো সরকারই দিতে পারবে না।’

যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব থেকে অস্ট্রেলিয়াকে রক্ষা করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। সময়টা অনিশ্চিত হলেও আমি একটি বিষয়ে নিশ্চিত- আমরা চিরচেনা অস্ট্রেলীয় পদ্ধতিতে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে একসঙ্গে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করব, প্রতিশ্রুতি দেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী।

    শেয়ার করুন: