জরিপ চালিয়ে প্রজ্ঞা দেখাল, ৪টি মূল্যস্তরের সুযোগ নিচ্ছে সিগারেট কোম্পানিগুলো

ছবি: রয়টার্স
সরকার নির্ধারিত চারটি মূল্যস্তরের আড়ালে মোট ১২ ধরনের দামে ৫৩টি ব্র্যান্ড বাজারে ছেড়েছে সিগারেট কোম্পানিগুলো।
বেসরকারি সংগঠন প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) জরিপ চালিয়ে এমন তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়ে বলেছে, এর মধ্য দিয়ে ভোক্তার সামর্থ্য অনুযায়ী ব্র্যান্ড পরিবর্তনের ব্যাপক সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
আজ রবিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই জরিপের তথ্য প্রকাশ করা হয়। দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরের ৮০ জন্য খুচরা বিক্রেতাকে নিয়ে গত সেপ্টেম্বরে চালানো হয় এই ‘র্যাপিড সার্ভে’।
জরিপে কেবল নিম্নস্তরেই ৮টি ভিন্ন দামের সিগারেট পাওয়ার কথা জানিয়েছে প্রজ্ঞা। এই স্তরের সবচেয়ে দামি ব্র্যান্ডের দাম ৯০ টাকা, যা মধ্যমস্তরের (৯২ টাকা) দামের কাছাকাছি।
তামাকবিরোধীদের দীর্ঘদিনের দাবি সিগারেটের স্তরসংখ্যা পর্যায়ক্রমে ৪টি থেকে কমিয়ে ১টিতে নিয়ে আসা, যাতে দাম বাড়লে ভোক্তা কমদামি বা সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোন ব্র্যান্ড বেছে নেওয়ার সুযোগ না পায়।
তবে বর্তমানে ১২টি পৃথক দামে সিগারেট কেনার সুযোগ থাকায় কর ও দাম বৃদ্ধি সিগারেটের ব্যবহার হ্রাসে তেমন ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে প্রজ্ঞার অভিমত।
জরিপে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার প্রতিটি মূল্যস্তরের সাথে ‘তদূর্ধ্ব’ শব্দটি ব্যবহার করে কার্যত মূল্য সীমা ব্যবহারের সুবিধা দিয়েছে সিগারেট কোম্পানিগুলোকে।
উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, নিম্নস্তরের সিগারেটের ক্ষেত্রে এটি ৬৫ ও তদূর্ধ্ব এবং মধ্যমস্তরের ক্ষেত্রে ৯২ ও তদূর্ধ্ব। অর্থাৎ কোম্পানি শুধু নিম্নস্তরেই ৬৫ টাকা থেকে শুরু করে ৯১ টাকা পর্যন্ত যেকোন মূল্যে (প্রাইস পয়েন্ট) সিগারেট বাজারজাত করার সুযোগ পাচ্ছে। এভাবে প্রিমিয়াম স্তর পর্যন্ত অসংখ্য প্রাইস-পয়েন্টে ভিন্ন ভিন্ন ব্র্যান্ড বাজারজাতকরণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
ত্াই মূল্যস্তরগুলোর সঙ্গে ‘তদূর্ধ্ব’ লেখা বাদ দিয়ে প্রতিটি স্তরে একটি এককমূল্য নির্ধারণ এবং পর্যায়ক্রমে স্তরসংখ্যা একটিতে নামিয়ে আনার সুপারিশ রেখেছে প্রজ্ঞা।



