জাতীয় গ্রিডে ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যোগ হলো

ছবি: আগামীর সময়
ভয়াবহ গ্যাস সংকটের মধ্যে কিছুটা আশার আলো জাগিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ। সেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক যোগ হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। গতকাল শনিবার নতুন এ গ্যাস উৎপাদনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
গ্যাসের সংকটকালে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে— এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বললেন, ‘এই কূপ উদ্বোধনের ফলে শিল্প, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খাতে গ্যাস সরবরাহ আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। জ্বালানি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।’ দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করে গ্যাসের আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরকার আপ্রাণ চেষ্টা করছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, ‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে চারটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তিতাস-২৮ কূপটি খনন করা হয়েছে। এজন্য চীনের সিএনপিসি চুয়ানছিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের (সিসিডিসি) সঙ্গে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল চুক্তি সই হয়। চুক্তির আওতায় ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর খনন শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ১৯ জুন শেষ হয়। কূপটির গভীরতা ৩ হাজার ৬০১ মিটার। এটি খনন ও গ্যাস উত্তোলনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) এ গ্যাস ফিল্ডের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) আওতাধীন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এর আওতায় ছয়টি গ্যাস ফিল্ড রয়েছে— তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, নরসিংদী, মেঘনা ও কামতা। বহুজাতিক কোম্পানি নাইকোর কাছে হস্তান্তরের আগে ফেনী গ্যাস ফিল্ডও বিজিএফসিএলের আওতায় ছিল।
কোম্পানিটি সাইসমিক জরিপ, কূপ খনন, প্রসেস প্ল্যান্টের মাধ্যমে গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ এবং ওয়েলহেড কম্প্রেসরের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির কাজ করে। উপজাত হিসেবে কনডেনসেট সংগ্রহ ও বিপণনও তাদের কার্যক্রমের অংশ। গ্যাসের গুণগত মান বজায় রেখে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। বিজিএফসিএল দেশের মোট দেশীয় উৎপাদনের প্রায় ৩০ শতাংশ, অর্থাৎ মোট সরবরাহের ১৮ শতাংশ গ্যাস উৎপাদন করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সরকারের ১৫০টি কূপ খনন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে ছয়টি নতুন কূপ খনন ও আটটি বন্ধ কূপ ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে দৈনিক ১০৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্যে বিজিএফসিএলের পাঁচটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এ ছাড়া আরও ৯টি নতুন কূপ খনন ও ১২টি বিদ্যমান কূপ ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে দৈনিক ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করা সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৯টি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যাবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়।
অনুসন্ধান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে হবিগঞ্জ ফিল্ড ও এর আশপাশের ৮৭৫ বর্গকিলোমিটার এবং বাখরাবাদ, নরসিংদী ও মেঘনা ফিল্ড এলাকার ৫৭৫ বর্গকিলোমিটারসহ ১ হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৩-ডি সাইসমিক জরিপ চলছে। এ ছাড়া তিতাস ফিল্ডের উত্তর-পশ্চিমে ও নরসিংদী ফিল্ডের উত্তর-পূর্বে ৬৩২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ২-ডি ও ৩-ডি সাইসমিক জরিপ পরিচালিত হচ্ছে। প্রাপ্ত ফলাফল বিবেচনা করে উপযুক্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে বিজিএফসিএল।
অনুষ্ঠানে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব মো. জিয়াউল হক এবং পেট্রোবাংলা ও বিজিএফসিএলের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী চলমান তিতাস-২৯ ও তিতাস-৩১ কূপের খনন কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন।



