প্যাকেটজাত খাদ্যে সতর্কবার্তা নিয়ে প্রচারণা শুরু

অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত প্যাকেটজাত খাদ্য ও পানীয় চিহ্নিত করতে মোড়কের সামনে সতর্কবার্তা বা ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) চালুর বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে দুই মাসব্যাপী প্রচারণা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে দেশে এ-সংক্রান্ত কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সরকারকে সহায়তা এবং এ উদ্যোগের পক্ষে জনসমর্থন তৈরির লক্ষ্যেও এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ প্রচারণার উদ্বোধন করা হয়। আয়োজকদের দাবি, বাংলাদেশে এ ধরনের গণমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণা প্রথমবারের মতো শুরু হলো।
প্রচারণার উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত অস্বাস্থ্যকর প্যাকেটজাত খাদ্য ও পানীয় সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে মোড়কের সামনে সতর্কবার্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রবিধানমালা প্রণয়নে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।
আয়োজকেরা জানান, ভিডিও ও অডিও বিজ্ঞাপন, স্থিরচিত্র এবং জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন উপকরণের মাধ্যমে এ প্রচারণা চালানো হবে। টেলিভিশন, রেডিও, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন ও মুদ্রিত সংবাদপত্র এবং গুগল বিজ্ঞাপনে এসব উপকরণ প্রচার করা হবে। অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলবে প্রচারণা।
এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো, সাধারণভাবে ব্যবহৃত প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বির উপস্থিতি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা। পাশাপাশি এসব উপাদানযুক্ত পণ্য কেনার ক্ষেত্রে ভোক্তাদের সতর্ক করা এবং প্যাকেটজাত খাদ্য ও পানীয়ের মোড়কের সামনে সতর্কতামূলক লেবেল চালু করতে সরকারের নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে সহায়তা করা।
আয়োজকদের মতে, মোড়কের সামনের অংশে সতর্কতামূলক লেবেল থাকলে কোনো খাবার বা পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বি রয়েছে কি না, তা সহজেই বুঝতে পারবেন ভোক্তারা। বিশেষ করে অষ্টভুজ আকৃতির সতর্কবার্তা পুষ্টি-সংক্রান্ত তথ্য সহজে বুঝতে এবং সচেতনভাবে খাবার বেছে নিতে সহায়তা করে। এর ফলে অস্বাস্থ্যকর পণ্য কেনার প্রবণতা কমানো সম্ভব। খাদ্যপরিবেশ উন্নত করা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসজনিত রোগের ঝুঁকি কমাতে এ ধরনের লেবেলিং একটি প্রমাণভিত্তিক নীতি হিসেবে বিবেচিত।
বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান বোঝার প্রেক্ষাপটে এ প্রচারণা শুরু হয়েছে। এসব রোগের পেছনে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অন্যতম ভূমিকা রাখছে। দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশের জন্য অসংক্রামক রোগ দায়ী। এর মধ্যে হৃদরোগ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস অন্যতম প্রধান কারণ। এ ছাড়া, দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রায় ৩১ দশমিক ৮ শতাংশের অতিরিক্ত ওজন রয়েছে এবং ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ স্থূলতায় আক্রান্ত। অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা হৃদরোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও স্ট্রোকসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. সোহেল রেজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্য শিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব এবং গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস।
ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিভাগের পরিচালক ইকবাল মাসুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের এবং সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্সের (সিএলপিএ) সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম।
প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান), ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, ঢাকা আহছানিয়া মিশন, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্ট, কোয়ালিশন ফর হেলদি ফুড এবং সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ) যৌথভাবে এ প্রচারণার আয়োজন করেছে।



