মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সিন্ডিকেট মুক্ত করতে স্মারকলিপি, ৭ দাবি বায়রার

বুধবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিবের কাছে স্মারকলিপি দেয় বায়রা
মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটমুক্ত ব্যবস্থা এবং সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিকে সরাসরি কর্মী প্রেরণের সুযোগ দেওয়ার দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা)।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়। তবে মন্ত্রী উপস্থিত না থাকায় স্মারকলিপি গ্রহণ করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ।
এ সময় সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, ‘মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে এখনও কিছু জানায়নি। তবে ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় জনশক্তি প্রেরণ শুরু হবে, তার প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। যথাসময়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ বিষয়ে সঠিক তথ্য জানানো হবে।’
পরে বায়রার যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘এফডব্লিডসিএমএস মালিক ও তার পার্টনাররা এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা। তারাই সিন্ডিকেট করার জন্য বারবার এই শ্রমবাজারকে নিয়ে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছেন।’
স্মারকলিপি যা বলা হয়েছে
অতীতের মতো সীমিতসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির হাতে বাজারের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীভূত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে স্মারকলিপিতে বায়রা বায়রা বলেছে, মালয়েশিয়ার ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা এফডব্লিডসিএমএসে ২৫টি মূল এজেন্সির পাশাপাশি ৩১২টি সহযোগী এজেন্সির নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কিন্তু এসব এজেন্সি যদি নিজস্ব ডিমান্ডের বিপরীতে নিজস্ব লাইসেন্সে সরাসরি কর্মী পাঠাতে না পারে, রাষ্ট্রভেদে মূল এজেন্সিকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে কর্মী পাঠাতে হয়, তাহলে বাস্তবে বাজারের নিয়ন্ত্রণ ২৫টি এজেন্সির হাতেই থেকে যাবে।
৫ বছরে ১ কোটি মানুষের বৈদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে লক্ষ্য সরকারের, তা বাস্তবায়নে সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিকে সক্ষম ও সক্রিয় করার কথা বলেছে বায়রা। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, নেপালেও সীমিতসংখ্যক এজেন্সির তালিকা প্রকাশের পর সরকার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ও তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশেও জাতীয় স্বার্থ, কর্মীদের স্বার্থ ও ব্যবসায়িক সমঅধিকার রক্ষায় সিন্ডিকেটমুক্ত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
৭ দাবি
স্মারকলিপিতে ৭টি দাবি জানিয়েছে রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকেরা। এর মধ্যে রয়েছে— তালিকাভুক্ত ৩১২টি এজেন্সিসহ সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে নিজস্ব ডিমান্ডের ভিত্তিতে সরাসরি কর্মী প্রেরণের সুযোগ দেওয়া; প্রত্যেক যোগ্য এজেন্সিকে নিজস্ব এফডব্লিডসিএমএসের আইডি ও পাসওয়ার্ড প্রদান; মেডিকেল পরীক্ষায় একচেটিয়া ব্যবস্থা বন্ধ করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় অনুমোদিত যোগ্য সকল মেডিকেল সেন্টারকে কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়া; বর্তমান সমঝোতা স্মারকের কারণে সব এজেন্সিকে সরাসরি সুযোগ দেওয়া সম্ভব না হলে বোয়েসেলের মাধ্যমে ওয়ান স্টোপ সার্ভিস চালু করে সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে সমানভাবে কর্মী প্রেরণের সুযোগ দেওয়া।




