সাইফুজ্জামানের নামে আরও ৩ মামলা অনুমোদন

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে আরও তিন মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের বিরুদ্ধে সিমেন্টের কাঁচামাল কেনার নামে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক থেকে ১৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা তুলে লোপাট ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ এনেছে সংস্থাটি।
গতকাল মঙ্গলবার মামলা অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছে দুদক।
জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের জুবিলি রোড শাখা থেকে সাইফুজ্জামানের প্রতিষ্ঠান আরামিট সিমেন্টের নামে সিমেন্টের কাঁচামাল কেনার জন্য নেওয়া হয়েছিল ঋণ। দুদকের অনুসন্ধানের তথ্য, কোনো প্রকৃত কেনাবেচা না করেই ভুয়া বিল-ভাউচার ব্যবহার করে তুলে নেওয়া হয় ব্যাংকের অর্থ। ২৭টি ডিলের মাধ্যমে ১৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।
এই টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে। এ ধরনের লেনদেনে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক।
কমিশন জানায়, অনুসন্ধানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তিনটি মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিন মামলায় আলাদাভাবে ১৬, ১৬ ও ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে কয়েকজন একাধিক মামলার আসামি হওয়ায় আসামির সংখ্যা ২৯। এসব মামলার আসামি হচ্ছেন সাইফুজ্জামানের স্ত্রী ও আরামিট সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকমীলা জামানসহ কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা।
তিনটি মামলাতেই নাম রয়েছে সাইফুজ্জামান, তার স্ত্রী রুকমীলা, আরামিট সিমেন্টের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম, ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী আবদুল আজীজ এবং আরামিট সিমেন্টের এজিএম এ কে এম মারুফের।
এ ছাড়া মামলায় আরামিট এবং ইসলামী ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও আসামি করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দুদক বলছে, ব্যাংক থেকে তোলা অর্থ স্থানান্তর করা হয় বিভিন্ন হিসাবে। এর একটি অংশ নগদে তোলা হয় এবং কিছু অর্থ ব্যবহার করে আগের দায় পরিশোধে। একাংশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাচার করা হয় বলেও অভিযোগ করেছে দুদক। সংস্থাটির নথিতে বলা হয়েছে, পাচার করা অর্থ দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কেনা হয়েছে সম্পদ। সেখান থেকে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ স্থানান্তর করে সম্পদ কেনার অভিযোগও রয়েছে। সাইফুজ্জামানকে এসব লেনদেনের ‘আলটিমেট বেনিফিশিয়ারি’— অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত সুবিধাভোগী এবং হোতা হিসেবে উল্লেখ করেছে দুদক।






