জলবায়ু সম্মেলনের আগে বাস্তবসম্মত অঙ্গীকারের দাবি নাগরিক সমাজের

সংগৃহীত ছবি
আসন্ন কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলনের আগে ন্যায়সংগত জলবায়ু পদক্ষেপ এবং আরও জোরালো ও বাস্তবসম্মত বৈশ্বিক অঙ্গীকারের আহ্বান জানিয়েছে নাগরিক সমাজ। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিক্স সিজনস হোটেলে ‘৩১তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ: নাগরিক সমাজের অবস্থান একসঙ্গে তুলে ধরা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে এ আহ্বান জানানো হয়।
সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি) ও ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যালায়েন্স–বাংলাদেশ (সিজেএ-বি) যৌথভাবে এর আয়োজন করে।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছি, কার্বন শোষণে বৃক্ষরোপণ করছি এবং উপকূল রক্ষায় ২ কোটি ম্যানগ্রোভ গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছি।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জারহাত আদিব চৌধুরী বলেছেন, ‘জলবায়ু অগ্রাধিকার এগিয়ে নিতে সংসদ ও কূটনীতির বড় ভূমিকা আছে। আমাদের সব যুক্তি ও অবস্থান অবশ্যই তথ্য-উপাত্তভিত্তিক হতে হবে।’
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম সোহেল বলেন, ‘বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় প্রভাব রাখতে নাগরিক সমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু অর্থায়ন ও ন্যায়সংগত জ্বালানি রূপান্তরে তাদের আরও জোরালো চাপ সৃষ্টি করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক প্যাকেজ নয়, বরং বাস্তব কর্মপরিকল্পনা ও তার কার্যকর বাস্তবায়ন দেখতে চাই।’
স্বাগত বক্তব্যে সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী ও সিজেএ-বির সমন্বয়ক মো. শামসুদ্দোহা বলেন, ‘কপ৩১-এ বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে নাগরিক সমাজের ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠ দরকার।’ সম্মুখসারির জনগোষ্ঠীর বাড়তে থাকা ঝুঁকির কথা তুলে ধরে তিনি জলবায়ু ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে অঙ্গীকারগুলোকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দিতে সরকার ও নাগরিক সমাজের জোরালো সহযোগিতার আহ্বান জানান।
আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. শাহ আবদুল সাদী এবং বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক গবেষণা পরিচালক ড. এম আসাদুজ্জামান প্রমুখ।
সেমিনারে নীতিনির্ধারক, জলবায়ু আলোচক, নাগরিক সমাজের সংগঠন, গবেষক, যুবসমাজ, গণমাধ্যমকর্মী ও জলবায়ুঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেখানে কপ৩১-এ বাংলাদেশের অগ্রাধিকার, সরকার ও নাগরিক সমাজের সহযোগিতা জোরদার এবং সিপিআরডির উদ্যোগে তৈরি নাগরিক সমাজের অবস্থানপত্র উপস্থাপন করা হয়।



