প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আগে ফিরিয়ে আনা হলো রাষ্ট্রদূতকে

জাপানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী
জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৬-২৯ অক্টোবর তিনি টোকিও অবস্থান করবেন। সরকারপ্রধানের সফরের আগে সে দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে জাপান ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ৬৩৬ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা আসতে পারে বলে খবর প্রকাশ করেছে জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই।
দেশের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের কূটনৈতিক সার্বিক দেখভালের কথা ছিল সে দেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীর। কিন্তু দাউদ আলীর বিরুদ্ধে ‘গুরুতর অভিযোগ’ পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগেই তাকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তার পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে কূটনৈতিক ও সার্বিক বিষয়ে সমন্বয় করবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয় বিষয়াবলি) মো. নজরুল ইসলাম। তবে দাউদ আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে খোলাসা করেনি
ওই সূত্র। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, নজরুল ইসলাম গত বুধবার জাপানে পৌঁছেছেন। সফর চলাকালে টোকিওতে থেকে তিনিই দ্বিপক্ষীয় তদারকি ও কূটনৈতিক সহায়তার মূল দায়িত্বে থাকবেন। গত ১৫ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে সফর নিয়ে আলোচনার জন্য দাউদ আলীকে ঢাকায় ডেকে পাঠানো হয়। ওই নির্দেশ মেনে তিনি জাপান থেকে ঢাকায় ফিরেছেন।
তবে সফর নিয়ে আলোচনার জন্য দাউদ আলীকে ঢাকায় ডাকা হলেও সফরের প্রস্তুতিমূলক কাজে তাকে রাখা হয়নি।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে দেশটি সফর করবেন তারেক রহমান। সাধারণত সরকারপ্রধানের সফরের সময় সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রদূত সার্বিক বিষয় দেখভাল করেন। কিন্তু দাউদ আলীর ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম হচ্ছে। তাকে ঢাকায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাকে ফের টোকিওতে পাঠানো হবে কি না— সে বিষয়টিও পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।
সাবেক ও বর্তমান কূটনীতিকরা বলছেন, গত কয়েক দশকে কোনো প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ কোনো দেশ সফরের সময় সেখানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের অনুপস্থিত থাকার নজির নেই। চাকরিতে থাকা রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় এনে সফরে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনাও জানেন না তারা।
সফরসূচি অনুযায়ী ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান পরিবহন, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থার আধুনিকীকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা হবে। আটটি প্রস্তাবের মধ্যে চারটি সই হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
দাউদ আলী ও মো. নজরুল ইসলাম দুজনই ১৫তম বিসিএস (পররাষ্ট্র ক্যাডার) ব্যাচের কর্মকর্তা। জাপানে রাষ্ট্রদূত হওয়ার আগে দাউদ আলী রোমানিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। চলতি বছরের ৭ ডিসেম্বর তার অবসর-উত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা রয়েছে।
৬৩৬ কোটি ডলার বিনিয়োগের খবর
এদিকে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে জাপান ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ৬৩৬ কোটি ডলার বিনিয়োগের ব্যবস্থা করে দেবে বলে খবর প্রকাশ করেছে জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই। নিক্কেইয়ের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে তাতেই আসবে এ বিনিয়োগের ঘোষণা।
নিক্কেই লিখেছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অর্জিত হবে এ লক্ষ্য। এসব বিনিয়োগের অর্থ ব্যয় হবে গাড়ি ও অন্যান্য উৎপাদনশিল্পের পাশাপাশি জ্বালানি স্থাপনা নির্মাণে। বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যেসব জাপানি কোম্পানি রয়েছে তাদেরও এই বিনিয়োগে সম্পৃক্ত করা হবে।
অবশ্য নিক্কেইয়ের এই প্রতিবেদন স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।



