মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় আসছে থার্ড টার্মিনাল, প্রকল্পে ব্যয় ৪৭ কোটি
- অবগতির জন্য বুধবার একনেকে উঠছে প্রকল্পটি
- স্থাপন করা হবে অ্যাকটিভ ডিস্ট্রিবিউটেড এন্টিনা সিস্টেম

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত ৩য় টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। ৪৭ কোটি ৬৩ কোটি টাকার এ প্রকল্পের কাজ চলতি বছর থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে ২০২৭ সালের জুনে। প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড।
এরই মধ্যে প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আগামীকাল বুধবার অবগতির জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদেও নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়। সচিবালয়ে হতে যাওয়া সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা সচিব এসএম শাকিল আকতার আগামীর সময়কে বলেছেন, প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৫০ কোটি টাকার নিচে হওয়ায় ক্ষমতাবলে এটির অনুমোদন করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। এরকম অনুমোদিত প্রকল্পগুলো একনেককে অবহিত করা হয়। সেই অনুযায়ী উপস্থাপন করা হচ্ছে। তবে প্রকল্পটি নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সূত্র জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত ৩য় টার্মিনাল দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার। এই আধুনিক টার্মিনালে যাত্রী সাধারণ ও সংশ্লিষ্টদের জন্য মানসম্মত মোবাইল নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করতে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় আগত দেশি-বিদেশি যাত্রী, ভিআইপি, আন্তর্জাতিক মিশন এবং বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দ্রুতগতির, নিরবচ্ছিন্ন এবং উন্নত মানের মোবাইল যোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া সর্বাধুনিক ৪জি/৫জি প্রযুক্তি ভিত্তিক অত্যাধুনিক নেটওয়ার্ক অবকাঠামো স্থাপন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করে নেটওয়ার্ক কভারেজ বিস্তৃতকরণ, ডেটা বহনক্ষমতা বৃদ্ধি ও উচ্চমানের রোমিং সেবা দেওয়া হবে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ (১৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন), যা ২০২৬ সাল পর্যন্ত পর্যাপ্ত বলে অনুমান করা হয়েছে। ২০১৪ সালে এই বিমানবন্দর দিয়ে প্রায় ৯ দশমিক ১ মিলিয়ন যাত্রী এবং প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার টন কার্গো পরিবহন করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৯০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিচালিত হচ্ছে। বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিমান গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং পরিচালনা করছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নবনির্মিত টার্মিনাল-৩, এক্সপোর্ট কার্গো টার্মিনাল ও ইমপোর্ট কার্গো টার্মিনাল এলাকাসহ প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি যাত্রী, এয়ারলাইন কর্মী, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং স্টাফ, সরকারি সংস্থা (ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, নিরাপত্তা সংস্থা), আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কার্গো অপারেটর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিনির্ভও সেবার ওপর নির্ভরশীল। আধুনিক এভিয়েশন অপারেশন, যাত্রীসেবা, ন্যাভিগেশন, নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি সাড়া দেওয়া কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপে বর্তমানে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চগতির মোবাইল নেটওয়ার্ক একটি অপরিহার্য অবকাঠামোতে পরিণত হয়েছে। টেলিটক ও অন্যান্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক কভারেজ বিমানবন্দর এলাকার আশেপাশে থাকলেও নবনির্মিত টার্মিনাল-৩, এক্সপোর্ট কার্গো টার্মিনাল ও ইমপোর্ট কার্গো টার্মিনাল এর টার্মিনাল ভবন, ইমিগ্রেশন এলাকা, ব্যাগেজ হল, চেক-ইন কাউন্টার, ভিআইপি লাউঞ্জ, এপ্রন, র্যাম্প, কনকোর্স ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত ইন বিল্ডিং কভারেজ ও প্রয়োজনীয় ডেটা সক্ষমতা নেই।
তারা জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের ঘন অবকাঠামো, কংক্রিট ও মেটালিক স্ট্রাকচার, সিকিউরিটি রেস্ট্রিকটেড এলাকা এবং যাত্রীর উচ্চ ট্রাফিক ঘনত্বের কারণে সিগন্যাল পেনিট্রেশন সীমিত হয়। ফলে কল ড্রপ, নিম্ন ইন্টারনেট স্পিড, দুর্বল সিগন্যাল ও নেটওয়ার্ক কনজেশনসহ বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়। এদিকে, বিমানবন্দর নিরাপত্তার কারণে নতুন টাওয়ার স্থাপন অথবা উন্মুক্ত স্থানে বিটিএস স্থাপনের সুযোগ সীমিত হওয়ায় প্রচলিত সাইট-নির্ভর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ বাস্তবায়নযোগ্য নয়। এসব সীমাবদ্ধতার পরিপ্রেক্ষিতে আধুনিক টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক বিস্তারের জন্য অ্যাকটিভ ডিস্ট্রিবিউটেড এন্টিনা সিস্টেম (অ্যাকটিভ ডিএএস) ভিত্তিক ইনডোর নেটওয়ার্ক সমাধান গুরুত্বপূর্ণ। এমন বাস্তবতায় প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হচ্ছে।






