অনলাইনে হয়রানির শিকার ৬৪ শতাংশ নারী, নেই প্রতিকার

বৃহস্পতিবার মহিলা পরিষদে ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং অ্যান্ড অ্যাড্রেসিং টেকনোলজি ফ্যাসিলিটেটেড জেন্ডার বেইজড ভায়োলেন্স (টিএফজিবিভি) ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণার তথ্য উপস্থাপন করা হয়
অনলাইনে হয়রানির শিকার হচ্ছেন ৬৪ শতাংশ নারী। তাদের কেউ কেউ হারাচ্ছেন পড়াশোনা কিংবা চাকরির স্বাভাবিক ছন্দ। কারও কারও ব্যক্তিগত ছবি বা পরিচয় ব্যবহার করে চলছে অপপ্রচার ও ব্ল্যাকমেইল।
এ ধরনের ঘটনায় প্রতিকার পেতে পুলিশের দ্বারস্থ হচ্ছেন ভুক্তভোগীদের মাত্র ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে, তারাও পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার।
নারীর প্রতি ডিজিটাল সহিংসতার ভয়াবহ এ চিত্র উঠে এসেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের এক গবেষণায়। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে পরিচালিত ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং অ্যান্ড অ্যাড্রেসিং টেকনোলজি ফ্যাসিলিটেটেড জেন্ডার বেইজড ভায়োলেন্স (টিএফজিবিভি) ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণার তথ্য উপস্থাপন অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয় এসব তথ্য।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, জরিপে অংশ নেওয়া নারীদের ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ প্রযুক্তি-সহায়ক লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে এ হার ৬৩ দশমিক ৭ শতাংশ। বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছেন ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণী ও শিক্ষার্থীরা। হয়রানি, অর্থনৈতিক প্রতারণা, যৌন ও ছবি-ভিত্তিক নির্যাতন, ভুয়া আইডি, সাইবার স্টকিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ডিপফেক এ সহিংসতার উল্লেখযোগ্য ধরন। এসব অপরাধে ফেসবুক ও মেসেঞ্জার প্রধান মাধ্যম হিসেবে উঠে এসেছে।
গবেষণায় দেখা যায়, ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশ ভুক্তভুগী অনলাইন মাধ্যম থেকে অপরাধীদের ব্লক করলেও পুলিশের সহায়তা নিয়েছেন মাত্র ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। পুলিশের দ্বারস্থ হওয়া নারীদের ৮১ দশমিক ৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের মামলায় সামান্য অগ্রগতি হয়েছে অথবা কোনো অগ্রগতিই হয়নি। এ ছাড়া, ৭১ দশমিক ৬ শতাংশ নারী মনে করেন, অনলাইন সহিংসতার ঘটনায় সমাজ ভুক্তভোগীকেই দোষারোপ করে। ৬৭ শতাংশ নারী কখনো প্রাতিষ্ঠানিক অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ পাননি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘গবেষণাটির উদ্দেশ্য সামগ্রিক পরিসংখ্যান নির্ধারণ নয়, বরং সহিংসতার কাঠামোগত দুর্বলতা ও সংকট চিহ্নিত করা।’ সুপারিশগুলো সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছে পৌঁছে দিয়ে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন তিনি। তার মতে, জেন্ডার বৈষম্য দূর না হলে সাইবার অপরাধের নতুন রূপ ঠেকানো কঠিন।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম বলেছেন, ‘নারীর অগ্রগতির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো ক্রমবর্ধমান সহিংসতা। এই সংকট মোকাবিলায় মহিলা পরিষদ ডিজিটাল ডায়েট ও ডিসমিস ল্যাবের সহযোগিতায় গবেষণাটি পরিচালনা করেছে। গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো তথ্যভিত্তিক আন্দোলনের মাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা।’
অন্যদিকে, পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের উপপুলিশ কমিশনার লিজা বেগম বলেন, ‘ভুয়া আইডির আড়ালে অপরাধীর পরিচয় শনাক্ত, ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ ও আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’



