উন্নয়ন ও দেশ গঠনে যুব সমাজকে কর্মমুখী করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: পিআইডি
বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে যুব সমাজকে কর্মমুখী করা এবং তাদের হাতে উৎপাদনের চালিকাশক্তি তুলে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ রবিবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় যুব দিবস-২০২৬’, জব ফেয়ার ও যুব মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।
এবারের যুব দিবসের প্রতিপাদ্য ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি যুব মেলা ঘুরে দেখার পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য জাতীয় যুব পুরস্কার ও ইউথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন বা বিপ্লব দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়, একই সঙ্গে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করতে হবে। দীর্ঘদিন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রামের পর এখন মূল লড়াই দেশকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাওয়া। দেশের উন্নয়ন ও তরুণদের ভাগ্য পরিবর্তনে রাজনীতিতে সারাক্ষণ যুক্ত না থেকে সংসদকেন্দ্রিক আলোচনা এবং কর্মমুখী উন্নয়নে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার হলো যুবকদের দেশ গড়ার কাজে সর্বক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকার সুযোগ দেওয়া। সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আত্মনির্ভরশীল, প্রযুক্তিভিত্তিক ও মানবিক যুব সমাজ গড়ে তোলার জন্য তিনি সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি তুলে ধরেন, গতানুগতিক ডিগ্রির চেয়ে দেশের বর্তমান প্রয়োজন অনুযায়ী বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার বেশি দরকার। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে পারলে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ ও রেমিট্যান্স আয় বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।
তরুণদের মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখার তাগিদ দিয়ে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, হতাশা বা তথ্যের অভাবে যেন যুব সমাজ বিপথগামী না হয়, সেজন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সুযোগ-সুবিধাগুলোর প্রচার বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি নারীর প্রতি সহিংসতা ও যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে তরুণ সমাজকে সোচ্চার হয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
ক্ষুদ্র ও তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় ঋণসহায়তা এবং প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। রাষ্ট্রপতি স্মরণ করিয়ে দেন, বাংলাদেশ বর্তমানে যে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা যুবশক্তির সুবিধা ভোগ করছে, তা চিরকাল থাকবে না। তাই বর্তমান যুবশক্তিকে এখনই যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল খায়ের ভুঁইয়া, সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বক্তব্য দেন।



