বাংলাদেশি জনশক্তির মানোন্নয়নে আগ্রহ প্রকাশ সুইজারল্যান্ডের

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হকের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি
বাংলাদেশের জনশক্তিকে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ কর্মীতে পরিণত করতে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সুইজারল্যান্ড। একই সঙ্গে নিরাপদ অভিবাসন, দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রত্যাবর্তনকারী কর্মীদের পুনর্বাসনেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে দেশটি।
আজ রবিবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি এসব কথা বলেছেন।
বৈঠকে আরিফুল হক বললেন, ‘বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে সুইজারল্যান্ড ধারাবাহিকভাবে সহযোগিতা করে আসছে।’
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আরিফুল হক। বললেন, ‘এ সংকটে অনেক বাংলাদেশি কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। তাই প্রত্যাবর্তনকারী কর্মীদের পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।’
এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতার প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম (ওইপি) উন্নয়নে সুইজারল্যান্ডের কারিগরি সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী বললেন, ‘এই প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর করেছে। প্ল্যাটফর্মটিকে আরও শক্তিশালী করতে জনবল চাহিদা ব্যবস্থাপনা, মেডিকেল সেন্টার সংযুক্তকরণ, জব পোর্টাল উন্নয়ন এবং একটি নিবেদিত মোবাইল অ্যাপ চালুর ক্ষেত্রে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
তিনি বললেন, ‘বর্তমান সরকার নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শ্রমিক কল্যাণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
সুইজারল্যান্ডের কারিগরি শিক্ষা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের বৈশ্বিক সুনামের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বললেন, ‘বাংলাদেশের তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী দেশটির স্বাস্থ্যসেবা, কেয়ারগিভিং, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, হসপিটালিটি ও নির্মাণ খাতসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য সুইজারল্যান্ডে বৃত্তির সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।’
বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বললেন, ‘সুইজারল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশি ডায়াসপোরা কমিউনিটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে এ কমিউনিটিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে।’
সুইস রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি বললেন, ‘গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। বিদেশফেরত কর্মীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পুনর্বাসনে গুরুত্বারোপ করেন।’
তিনি বললেন, ‘বাংলাদেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড একটি বড় সম্ভাবনা। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’
‘সুইজারল্যান্ড তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের জনশক্তিকে আরও দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করতে আগ্রহী।’—যোগ করেন তিনি।





