শিল্পে গ্যাস সংকট কমাতে কমিটি গঠন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই দেশে ভয়াবহ গ্যাস সংকট চলছে। যার আচ লেগেছে সবখানেই। তবে সবচেয়ে বেশি ভুগছে শিল্প-কারখানাগুলো। গ্যাসের অভাবে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, ব্যয় বাড়ছে।
এমন পরিস্থিতিতে শিল্পে গ্যাস সংকট কমাতে ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে গত ১৩ অক্টোবর একটি কমিটি গঠন করেছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ, যার নেতৃত্বে আছেন প্রধান পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান।
কমিটির সদস্যসচিব পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইন্স)। সদস্য হিসেবে রয়েছেন ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিকেএমইএ, বিজিএমইএ, বিটিএমইএ, বিটিএলএমইএ ও বিটিএমএর প্রতিনিধিরা। এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত সব গ্যাস বিতরণ কোম্পানি এবং সঞ্চালন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে গ্যাস সংযোগের বিষয়ে পাওয়া প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে সাত দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহের সুপারিশ দিতে হবে কমিটিকে। প্রয়োজনে কমিটি সংশ্লিষ্ট এক বা একাধিক ব্যক্তিকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।
কমিটির একজন সদস্য আগামীর সময়কে জানান, এটি আসলে নতুন গ্যাস সংযোগের কোনো কমিটি নয়। মূলত এখন যাদের সংযোগ রয়েছে তাদের অনেকেই ঠিকমতো গ্যাস পাচ্ছেন না। আবার গ্যাস পেলেও চাপ কম। এই সংকট কতটা কমানো যায় তা নিয়েই সুপারিশ করবে কমিটি।
বর্তমানে সরকারি হিসেবে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। যদিও প্রকৃত চাহিদা ৫৫০ কোটি ঘনফুটের মতো। বিপরীতে গড়ে সরবরাহ করা হচ্ছে ২৪০-২৫০ কোটি ঘনফুট। এরমধ্যে কমবেশি ১০০ কোটি ঘনফুট পাওয়া যায় উচ্চমূল্যের আমদানীকৃত এলএনজি থেকে।
এই এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হলে গ্যাস সংকট তীব্র হয়। সাম্প্রতিক সময়ে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড এবং পরবর্তী সময়ে সময়মতো কার্গো না পাওয়া এলএনজি সরবরাহ মারাত্মক ব্যাহত হওয়ায় দেশে শুরু হয় গ্যাস দুর্যোগ। এতে শিল্প উৎপাদনে ধস নামে।
দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবসায়ীরা শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়ে আসছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের কথা বলে দফায় দফায় শিল্পে গ্যাসের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু গ্যাস মেলেনি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের গ্যাস দেওয়ার আশ্বাসে বহু উদ্যোক্তা বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করে কারখানা তৈরি করলেও তা উৎপাদনে যেতে পারছে না গ্যাসের অভাবে। তাদের ঋণের সুদের পাশাপাশি লোকসান গুনতে হচ্ছে।
এর আগে ৮ অক্টোবর জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সভায় গ্যাস সরবরাহসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমতে থাকায় নতুন করে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে আরও তিনটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ এবং দেশীয় কূপ অনুসন্ধানে নতুন গ্যাস পেলে তখন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে।



