বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ বন্ধে আইনি কাঠামো আরো শক্তিশালী করার সুপারিশ

বাল্যবিবাহ বন্ধে জনসচেতনতামূলক এমন নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে দেশে। ফাইল ছবি
বাল্যবিবাহ বন্ধে আইন আছে বাংলাদেশে, তারপরও দক্ষিণ এশিয়ায় এমন বিয়ের হার সবচেয়ে বেশি এই দেশেই। এমন পরিসংখ্যান তুলে ধরে বাল্যবিবাহ বন্ধে আইনি কাঠামো আরো শক্তিশালী করার সুপারিশ করেছে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) ও জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)।
২০১৭ সালে বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন প্রণয়নের পর পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে এক প্রতিবেদনে এই সুপািরশ করেছে জাতিসংঘ সংস্থা দুটি। গত ১১ অক্টোবর ইউএনএপিএ বাংলাদেশের ওয়েবসাইটে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
ইউএনএপিএ ও ইউনিসেফ বলছে, বাংলাদেশে ১৮ বছরের আগে বিয়ে হওয়া মেয়েদের অনুপাত ২০১৯ সালের ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে ৪৭ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এলেও তা এখনো দক্ষিণ এশিয়া ব্যাপকতা এ দেশেই সবচেয়ে বেশি।
প্রতিবেদনে তথ্য দেওয়া হয়েছে, বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের শিকার নারীর সংখ্যা আনুমানিক ৪ কোটি ১৬ লাখ। এর মধ্যে ২ কোটি ২৩ লাখ মেয়ের বিয়ে হয়েছে ১৫ বছর বয়স হওয়ার আগেই।
বাল্যবিবাহের কুফল তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, এতে মেয়েদের শিক্ষাজীবনে বাধা সৃষ্টি করে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত করে এবং অল্প বয়সে গর্ভধারণের ঝুঁকি বাড়ায়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে তাদের স্বাস্থ্য, সুস্থতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ওপর।
বাংলাদেশে অঞ্চল ও আর্থসামাজিক শ্রেণিভেদে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অগ্রগতির চিত্রে অসমতা রয়েছে বলে জাতিসংঘ সংস্থা দুটির পর্যবেক্ষণ। তারা বলছে, গ্রামীণ এলাকার মেয়ে, দরিদ্র পরিবারের মেয়ে এবং যাদের শিক্ষার সুযোগ সীমিত, তাদের বাল্যবিবাহের ঝুঁকি বেশি।
২০১৭ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন প্রণয়নের পর ২০১৮ সালের এ-সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন, জনসচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রম এবং জাতীয় হেল্পলাইন চালুর প্রশংসা করেছে ইউএনএফপিএ ও ইউনিসেফ।
তারপরও আইনের বিভিন্ন অসঙ্গতি, বাল্যবিবাহ বাতিলের পর্যাপ্ত বিধানের অভাব এবং আইন বাস্তবায়নে বিদ্যমান নানা চ্যালেঞ্জ এর কার্যকারিতা সীমিত করছে বলে ইউএনপিএর পর্যবেক্ষণ।
তাই সংস্থাটির সুপারিশ, মেয়েদের অধিকার সুরক্ষা এবং বাল্যবিবাহ বন্ধে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন এবং ধারাবাহিক, কার্যকর ও স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।



