বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ৭৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর

ছবি: আগামীর সময়
দেশে ট্রান্সফরমার, সুইচগিয়ারসহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৪৭৫ কোটি ডলারের। এর ৭৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়। অথচ দেশেই এসব পণ্য উৎপাদনে সক্ষম শতাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সরকারি ক্রয়ে দেশীয় পণ্যে অগ্রাধিকার, কাঁচামালে শুল্ক কমানো ও আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে আগামী ১০ বছরে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে ১ হাজার ৪৩০ কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রান্সফরমার্স অ্যান্ড সুইচগিয়ার্সের (বিম্যাটস) প্রথম বার্ষিক সাধারণ সভা উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, দেশে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও নীতিগত সীমাবদ্ধতা, কর কাঠামো ও মান যাচাইয়ের পর্যাপ্ত সুবিধার অভাবে স্থানীয় শিল্প প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারছে না। প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব।
বিম্যাটসের সভাপতি প্রকৌশলী আলী আজমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী।
সেমিনারে জানানো হয়, বিম্যাটসের ৩৩টি সদস্য প্রতিষ্ঠানসহ শতাধিক দেশীয় প্রতিষ্ঠান এসব পণ্য উৎপাদন করছে। সংগঠনটির কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ভারত, নেপাল, তানজানিয়াসহ আটটি দেশে ২ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে।
বক্তারা জানান, বিশ্ববাজারে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের বাজার বর্তমানে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের। আগামী ১০ বছরে তা ৯০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নীতিগত সহায়তা পেলে একই সময়ে বাংলাদেশের এ খাতের বার্ষিক রপ্তানি প্রায় ৪০০ কোটি ডলারে উন্নীত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিমসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



