সংসদে প্রধানমন্ত্রী
মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের নির্ভুল তালিকা তৈরির চেষ্টা চলছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রকৃত শহীদ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন যাদের দায়িত্ব ছিল— তারা সেটার রাজনীতিকরণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্যের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সরকারপ্রধানের ভাষ্য, ‘মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি গঠন করেছে। আমরা চেষ্টা করব যারা মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ তাদের চিহ্নিত করতে’।
আজ বুধবার ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিকাল ৩টায় শুরু হয় সংসদ অধিবেশন। দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী প্রথম ৩০ মিনিট ছিল প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নকাল। প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ছিল ৭টি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন। এরমধ্যে তিনি নির্ধারিত সময়ে তিনটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন ও এ সংক্রান্ত সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।
একাত্তরের শহীদ পরিবারের ও গণহত্যার সঠিক তালিকা প্রণয়নের পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা জানতে চেয়েছিলেন রুহুল আমীন দুলাল। প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তার দলের নির্বাচনী অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। বলেন, ‘এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। গবেষকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ সভা আয়োজন, বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ।’
‘এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণহত্যার শিকার ও সকল শহীদের একটি নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রদান সম্ভব হবে।’
কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাকে একটু স্মরণ করিয়ে দিতে চাই বিএনপি হচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, মাঠে থেকে যুদ্ধ করেছেন এবং স্বাধীনতার ঘোষণাও দিয়েছিলেন।’
‘বর্তমানে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে বিএনপি। স্বাভাবিকভাবেই এই দল বিশ্বাস করে মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তাদের পবিত্র দায়িত্ব রয়েছে এবং সে কারণেই আমি বলেছি, দেশ স্বাধীনের পরে যাদের দায়িত্ব ছিল শহীদদের ও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন করা তারা সেটা নিরপেক্ষভাবে সঠিকভাবে করেনি। বর্তমানে সরকার চেষ্টা করছে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে একটির পূর্ণাঙ্গ সঠিক মুক্তিযোদ্ধার তালিকা তৈরি করতে।’
কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ প্রসঙ্গে
কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির স্মরণে রাজধানীতে একটি সড়কের নামকরণের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান।
বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানের আনা এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলছিলেন, ‘আমি গতকালই ঢাকা সিটি করপোরেশনে একটি সড়কের নাম মরহুমের নামে করতে এলজিইডি মন্ত্রণালয়কে মৌখিকভাবে নির্দেশনা দিয়েছি।
কাতারের সাবেক আমির মৃত্যুতে বুধবার শোক পালন করছে বাংলাদেশ। অর্ধনির্মিত রাখা হয়েছে জাতীয় পতাকা। বাংলাদেশের শোক ও সমবেদনা জানাতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ গেছেন দোহায়।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সাবেক আমিরের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ‘মরহুম শেখ হামাদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে কাতারের জনগণের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করছি। কাতার এমন একটি দেশ যারা আমাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছে বা করছে। লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশিকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়ে কাতারও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন যাত্রাতেও অংশীদার। শুধু তাই নয়, যখন মধ্যপ্রাচ্যে হরমুজ প্রণালী নিয়ে একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, কাতার নিজে আক্রান্ত হওয়ার পরও আমাদের প্রবাসীদের তারা টেক কেয়ার করেছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।’
বে টার্মিনাল
চট্টগ্রামে ‘বে টার্মিনাল’ চালু হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে শুভ সূচনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সরওয়ার জামাল নিজামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।
সংসদ সদস্যের প্রশ্ন ছিল, বর্তমান সরকার চট্টগ্রাম বন্দরকে বিশ্বের আধুনিক বন্দর করতে কি কি পদক্ষেপ নিয়েছে?
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রশ্নের ডিটেইলটা এই মুহূর্তে আমার কাছে নেই। আপনি নোটিস দিলে ডিটেলটা জানাতে সক্ষম হব। তবে বে টার্মিনাল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি। এটা চালু হলে অবশ্যই সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি এবং দেশ লাভবান হবে। বড় আকারের মাদার ভেসেল সরাসরি বন্দরে ভিড়তে পারবে। এখন নাব্যতার জন্য অনেক সময় বড় জাহাজ আসতে পারে না।’
তার মতে, ‘যখন বড় জাহাজগুলো আসবে এর ফলে খরচ কমে আসবে। একই সাথে বড় জাহাজগুলো আসার পরে এবং বে টার্মিনাল চালু হলে পরে আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের গতি বাড়বে।’
দুর্নীতি হলে ব্যবস্থা
সরওয়ার জামাল নিজামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাকে জানাতে চাই, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের সম্পদ এবং এটি একটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ, জনগণের সম্পদ। এখানে কোনো কাজ করতে গিয়ে যদি দুর্নীতি হয়ে থাকে— সেটি যখনই হয়ে থাকুক না কেন অবশ্যই দেশের আইন অনুযায়ী বিচার হবে।’
‘একই সাথে আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় যেন না হয়’, যোগ করেন সরকারপ্রধান।




