সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে লম্বা লুঙ্গি ও পায়জামা পরুন

পুরনো ছবি
ডেঙ্গু মোকাবিলায় দেশ জুড়ে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বললেন, ‘সবাইকে মশারি টানিয়ে ঘুমানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফুলহাতা শার্ট পরতে বলা হচ্ছে। পাশাপাশি পায়জামা বা লুঙ্গি লম্বা করে পরার জন্যও মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।’
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালিবিধির ৭১ বিধিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের দেওয়া জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিসের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বললেন, ‘আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখছি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রাখার জন্য প্রতিনিয়ত আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা স্প্রে করে যাচ্ছি, আমরা লার্ভার ট্যাবলেট ছিটিয়ে যাচ্ছি। দেশব্যাপী মানুষকে মশারি টানিয়ে ঘুমানোর জন্য, ফুল হাতা শার্ট পরার জন্য, পায়জামা পরার জন্য বা লুঙ্গি লম্বা করে পরার জন্য আমরা মানুষের অ্যাওয়ারনেস বৃদ্ধি করতেছি।’
তার ভাষ্য, ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমি এরই মধ্যে বলেছি ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমরা সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমি আরও বলতে চাই ডেঙ্গু টেস্ট করার রিএজেন্ট, স্মরণাতীতকালের স্টক আমাদের হাতে আছে, যেটা বিগত সময়ে কোনো সরকার তাদের হাতে রাখতে পারে নাই। আমরা টেস্ট করার জন্য সেই কিটের ব্যবস্থা আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে মাঠ লেভেলে দিয়েছি। আমাদের সেন্ট্রাল গোডাউনে আমাদের স্টক আছে।’—যোগ করেন তিনি।
দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বললেন, ‘সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ বেড সংরক্ষিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। পর্যাপ্ত কিট ও স্যালাইন মজুদ রাখা হয়েছে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদে পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৯৭৮ জন এবং মারা গেছেন ২৮ জন। যেখানে গত বছর (২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত হিসাবে) আক্রান্ত ছিলেন ১৫ হাজার ২১০ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৮ জনের।
মন্ত্রী বললেন, ‘পরিসংখ্যান অনুযায়ী গতবারের তুলনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু অর্ধেকেরও কম। আমরা এতে আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না, যেহেতু মানুষ এখনো আক্রান্ত হচ্ছে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানালেন, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু এনএসওয়ান পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হচ্ছে। এ ছাড়া আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষার ফি ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ৫০ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে ১ লাখ ৬ হাজার ৬০০ কিট মজুদ আছে। আগামী এক মাসে আরও ৫ লাখ কিট যোগ হবে। পাশাপাশি ১ লাখ অতিরিক্ত স্যালাইন ব্যাগ বিশেষ রিজার্ভ হিসেবে রাখা হয়েছে।
বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বিষয়ে মন্ত্রী বললেন, ‘দেড় মাস আগেই বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন মোট বেডের ১০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীদের জন্য খালি রাখা হয়। একই সঙ্গে সরকারি রেটেই যেন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়, সে ব্যাপারে তারা সম্মতি দিয়েছেন।’
ডেঙ্গু পরিস্থিতি যদি ভয়াবহ আকার ধারণ করে, তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে মোবাইল হসপিটাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে ব্যবহারের প্রস্তুতিও রয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি জানালেন, জেলা পর্যায়ে আইসিইউ সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। এরই মধ্যে ১২টি জেলায় ১০ বেডের আইসিইউ চালু হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও ৫টি জেলায় তা চালু হবে।
মশা নিধনে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর অনুরোধ জানান। তিনি বললেন, ‘মশা খুব ক্ষুদ্র পতঙ্গ। আমাদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে যত্রতত্র পানি জমে থাকে। বাড়ির ভেতরে মশক নিধনকর্মীদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে।’




