বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
আগামীর সময়
মিথ্যা বলার যুগ শেষ! কোথায় আছেন শনাক্ত করবে বিজ্ঞান

মিথ্যা বলার যুগ শেষ! কোথায় আছেন শনাক্ত করবে বিজ্ঞান

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
আগামীর সময়
আগামীর সময় জাতীয়

জ্বালানির তাপ পর্যটনেও

  • পাহাড়-সমুদ্রে কমেছে ঘোরাফেরা
  • উধাও পর্যটকদের ব্যক্তিগত গাড়ি
  • বেড়েছে ভ্রমণ ব্যয়
  • পর্যটননির্ভর অঞ্চলের অর্থনীতিতে ধস
অনলাইন ডেস্কপ্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:২২
জ্বালানির তাপ পর্যটনেও

জ্বালানি সংকটের কারণে পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব। অলংকরণ : অনন্যা প্রমা

জ্বালানি সংকটে থমকে আছে উন্নয়ন কাজ। অব্যাহত লোডশেডিংয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে ভাটা। চরম প্রভাব পড়েছে পর্যটনশিল্পেও। দেশের অন্যতম পর্যটন গন্তব্যগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে এমন চিত্র।

কয়েক বছর পর এবারের ঈদে সিলেটের পর্যটনে কেটেছে ‘শনির দশা’। তবে রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও ধস নেমেছে পর্যটনে। আবার মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা সাগরকন্যাখ্যাত কুয়াকাটার ব্যবসায়ীদের। এমনিতেই পর্যটকের খরা কাটছে না, তার ওপর লাগামহীন লোডশেডিং আর জ্বালানি সংকট। দেখা দিয়েছে পর্যটকশূন্যতা। একই চিত্র শ্রীমঙ্গল ও বান্দরবানে।

ঈদের ছুটিতে পর্যটকের আগমনে ফিরেছিল কিছুটা স্বস্তি। তবে জ্বালানি সংকট, তীব্র গরম আর লোডশেডিংয়ের কারণে তা আরও ক্ষতির মুখে

পরিস্থিতি এমন চললে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যটকসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। জ্বালানি সংকটে যেমন পরিবহন ভাড়া বেড়েছে, তেমনি হোটেল-মোটেলগুলোও দিতে পারছে না পর্যাপ্ত সেবা। ক্ষতির মুখে শিল্পটি।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজান মাসে পর্যটকদের তেমন সাড়া পড়েনি কুয়াকাটায়। ঈদের ছুটিতে পর্যটকের আগমনে ফিরেছিল কিছুটা স্বস্তি। তবে জ্বালানি সংকট, তীব্র গরম আর লোডশেডিংয়ের কারণে আবারও  ক্ষতির মুখে। কুয়াকাটা থেকে হঠাৎ করেই উধাও ব্যক্তিগত পরিবহন ব্যবহারকারী পর্যটকরা।

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এখন অনেকটাই ফাঁকা । ছবি : আগামীর সময়

সংকটে পর্যটননির্ভর পরিবহন ও হোটেল

জ্বালানি সংকটের কারণে পর্যটননির্ভর পরিবহনব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে বন্ধ বা সীমিত হয়ে পড়েছে পর্যটনবাহী গাড়ি চলাচল। তাতে পর্যটকদের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্পটগুলোতে কমে গেছে ভিড়।

‘এখনো তেমন সমস্যা হচ্ছে না গ্রুপ ট্যুরগুলোতে। আগে একাধিক ট্যুর পরিচালনা করা যেত প্রতিদিন। এখন জ্বালানি সংকটের কারণে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাড়তি খরচের কারণে আগ্রহ হারাচ্ছেন পর্যটকরাও,’ বর্ণনা করছিলেন ট্রাভেলার্স অব গ্রেটার সিলেটের ট্যুর অপারেটর শেখ রাফি।

আমাদের ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ। চাহিদামতো ডিজেল পাচ্ছি না। যে কারণে লোডশেডিংয়ে জেনারেটর চালাতে পারছি না। গত দুদিন ধরে তো দিনের বেলা জেনারেটর না চালিয়ে শুধু রাতের বেলা চালাচ্ছি

কুয়াকাটার মতো একই দুর্ভোগের কথা জানালেন সিলেটের হোটেল মালিকরা। বিদ্যুৎ সংকট পরিস্থিতিকে করেছে আরও জটিল। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যাঘাত ঘটছে নিরবচ্ছিন্ন সেবায়। পর্যাপ্ত ডিজেলের অভাবে চালানো যাচ্ছে না জেনারেটর। তাতে হোটেলগুলোর পাশাপাশি দুর্ভোগ পর্যটকদেরও।

সিলেট নগরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জিন্দাবাজারের হোটেল গোল্ডেন সিটির মহাব্যবস্থাপক মৃদুল কান্তি দত্তের ভাষ্য, ‘আমাদের ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ। চাহিদামতো ডিজেল পাচ্ছি না। যে কারণে জেনারেটর চালাতে পারছি না। গত দুদিন ধরে দিনের বেলা জেনারেটর না চালিয়ে শুধু রাতের বেলা চালাচ্ছি; কিন্তু জ্বালানি না পেলে তাও সম্ভব হবে না। যে কয়েকজন পর্যটক আসছেন তারাও ফিরে যাচ্ছেন।’

শ্রীমঙ্গলের রিসোর্টগুলোতেও নেই কাঙ্ক্ষিত পর্যটক। ছবি: আগামীর সময়

বেড়েছে গাড়ি ভাড়া

এদিকে জ্বালানি সংকটে কারণে গাড়ি ভাড়াও বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। সংশ্লিষ্টরা জানান, জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ায় ভাড়া বাড়িয়ে দিচ্ছেন পরিবহনচালকরা। তাতে বেড়েছে পর্যটকদের ভ্রমণ ব্যয়। ফলে অনেকেই বাতিল করছেন তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা।

দুই মাস আগেও আমার গাড়ি প্রতিদিন সকাল-বিকেল পর্যটক নিয়ে কুয়াকাটায় আসা-যাওয়া করত; কিন্তু বর্তমানে পর্যটকের উপস্থিতি কম হওয়ায় গাড়ি আসছে সপ্তায় মাত্র তিন দিন

হোটেল ব্যবসার দুরবস্থার কথা জানালেন সিলেট নগরের গ্র্যান্ড হোটেলের ম্যানেজার সায়মন। ‘ঘন ঘন লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকট কঠিন হয়ে পড়েছে হোটেল পরিচালনায়। অতিরিক্ত খরচে চালাতে হচ্ছে জেনারেটর। সব সময় মিলছে না প্রয়োজনীয় জ্বালানিও। কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় বুকিংও কমে গেছে আগের তুলনায়।’

কুয়াকাটার প্রথম শ্রেণির সিকদার হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের ম্যানেজার মো. আল আমিন জানান, পর্যটকের সবচেয়ে বড় খরা চলছে তার এখানে। ব্যক্তিগত পরিবহনের দেখা মিলছে না তেমন। অগ্রিম বুকিংয়ের কোনো খবরই নেই।

আগে অনেকেই কুয়াকাটা সৈকতে প্রাইভেট কার নিয়ে আসতেন। জ্বালানি সংকটে এখন আর আসেন না তেমন কেউ। ছবি: আগামীর সময়আগে অনেকেই কুয়াকাটা সৈকতে প্রাইভেট কার নিয়ে আসতেন। জ্বালানি সংকটে এখন আর আসেন না তেমন কেউ। ছবি: আগামীর সময়

তেলের অভাবে চলছে না জেনারেটর

দিন-রাত মিলিয়ে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় হোটেলের জেনারেটর চালিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান আল আমিন। প্রতিটা জেনারেটর এক ঘণ্টা সচল রাখতে অন্তত ৬০ থেকে ৬৫ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন; কিন্তু এত পরিমাণ ডিজেল মিলছে না। এ বছর ব্যবসায় চরম ক্ষতির আশঙ্কা তার।

বাটারফ্লাই ইফেক্ট পড়ার আশঙ্কা পর্যটন ব্যবসায়ীদের। কারণ পর্যটকরা ঘুরতে এসে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। পরেরবার আসতে চায় না। এমন নেতিবাচক অভিজ্ঞতা পরিচিত মহলে জানালে তারাও হারিয়ে ফেলে ভ্রমণের আগ্রহ

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফেরও একই আশঙ্কা। ‘এ বছর তেল সংকটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিং। হোটেলে একজন পর্যটক থাকলেও তার জন্য জেনারেটর চালানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু ছোট ছোট হোটেলে যেখানে জেনারেটর চালানোর জন্য ১৫ থেকে ২০ লিটার ডিজেল দরকার, সেখানে সরকারি নিয়মে পাম্প থেকে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ১০ লিটার। সেই তেল দিয়ে কতক্ষণ জেনারেটর চালানো সম্ভব?’ প্রশ্ন রাখেন তিনি।

এর বাটারফ্লাই ইফেক্ট পড়ার আশঙ্কা পর্যটন ব্যবসায়ীদের। কারণ পর্যটকরা ঘুরতে এসে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। পরেরবার আসতে চায় না। এমন নেতিবাচক অভিজ্ঞতা পরিচিত মহলে জানালে তারাও হারিয়ে ফেলে ভ্রমণের আগ্রহ। তাতে বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

ডিজেলের অভাবে জেনারেটর চলছে না। তাতে ব্যাহত হচ্ছে লোডশেডিংয়ের সময় হোটেলের সেবা। ছবি: আগামীর সময়
ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে আসার সংখ্যাও কমে গেছে

মোতালেব শরীফের মতে, ঢাকা থেকে কক্সবাজারের তুলনায় সড়কপথে কুয়াকাটায় আসতে কম সময় লাগে। তাই অনেকেই আসতেন ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে; কিন্তু তেল সংকটের কারণে এখন তারাও আসছেন না।

‘দুই মাস আগেও আমার গাড়ি প্রতিদিন সকাল-বিকেল পর্যটক নিয়ে কুয়াকাটায় আসা-যাওয়া করত; কিন্তু বর্তমানে পর্যটকের উপস্থিতি কম হওয়ায় গাড়ি আসছে সপ্তায় মাত্র তিন দিন,’ বলছিলেন ঢাকা-কুয়াকাটা বিলাসবহুল পরিবহন ইউরো কোচের কুয়াকাটা ইনচার্জ কে এম বাচ্চু।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জেনারেটরের গভীর সম্পর্ক। কারণ এখানকার রাখাইন মার্কেট, ঝিনুক মার্কেট, ফিশ ফ্লাই, কাপড়ের দোকান, খাবার ও আবাসিক হোটেলসহ সব পর্যায়ে বিদ্যুৎ না থাকলেও বাধ্য হয়ে চালাতে হয় জেনারেটর

‘স্বাভাবিক কারণেই মনে করতে পারেন এখানে পর্যটকের উপস্থিতি কেমন?’ প্রশ্ন করেন তিনি। তার মতে, আগের মতো মোটরসাইকেলবাহী পর্যটকদের দেখা নেই বললেই চলে। যাও কিছু আসে, তাও আঞ্চলিক পর্যটক। পরিবহনে তেল সংকটের কারণে এখানে পর্যটকদের উপস্থিতি অনেক কমেছে বলে মনে করেন তিনি।

কুয়াকাটার ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের (টোয়াক) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন রাজু জানান, দুই মাস আগেও অর্ধশত প্রাইভেটকার নিয়ে আসতেন পর্যটকরা। কিন্তু এখন দেখা যায় হাতে গোনা দু-একটা। এমনিতেই এখন পর্যটন মৌসুম না, তারপরও প্রতিবছর এ সময়ে কমবেশি কিছু পর্যটক থাকে, যা এবার চোখে পড়েনি। তেল সংকটে ভুগছে এখানকার ছোট ছোট হোটেল ব্যবসায়ীরা।

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের আয় তুলনামূলক অনেক বেশি কমে গেছে। ছবি: আগামীর সময়
ডিজেল সংকটে হোটেল ব্যবসা

বাচ্চু জানিয়েছেন, কুয়াকাটার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জেনারেটরের গভীর সম্পর্ক। কারণ এখানকার রাখাইন মার্কেট, ঝিনুক মার্কেট, ফিশ ফ্লাই, কাপড়ের দোকান, খাবার ও আবাসিক হোটেলসহ সব পর্যায়ে বিদ্যুৎ না থাকলেও বাধ্য হয়ে চালাতে হয় জেনারেটর। কিন্তু প্রতিদিন ৫-৬ ঘণ্টার লোডশেডিং সামাল দিতে জেনারেটরে যে পরিমাণ ডিজেল দরকার অধিকাংশ ব্যবসায়ীই তা সঠিক সময়ে পায় না।

তেল সংকটে জেনারেটর চালাতে না পারায় ব্যবসায়ীদের ক্ষতির কথাও জানিয়েছেন আবুল হোসেন রাজু। ‘সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সৈকতে ফিশ ফ্রাই মার্কেটে অর্ধশত দোকানে পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকত। কিন্তু এখন মাত্র তিন-চারটি দোকান খোলা থাকে। তাও সন্ধ্যা থেকে অল্প সময়ের জন্য। তেল সংকটের প্রভাব পড়েছে সৈকতে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকদের ওপরও। বেকার সময় যাচ্ছে তাদের,’ বলছিলেন রাজু।

পাহাড়ে সংক্রান্তি উৎসবের সময় পর্যটনমুখর পরিবেশ থাকলেও এবার তা দেখা যায়নি। ছবি: আগামীর সময়
কমে গেছে সংশ্লিষ্টদের আয়

পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় গাইড ও নৌকা চালকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। পর্যটক কমে যাওয়ায় তাদের আয়ও নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। অনেকেই বিকল্প পেশার দিকে ঝুঁকছেন বলে জানিয়েছেন পর্যটন নিয়ে কাজ করা সিলেট পর্যটন শিল্প সমবায় সমিতির সভাপতি ফখরুল ইসলাম মিয়া।

টানা লোডশেডিংয়ের কারণে অতিষ্ঠ পর্যটকরা। ঈদ, পাহাড়িদের সংক্রান্তি উৎসব এবং নববর্ষ উপলক্ষে পর্যটকদের ভিড় থাকার কথা ছিল। কিন্তু প্রচণ্ড গরম আর লোডশেডিংয়ের কারণে আগের তুলনায় ৩০ শতাংশ পর্যটকও আসেনি

‘পরিবহন চলাচল কমে যাওয়ায় কমেছে পর্যটকের আগমন। কমেছে আমাদের আয়ও। নিয়মিত কার্যক্রম চালাতে পারছেন না অনেক ট্যুর অপারেটর। যদি দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হয়, তাহলে এই খাত আরও বড় সংকটে পড়বে,’ জানালেন তিনি।

বান্দরবানেও পড়েছে প্রভাব

এদিকে বান্দরবান জেলায় সরবরাহের দায়িত্বে চার বিদ্যুৎ বিভাগ। ফলে স্বাভাবিক সময়েও বিদ্যুৎ সরবরাহে সমন্বয় করা যাচ্ছে না। সম্প্রতি লোডশেডিংয়ের কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ, যার প্রভাব পড়েছে এখানকার পর্যটনেও।

বান্দরবান জেলা হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলামের ভাষ্য, ‘টানা লোডশেডিংয়ের কারণে অতিষ্ঠ পর্যটকরা। ঈদ, পাহাড়িদের সংক্রান্তি উৎসব এবং নববর্ষ উপলক্ষে পর্যটকদের ভিড় থাকার কথা ছিল। কিন্তু প্রচণ্ড গরম আর লোডশেডিংয়ের কারণে আগের তুলনায় ৩০ শতাংশ পর্যটকও আসেনি।’

ঈদের পর এই সময়টিতে সাধারণত শ্রীমঙ্গলে শুরু হয় পর্যটন মৌসুম। বর্ষা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে চা-বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার কথা থাকলেও এবার দেখা যাচ্ছে তার ব্যতিক্রম

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবান জেলা সদরসহ ৪টি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যায় চট্টগ্রামের দোহাজারী সান-গ্রিড থেকে। এই ৪টি উপজেলায় বিদ্যুৎ প্রাপ্তির আরেকটি বিকল্প উৎস চন্দ্রঘোনা হয়ে রাঙামাটি থেকে। অন্যদিকে লামা ও আলীকদম উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে কক্সবাজারের চকরিয়া বিদ্যুৎ বিভাগ। আর নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় তদারকির দায়িত্ব কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিভাগের।

বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুম আমির জানান, জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে জেলা সদর, রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ তত্ত্বাবধান করা হয় এই বিভাগ থেকে। অন্য ৩টি উপজেলার মধ্যে লামা ও আলীকদম উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্ব চকরিয়া বিতরণ বিভাগ এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দায়িত্ব কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিভাগের ওপর। বান্দরবান বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের আওতাধীন এলাকায় স্বাভাবিক বিদ্যুতের চাহিদা ১৪ মেগাওয়াট। সরবরাহ পাচ্ছি ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াট। বৃহস্পতি ও শুক্রবার পাওয়া যাচ্ছে গড়ে ৬ মেগাওয়াটের কম। এই প্রাপ্তি দিয়ে জেলা শহরকে সামলাতে হয়।

জ্বালানির অভাবে সৈকতে এখন আর বাইকের দেখা তেমন মিলছে না। ছবি: আগামীর সময়
মাসুম আমিরের মতে, পর্যটন সম্ভাবনাময় থানচি-রুমার সমস্যা লোডশেডিং নয়, এটি সরবরাহ লাইনের সমস্যা।

‘সমস্যা হচ্ছে রুমা ও থানচি উপজেলাকে নিয়ে। এ দুটি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় ওয়াইজংশন সাবস্টেশন থেকে। এই সাবস্টেশনটি ৪ বছর আগে আধুনিকায়ন করা হলেও সেখান থেকে রুমা ও থানচির সরবরাহ লাইন খুব পুরোনো ও জীর্ণ। আমরা লোডশেডিং না দিলেও এই লাইন দুটি প্রায়ই অকার্যকর হয়ে পড়ে থাকায় থানচি-রুমার বিদ্যুৎ গ্রাহকরা বিদ্যুৎ পান না’, যোগ করেন মাসুম আমির।

শ্রীমঙ্গলের রিসোর্ট পর্যটকশূন্য

জ্বালানি সংকটের প্রভাবে চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলের পর্যটন খাতে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের মন্দা। পর্যটক না থাকায় হোটেল-রিসোর্টগুলো পড়ে আছে প্রায় ফাঁকা। আয় কমে যাওয়ায় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাজারো মানুষ।

আগে সাপ্তাহিক ছুটিতে প্রচণ্ড ব্যস্ততা থাকলেও এখন রেস্টুরেন্ট প্রায় ফাঁকা। এতে পড়তে হচ্ছে বড় ধরনের লোকসানের মুখে। জেনারেটর চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি নেই

সম্প্রতি উপজেলার রাধানগর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, যেখানে সাপ্তাহিক ছুটিতে পর্যটকদের ভিড়ে থাকে সরগরম, সেখানে এখন বিরাজ করছে নীরবতা। নেই পর্যটকদের কোলাহল, নেই আগের মতো যানজট বা ব্যস্ততা। অধিকাংশ রিসোর্টে কক্ষ খালি পড়ে আছে। আগে আগাম বুকিং ছাড়া যেখানে রুম পাওয়া যেত না, এখন সেখানে অতিথির সংকট স্পষ্ট। যার ফলে সরাসরি প্রভাব পড়ছে পর্যটননির্ভর অঞ্চলের অর্থনীতিতে।

‘আগে যেখানে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং থাকত, বর্তমানে তা কমে নেমে এসেছে প্রায় ২০ শতাংশে। একই চিত্র স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোতেও। পর্যটক কমে যাওয়ায় ব্যবসা প্রায় স্থবির,’ জানালেন নভেম ইকো রিসোর্টের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. সোহাগ হোসাইন।

একই সংকটের কথা জানালেন রাধানগরের চামুং রেস্টুরেন্টের সহকারী ব্যবস্থাপক দীলিপ পাশি। ‘আগে সাপ্তাহিক ছুটিতে প্রচণ্ড ব্যস্ততা থাকলেও এখন রেস্টুরেন্ট প্রায় ফাঁকা। এতে পড়তে হচ্ছে বড় ধরনের লোকসানের মুখে। জেনারেটর চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি নেই। পেট্রল পাম্পে বোতলে তেল না দেওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থাও সীমিত। সঙ্গে বেড়েছে লোডশেডিং।’

ঈদের পর এই সময়টিতে সাধারণত শ্রীমঙ্গলে শুরু হয় পর্যটন মৌসুম। বর্ষা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে চা-বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার কথা থাকলেও এবার দেখা যাচ্ছে তার ব্যতিক্রম।

‘এ সময়টিতে সাধারণত বাড়ে পর্যটকদের ভিড়। কিন্তু এবার অধিকাংশ রিসোর্টই ফাঁকা। এটি ব্যবসার জন্য বড় ধাক্কা,’ বলছিলেন রাধানগর ট্যুরিজম এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি তাপস দাশ।

বর্তমানে অধিকাংশ হোটেল-রিসোর্টে খালি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষ বলে জানালেন শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমেদ। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ নিয়েও তৈরি হয়েছে চাপ।

দ্রুত এই সংকটের সমাধান চান সংশ্লিষ্টরা। ছবি: আগামীর সময়

পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে সরকার

সংশ্লিষ্টরা মত দেন, জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু পর্যটন নয়, এই খাতের ওপর নির্ভরশীল হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও গাইডসহ হাজারো মানুষের জীবিকা পড়বে হুমকির মুখে। দেশ জুড়ে জ্বালানি রেশনিং, বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে, যা পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে ফেলছে নেতিবাচক প্রভাব। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পর্যটনশিল্পে পড়তে পারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব। এই খাত টিকিয়ে রাখতে স্বল্পমেয়াদি সহায়তার পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের দিকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান তাদের।

সিলেট জেলার বেশিরভাগ পর্যটনকেন্দ্র কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলায়। এই তিন উপজেলা নিয়ে সিলেট-৪ আসন। আসনটির সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আগামীর সময়কে জানান, ‘সিলেটের পর্যটনশিল্প এমনিতেই নানামুখী সমস্যায়। এর মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে জ্বালানি সংকট। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে সরকার। আশা দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে। এ ছাড়া অবকাঠামো উন্নয়ন ও পর্যটন খাত শক্তিশালী করতে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রকল্প। ভবিষ্যতে এ খাত ঘুরে দাঁড়াতে সহায়ক হবে।’

প্রতিবেদনটিতে তথ্য দিয়েছেন সিলেট অফিস, পটুয়াখালী, বান্দরবান ও মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

সিলেটশ্রীমঙ্গলপর্যটন খাতজ্বালানি সংকটবান্দরবানকুয়াকাটাধস
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    দুদিনের ঝড়-বৃষ্টিতে লন্ডভন্ড মৌলভীবাজার, বন্যার আশঙ্কা

    দুদিনের ঝড়-বৃষ্টিতে লন্ডভন্ড মৌলভীবাজার, বন্যার আশঙ্কা

    ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৫০

    ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ২৫ বিলিয়ন ডলার

    ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ২৫ বিলিয়ন ডলার

    ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৩৮

    লন্ডনের দুই উৎসবে প্রিয়াম অর্চি, সামনে ‘দেশলাই’

    লন্ডনের দুই উৎসবে প্রিয়াম অর্চি, সামনে ‘দেশলাই’

    ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ২২:২৮

    সিডিএ চেয়ারম্যান কোথায় ক্ষোভ মেয়রের

    সিডিএ চেয়ারম্যান কোথায় ক্ষোভ মেয়রের

    ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ২১:২৬

    অধিগ্রহণ খবরে ‘জেড’ ক্যাটাগরির আলিফ দর বৃদ্ধির শীর্ষে

    অধিগ্রহণ খবরে ‘জেড’ ক্যাটাগরির আলিফ দর বৃদ্ধির শীর্ষে

    ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৫৩

    অপেক্ষায় থাকা শিশু জানে না,  বাবা আর কখনোই ফিরবেন না

    অপেক্ষায় থাকা শিশু জানে না, বাবা আর কখনোই ফিরবেন না

    ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ২০:১২

    বুড়োদের মাথার ভেলকিতে উত্তপ্ত ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড

    বুড়োদের মাথার ভেলকিতে উত্তপ্ত ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড

    ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:২২

    রঘু রাই— সেই ঐশ্বরিক চোখ

    রঘু রাই— সেই ঐশ্বরিক চোখ

    ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৫৪

    বিশ্ব নৃত্য দিবসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজন

    বিশ্ব নৃত্য দিবসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজন

    ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:২৪

    স্বর্ণ লুটের অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক-ছাত্রদলের ৬ নেতা বহিষ্কার

    স্বর্ণ লুটের অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক-ছাত্রদলের ৬ নেতা বহিষ্কার

    ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ২২:১৭

    বন্ধুদের আড্ডায় মদপানে নিভে গেল কলেজছাত্রের প্রাণ

    বন্ধুদের আড্ডায় মদপানে নিভে গেল কলেজছাত্রের প্রাণ

    ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৪৯

    ‘এখানে পাহাড়ধস হয় না’

    ‘এখানে পাহাড়ধস হয় না’

    ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৩২

    বুথফেরত জরিপে কি হেরে যাচ্ছেন মমতা?

    বুথফেরত জরিপে কি হেরে যাচ্ছেন মমতা?

    ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৬

    দ্বিতীয় দফায় ৯২ শতাংশ ছাড়াল ভোটের হার

    দ্বিতীয় দফায় ৯২ শতাংশ ছাড়াল ভোটের হার

    ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ২২:১১

    বেকারত্ব থেকে উদ্যোক্তা: শাওনের অনন্য সাফল্য

    বেকারত্ব থেকে উদ্যোক্তা: শাওনের অনন্য সাফল্য

    ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৫৫

    advertiseadvertise

    প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

    সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

    আগামীর সময়
    আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলীগোপনীয়তাআমরা

    ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

    যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

    বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

    info@agamirsomoy.com

    স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

    • বেটা
    • সর্বশেষ
    • ইপেপার
    EN
    • বেটা
    • সর্বশেষ
    • জাতীয়
    • রাজনীতি
    • অর্থনীতি
    • সারা দেশ
    • বিশ্ব
    • খেলা
    • বিনোদন
    • লাইফস্টাইল
    • মতামত
    • ফিচার
    • ভিডিও
    • চট্টগ্রাম
    • শিক্ষা
    • বিচিত্রা
    • ইপেপার
    • EN