আশা বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর
আগামী গ্রীষ্মের মধ্যে ৩১ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদে বসবে সোলার প্যানেল

এবারের এক্সপোর প্রতিপাদ্য ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’। ফাইল ছবি
আগামী গ্রীষ্মের আগে দেশের ৩১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। পাশাপাশি সংসদের যাবতীয় কার্যক্রম সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেছেন।
দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যাপক প্রসার ও ব্যবহার ত্বরান্বিত করতে আজ থেকে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সোলার এক্সপো। আগামীকাল বুধবারও চলবে এই মেলা।
অনুষ্ঠানে দেওয়া শুভেচ্ছা বক্তব্যে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে সৌর বিদ্যুতের প্রসারে সরকার ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে। আমাদের লক্ষ্য সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে বিদ্যুতে স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো।
এ খাতে দেশী-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, এক্ষেত্রে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি, নীতি সহায়তাসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেবে সরকার।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি আমদানি ব্যয় দ্বিগুনেরও বেশি বেড়েছে বলে জানান অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার। তিনি বলেছেন, চলতি অর্থ বছর বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতে ৩৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্ধ রাখা হয়েছে বাজেটে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বছর শেষে এই ভর্তুকি ৭০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
অনুষ্ঠানে অর্থ সচিব জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমাতে এবং জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সবাইকে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
ভূরাজনীতি ও ভুলনীতির কারণে দেশে সৌরবিদ্যুতের প্রসার হয়নি বলে অভিযোগ করেন বিদ্যৎ সচিব মিরানা মাহরুখ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সৌর বিদ্যুতের প্রসারে খুবই আন্তরিক। সৌর বিদ্যুতে যন্ত্রাংশ আমদানি শুল্ক ৬২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশে নামানো হয়েছে। অগ্রীম আয়কর ও ভ্যাট বাতিল করা হয়েছে। এমন আরও নানান উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সৌর বিদ্যুতে উৎসাহিত করতে।
যার যার অবস্থান থেকে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বিদ্যুৎ সচিব বলেন, সারা দেশে যেসব অব্যবহৃত ছাদ আছে তার অর্ধেক ব্যবহার করা গেলেও অন্তত ৩৩ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করছে।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, নতুন প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও বিদ্যুৎ সংরক্ষণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে এতে। সরকারের আশা, সৌরবিদ্যুতের প্রসার আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং কিছুটা কমাতে সহায়তা করবে।
এবারের এক্সপোর প্রতিপাদ্য ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন। এরপর সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ খাতে প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সৌরবিদ্যুৎ খাতের সমাধান ও সেবা এক জায়গায় আনতে মেলায় থাকবে বিশেষায়িত প্রদর্শনী স্টল। সেখানে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তি ও উন্নত ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থাসহ আধুনিক সরঞ্জাম প্রদর্শিত হবে। প্রকল্প অর্থায়ন, সহজ শর্তে ঋণ ও কারিগরি সহায়তার বিষয়ে সেবা তুলে ধরবে দেশের শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রকল্প উন্নয়নকারী ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান।দুই দিনের এই আয়োজনে সৌরখাতের কৌশলগত উন্নয়ন, নীতিগত পরিবেশ ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে চারটি বিশেষায়িত সেমিনার হবে। এতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি সরবরাহকারী, বিনিয়োগকারী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা প্রধান আলোচক হিসেবে অংশ নেবেন। এ ছাড়া সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য থাকছে বিশেষ ওরিয়েন্টেশন পর্ব।বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে নেট মিটারিং ব্যবস্থায় উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট সাড়ে ১০ টাকায় কেনার বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদে নিজস্ব মূলধন ছাড়াই তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সৌরপ্যানেল বসানোর ‘ওপেক্স’ মডেলকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে বেসরকারি খাত উৎসাহ পাবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।



