খোঁজা হবে পাঁচ উত্তর
সেকশনে হবে নতুন রেল সংযোগ

ফাইল ছবি
মাগুরা থেকে ঝিনাইদহ হয়ে দর্শনা-পোড়াদহ সেকশনের সঙ্গে নতুন রেল সংযোগ করতে চায় সরকার। এজন্য খোঁজা হচ্ছে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর। এগুলো হলো, প্রকল্পটি প্রযুক্তিগতভাবে, অর্থনৈতিকভাবে, আর্থিকভাবে, পরিবেশগতভাবে এবং সামাজিকভাবে কতটা টেকসই হবে।
এসব উত্তর খুঁজতে এবং এর সঙ্গে অন্যান্য কার্যক্রম বাস্তবায়নে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অনুমোদন পেলে আগামী আগস্ট মাস থেকে শুরু হয়ে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শেষ করা লক্ষ্য নির্ধারণ করা হতে পারে। এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর আগামী সোমবার (২০ জুলাই) হতে যাচ্ছে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিতব্য সভায় সভাপতিত্ব করবেন ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া। সভায় প্রকল্পটি হাতে নেওয়ার যৌক্তিকতা জানতে চাওয়া হবে। সেই সঙ্গে মূল প্রকল্পটি নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ সে প্রশ্নও তোলা হবে।
এ বিষয়ে সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ আগামীর সময়কে বলেছেন, সম্ভাব্যতা সমীক্ষার উপরই নির্ভর করছে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ। অর্থাৎ এটির অর্থনৈতিক ও কারিগরিসহ সব বিষয় খতিয়ে দেখতে হবে সমীক্ষার মাধ্যমে। পাশাপাশি মূল প্রকল্পের ডিজাইন ও ব্যয় প্রাক্কলন যতটা নিখুঁত করা যাবে ততই ভালো হবে। এক কথায় বলা যায় আগামীতে প্রকল্পের সঠিক ও সফল বাস্তবায়নের ভিত তৈরি হবে এই সমীক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে। সুতরাং এটি একটি সেনসেটিভ কাজ। সর্বোচ্চ সতর্কতা ও গুরুত্ব দিয়েই করতে হবে কাজটি।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়ের লক্ষ্য— দেশের প্রতিটি জেলাকে সংযুক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ রেল নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পরিবহন পরিকাঠামোর উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা। এছাড়া রেল সেবা বাড়িয়ে দেশজুড়ে নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার চেষ্টা চলছে।
প্রস্তাবিত সমীক্ষা প্রকল্পের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছে রেলওয়ে। সংস্থাটি বলছে, প্রকল্পের জন্য বিস্তারিত টপোগ্রাফিক ও হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ পরিচালনা করা হবে। এছাড়া সম্ভাব্য তিনটি বিকল্প অ্যালাইনমেন্ট চিহ্নিত করা এবং প্রকল্পের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত অ্যালাইনমেন্টের সুপারিশ করা হবে। প্রাথমিক পরিবেশ পরীক্ষা প্রতিবেদন, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা এবং পরিবেশ পর্যবেক্ষণ পরিকল্পনা ইত্যাদি তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ভূমি অধিগ্রহণ এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। অ্যালাইনমেন্ট বরাবর, সেতুর স্থানে ভূগর্ভস্থ মাটি অনুসন্ধানসহ প্রকৌশল জরিপ, প্রধান সেতুগুলোর জন্য হাইড্রোলজিক্যাল ও মরফোলজিক্যাল জরিপ পরিচালনা করা হবে। এছাড়া সেতু, বাঁধ, রেললাইন, স্টেশন, সিগন্যালিং এবং অন্যান্য সব সুবিধাসহ অবকাঠামোর ধারণাগত প্রকৌশল নকশা এবং অঙ্কন তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ধারণাগত নকশা এবং অঙ্কনের ভিত্তিতে ব্যয়ের প্রাক্কলন এবং প্রয়োজনে ডিপিপির (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) সঙ্গে তা যাচাই করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে- টপোগ্রাফিক সার্ভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জরিপ পরিচালনা, সেতুগুলোর অবস্থান নির্বাচন, ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মর্ডেলিংয়ের মাধ্যমে ম্যাথমেথিক্যাল মডেল তৈরি এবং ট্রাফিক পূর্বাভাস দেওয়া হবে। এছাড়া অর্থনৈতিক ও আর্থিক কার্যকারিতা নিরূপণ, পরিবেশগত বিবেচনা, সামাজিক ও পুনর্বাসন সেবা এবং ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব তৈরি করা হবে। পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক জরিপ, বসতভিটা, গাছপালা, বন-জঙ্গলসহ ল্যান্ড প্রফাইলের ভিডিও রেকডিং করা হবে। একইসঙ্গে মূল প্রকল্পের ডিপিপিও তৈরি করা হবে। প্রকল্পটি প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এডিপিতে জিওবি অর্থায়নে অননুমোদিত প্রকল্পের তালিকায় যুক্ত রয়েছে।
পিইসি সভায় যেসব বিষয় আলোচনা হবে সেগুলো হলো-প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ের কোনো চলমান, বাস্তবায়িত প্রকল্পের মাধ্যমে রেললাইন, রেলপথ বিদ্যমান রয়েছে কিনা। বিদ্যমান থাকলে তার বর্তমান অবস্থা এবং এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে প্রকল্প এলাকার লোকজন কীভাবে উপকৃত হবে। প্রকল্পের অনুকূলে পরামর্শক সেবা (আইটি-ভ্যাটসহ) খাতে ১০ কোটি ৮ লাখ টাকার সংস্থান রয়েছে। এর বিস্তারিত জানতে চাওয়া হবে। প্রকল্পের অনুকূলে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি ভাড়া গাড়ি সংগ্রহের সংস্থান আছে। যে হারে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে এর যৌক্তিকতা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হবে। এছাড়া সম্ভাব্যতা সমীক্ষা রিপোর্ট যথাযথভাবে গ্রহণের জন্য একটি কারিগরি কমিটির ডিপিপিতে সংস্থান রাখা যেতে পারে। স্টাডির পর মূল প্রকল্প নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।






