সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া ব্যাংক কর্তা বরখাস্ত

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ইসলামী ব্যাংকের যে কর্মকর্তা সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেছিলেন, তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার করা অভিযোগের তালিকায় ছিল ব্যবসায়ী সাইফুল আলম ওরফেএস আলমের নামও।
ওই কর্মকর্তার নাম মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী। তিনি ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে গত মঙ্গলবার সাময়িক বরখাস্ত করার পাশাপাশি ট্রেনিং একাডেমিতে সংযুক্ত করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
যদিও সেদিন ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন খবরটিকে মিথ্যা বলেছিলেন। তবে গতকাল বুধবার ঘটনা স্বীকার করেন তিনি। বললেন, ‘শাখা পর্যায় থেকে দুদকে অভিযোগ করার সুযোগ নেই। ঋণের ক্ষেত্রে অনিয়ম হলে আদালতে যাওয়া হয়। আদালত প্রয়োজন মনে করলে অধিকতর তদন্তের জন্য দুদকে পাঠান। এ ছাড়া দুদকের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য আলাদা বিভাগ আছে।’
মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন বললেন, ‘শাখার কর্মকর্তা কেন দুদকে অভিযোগ জমা দিলেন, তা পরিষ্কার নয়। বিভাগীয় তদন্তের জন্য তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’
ইসলামী ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, এস আলমসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের জন্য গত ২৯ জুলাই দুদকে অভিযোগ জমা দেন ইয়াসীন আলী। এর পাঁচ দিন আগেই পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। যদিও অভিযোগে তার সাবেক রাষ্ট্রপতি পরিচয় নয় বরং ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়। জে এম সি বিল্ডার্স লিমিটেডের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক ও পরে ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী তিনি ব্যাংকের পরিচালকের পদ ছেড়ে দেন। সে হিসেবে ২০১৭ সালের ৮ জুন থেকে ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি ব্যাংকটির পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।
ইসলামী ব্যাংকের নথি অনুযায়ী, দুদকে অভিযোগ দেওয়ার জন্য মোহাম্মদ ইয়াসীন আলীকে লিখিতভাবেই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। ২৭ জুলাই ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখা থেকে দেওয়া ক্ষমতাপত্রে বলা হয়, ‘ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড, গ্যালাক্সি সোয়েটার ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ করবেন ইয়াসীন।’ সক্ষমতাপত্রে অভিযোগের বিষয়টি পরিচালনার দায়িত্বও ইয়াসীনকে দেওয়া হয়। এরপরই তিনি মো. সাহাবুদ্দিনসহ অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন। সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে জমা পড়া অভিযোগটির বিষয়ে গতকাল সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন দুদক সচিব সাইদুর রহমান খানের কাছে। তিনি বললেন, দুদকে এখন কোনো কমিশন নেই। নতুন কমিশন গঠিত হলে মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাইদুর রহমান খান আরও বললেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ কমিশনের মাধ্যমেই গ্রহণ করা হয়ে থাকে। আমরা আশা করছি, শিগগির নতুন কমিশন গঠিত হবে। এরপর অভিযোগটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




